তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

ফিল্টার
মোট: ৩৫০০
পৃষ্ঠা ১৮৮ / ৩৫০
মদীনার ফাযীলাত মদীনার ফযীলত। মদীনাহ (অবাঞ্ছিত) লোকজনকে বহিষ্কার করে দেয়। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
১৮৭১ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি এমন এক জনপদে হিজরত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যে জনপদ অন্য সকল জনপদের উপর জয়ী হবে। লোকেরা তাকে ইয়াসরিব বলে থাকে। এ হল মদিনা। তা অবাঞ্ছিত লোকদেরকে এমনভাবে বহিষ্কার করে দেয়, যেমনভাবে কামারের অগ্নিচুলা লোহার মরিচা দূর করে দেয়।
মদীনার ফাযীলাত মদীনার অন্য নাম ত্বাবাহ্। আবূ হুমাইদ (রাঃ)
১৮৭২ হাদিস নং
আবূ হুমাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমরা তাবূক যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তন করে মাদ্বীনার নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছলে, তিনি বললেনঃ (মদিনা্) হল ত্বাবাহ।
মদীনার ফাযীলাত মদীনার কংকরময় দু’টি এলাকা। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
১৮৭৩ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলতেন, আমি যদি মাদ্বীনাতে কোন হরিণকে বেড়াতে দেখি তাহলে তাকে আমি তাড়াব না। (কেননা) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাদ্বীনার প্রস্তরময় পাহাড়ের দুই এলাকার মধ্যবর্তী এলাকা হল হারাম বা সম্মানিত স্থান।
মদীনার ফাযীলাত যে ব্যক্তি মদীনাহ হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
১৮৭৪ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, তোমরা উত্তম অবস্থায় মদিনাকে রেখে যাবে। আর জীবিকা অন্বেষণে বিচরণকারী অর্থাৎ পশু-পাখি ছাড়া আর কেউ একে আচ্ছন্ন করে নিতে পারবে না। সবশেষে যাদের মদিনা্তে একত্রিত করা হবে তারা হল মুযায়না গোত্রের দু’জন রাখাল। তারা তাদের বকরীগুলোকে হাঁক-ডাক দিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশেই মদিনাতে আসবে। এসে দেখবে মদিনা বন্য পশুতে ছেয়ে আছে। এরপর তারা সানিয়্যাতুল-বিদা নামক স্থানে পৌঁছতেই মুখ থুবড়ে পড়ে যাবে।
মদীনার ফাযীলাত যে ব্যক্তি মদীনাহ হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়। সুফইয়ান ইবনু আবূ যুহায়র (রাঃ)
১৮৭৫ হাদিস নং
সুফইয়ান ইবনু আবূ যুহায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ইয়ামান বিজিত হবে, তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী তাড়িয়ে এসে স্বীয় পরিবার-পরিজন এবং অনুগত লোকদেরকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে। অথচ মদিনা তাদের জন্য উত্তম ছিল, যদি তারা বুঝত। সিরিয়া বিজিত হবে, তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী তাড়িয়ে এসে স্বীয় পরিবার-পরিজন এবং অনুগত লোকদেরকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে; অথচ মাদ্বীনাই ছিল তাদের জন্য মঙ্গলজনক, যদি তারা জানত। এরপর ইরাক বিজিত হবে তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী তাড়িয়ে এসে স্বজন এবং অনুগতদেরকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে; অথচ মাদ্বীনাই তাদের জন্য ছিল মঙ্গলজনক, যদি তারা জানত।
মদীনার ফাযীলাত ঈমান মদীনাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
১৮৭৬ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমান মদিনাতে ফিরে আসবে যেমন সাপ তার গর্তে ফিরে আসে।
মদীনার ফাযীলাত মদীনাহবাসীদের সাথে চক্রান্তকারীর গুনাহ। সা‘দ (রাঃ)
১৮৭৭ হাদিস নং
সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে কেউ মাদ্বীনাবাসীর সাথে ষড়যন্ত্র বা প্রতারণা করবে, সে লবণ যেভাবে পানিতে গলে যায়, সেভাবে গলে যাবে।
মদীনার ফাযীলাত মদীনাহর পাথরের তৈরী দূর্গসমূহ। উসামা (রাঃ)
১৮৭৮ হাদিস নং
উসামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার কোন একটি পাথর নির্মিত গৃহের উপর আরোহণ করে বললেনঃ আমি যা দেখি তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ? (তিনি বললেন) বৃষ্টি বিন্দু পতিত হওয়ার স্থানসমূহের মত আমি তোমাদের গৃহসমূহের মাঝে ফিতনার স্থানসমূহ দেখতে পাচ্ছি। মা’মার এবং সুলাইমান বিন কাসীর উক্ত হাদীস যুহরী থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে সুফইয়ানকে অনুসরণ করেছেন।
মদীনার ফাযীলাত দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না। আবূ বকরাহ (রাঃ)
১৮৭৯ হাদিস নং
আবূ বকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মদিনাতে দাজ্জালের ত্রাস ও ভীতি প্রবেশ করতে পারবে না। ঐ সময় মদিনার সাতটি প্রবেশ পথ থাকবে। প্রত্যেক পথে দু’জন করে ফেরেশতা (মোতায়েন) থাকবে।
মদীনার ফাযীলাত দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
১৮৮০ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদিনার প্রবেশ পথসমূহে ফেরেশ্তা পাহারায় নিয়োজিত আছে। তাই প্লেগ রোগ এবং দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না।