অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উক্তি : যখন তোমরা চাঁদ দেখ তখন সওম আরম্ভ কর আবার যখন চাঁদ দেখ তখনই ইফতার বন্ধ কর। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৯১১):
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সাথে ঈলা করলেন। এ সময় তাঁর পা মচকে গিয়েছিল। তখন তিনি উপরের কামরায় ঊনত্রিশ রাত অবস্থান করেন। এরপর তিনি নেমে আসলে সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো এক মাসের জন্য ঈলা করেছিলেন। তিনি বললেনঃ মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: ঈদের দুই মাস কম হয় না। |
বর্ণনাকারী: আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকরা
হাদিস নং (১৯১২):
আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকরা হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু’টি মাস কম হয় না। তা হল ঈদের দু’মাস- রমাযানের মাস ও যুলহাজ্জের মাস। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেছেন, আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহ.) বলেন, রমাযান ঘাটতি হলে যুলহাজ্জ পূর্ণ হবে। আর যুলহাজ্জ ঘাটটি হলে রমাযান পূর্ণ হবে। আবুল হাসান (রহ.) বলেন, ইসহাক ইবনু রাহওয়াই (রহ.) বলেন, ফাযীলতের দিক হতে এ দু’ মাসে কোন ঘাটতি নেই, মাস ঊনত্রিশ দিনে হোক বা ত্রিশ দিনে হোক।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীঃ আমরা লিপিবদ্ধ করি না এবং হিসাবও করি না। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (১৯১৩):
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমরা উম্মী জাতি। আমরা লিখি না এবং হিসাবও করি না। মাস এরূপ অর্থাৎ কখনও ঊনত্রিশ দিনের আবার কখনো ত্রিশ দিনের হয়ে থাকে।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: রমাযানের একদিন বা দু’দিন পূর্বে সওম আরম্ভ করবে না। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (১৯১৪):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কেউ রমাযানের একদিন কিংবা দু’দিন আগে হতে সওম শুরু করবে না। তবে কেউ যদি এ সময় সিয়াম পালনে অভ্যস্ত থাকে তাহলে সে সেদিন সওম পালন করতে পারবে।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ |
বর্ণনাকারী: বারা’ (রাঃ)
হাদিস নং (১৯১৫):
বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবীগণের অবস্থা এই ছিল যে, যদি তাঁদের কেউ সওম পালন করতেন তাহলে ইফ্তারের সময় হলে ইফ্তার না করে নিদ্রা গেলে সে রাত্রে এবং পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুই খেতেন না। কায়স ইবনু সিরমা আনসারী (রাঃ) সওম করেছিলেন। ইফ্তারের সময় তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কিছু খাবার আছে কি? তিনি বললেন, না, তবে আমি যাচ্ছি, দেখি আপনার জন্য কিছু খোঁজ করে আনি। তিনি দিনে কাজে নিয়োজিত থাকতেন। তাই ঘুমে তাঁর দু’চোখ বুজে গেল। এরপর তাঁর স্ত্রী এসে যখন তাঁকে দেখলেন, তখন তাঁকে বললেন, হায়, তুমি বঞ্চিত হয়ে গেলে! পরদিন দুপুর হলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। এ ঘটনাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উল্লেখ করা হলে কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়- ‘‘সিয়ামের রাতে তোমাদের স্ত্রী সম্ভোগ হালাল করা হয়েছে’’- (আল-বাকারাহ্ঃ ১৮৭)। এর হুকুম সম্বন্ধে অবহিত হয়ে সাহাবীগণ খুবই খুশি হলেন। এরপর নাযিল হলঃ ‘‘আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা পরিষ্কার দেখা যায়’’- (আল-বাকারাহ্ঃ ১৮৭)।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ |
বর্ণনাকারী: আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)
হাদিস নং (১৯১৬):
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হলোঃ
(حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمْ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنْ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ)
‘‘তোমরা পানাহার কর (রাত্রির) কাল রেখা হতে (ভোরের) সাদা রেখা যতক্ষণ স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়’’ তখন আমি একটি কাল এবং একটি সাদা রশি নিলাম এবং উভয়টিকে আমার বালিশের নিচে রেখে দিলাম। রাতে আমি এগুলোর দিকে বারবার তাকাতে থাকি। কিন্তু আমার নিকট পার্থক্য প্রকাশিত হলো না। তাই সকালেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গিয়ে এ বিষয় বললাম। তিনি বললেনঃ এতো রাতের আধার এবং দিনের আলো।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ |
বর্ণনাকারী: সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ)
হাদিস নং (১৯১৭):
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হলঃ‘‘তোমরা পানাহার কর, যতক্ষণ কাল রেখা হতে সাদা রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়।’’ কিন্তু তখনো (مِنْ الْفَجْرِ) কথাটি নাযিল হয়নি। তখন সওম পালন করতে ইচ্ছুক লোকেরা নিজেদের দুই পায়ে একটি কাল এবং একটি সাদা সুতলি বেঁধে নিতেন এবং সাদা কাল এই দু’টির মধ্যে পার্থক্য না দেখা পর্যন্ত তাঁরা পানাহার করতে থাকতেন। এরপর আল্লাহ তা‘আলা-(مِنْ الْفَجْرِ) -ধ্বত্র শব্দটি নাযিল করলে সকলেই বুঝতে পারলেন যে, এ দ্বারা উদ্দেশ্য হল রাত (-এর আধার) এবং দিন (-এর আলো)।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীঃ বিলালের আযান তোমাদের সাহরী হতে যেন বিরত না রাখে। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাযি.)
হাদিস নং (১৯১৮):
আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) রাতে আযান দিতেন। তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ইবনু উম্মু মাকতূম (রাঃ) আযান না দেয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার কর। কেননা ফজর না হওয়া পর্যন্ত সে আযান দেয় না।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীঃ বিলালের আযান তোমাদের সাহরী হতে যেন বিরত না রাখে। |
বর্ণনাকারী: কাসিম (রহ.)
হাদিস নং (১৯১৯):
কাসিম (রহ.) বলেন, এদের উভয়ের আযানের মাঝে শুধু এতটুকু ব্যবধান ছিল যে, একজন নামতেন এবং অন্যজন উঠতেন।
|
অধ্যায়: সাওম/রোযা |
উপ-অধ্যায়: (সময়ের) শেষভাগে সাহরী খাওয়া। |
বর্ণনাকারী: সাহল ইবনু ‘সাদ (রাঃ)
হাদিস নং (১৯২০):
সাহল ইবনু ‘সাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পরিবার-পরিজনের মাঝে সাহরী খেতাম। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সালাতে অংশ গ্রহণ করার জন্য জলদি করতাম।
|