অধ্যায়: ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা |
উপ-অধ্যায়: জুতা না থাকলে মুহরিম ব্যক্তির মোজা পরিধান করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৮৪১):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মুহরিমদের উদ্দেশে ‘আরাফাতে ভাষণ দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ যার চপ্পল নেই সে মোজা পরিধান করবে আর যার লুঙ্গি নেই সে পায়জামা পরিধান করবে।
|
অধ্যায়: ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা |
উপ-অধ্যায়: জুতা না থাকলে মুহরিম ব্যক্তির মোজা পরিধান করা। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ (রাঃ)
হাদিস নং (১৮৪২):
আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মুহরিম ব্যক্তি কোন্ কাপড় পরিধান করবে এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ি, পায়জামা, টুপী এবং জাফরান কিংবা ওয়ারস্ দ্বারা রঞ্জিত কাপড় ব্যবহার করতে পারবে না। যদি তার জুতা না থাকে তা হলে মোজা পরবে, তবে মোজা দু’টি পায়ের গিরার নিচ হতে কেটে নিবে।
|
অধ্যায়: ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা |
উপ-অধ্যায়: লুঙ্গি না পেলে (মুহরিম ব্যক্তি) ইযার বা পায়জামা পরবে। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৮৪৩):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আরাফার ময়দানে আমাদেরকে লক্ষ্য করে তাঁর ভাষণে বললেনঃ (মুহরিম অবস্থায়) যার লুঙ্গি নেই সে যেন পায়জামা পরিধান করে এবং যার জুতা নেই সে যেন মোজা পরিধান করে।
|
অধ্যায়: ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা |
উপ-অধ্যায়: মুহরিম ব্যক্তির অস্ত্র ধারণ করা। |
বর্ণনাকারী: বারা‘ (রাঃ)
হাদিস নং (১৮৪৪):
বারা‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-কা‘দা মাসে ‘উমরাহ আদায় করার নিয়তে রওয়ানা হলে মক্কাবাসী লোকেরা তাঁকে মক্কা প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অবশেষে তিনি তাদের সাথে এই শর্তে চুক্তি করেন যে, সশস্ত্র অবস্থায় নয় বরং তলোয়ার কোষবদ্ধ অবস্থায় তিনি মক্কা প্রবেশ করবেন।
|
অধ্যায়: ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা |
উপ-অধ্যায়: হারাম ও মক্কাহয় ইহরাম ছাড়া প্রবেশ করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৮৪৫):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্বাসীদের জন্য ‘যুল-হুলাইফা, নাজদবাসীদের জন্য ‘কারনুল মানাযিল’ এবং ইয়ামানবাসীদের জন্য ‘ইয়ালামলাম’ নামক জায়গাকে ইহরামের জন্য মীকাত নির্ধারণ করেছেন। এ জায়গাগুলোর অধিবাসীদের জন্য এবং হাজ্জ ও ‘উমরাহ্’র নিয়্যাত করে বাইরে হতে আগত যাত্রী, যারা এ জায়গা দিয়ে অতিক্রম করবে, তাদের জন্য এ স্থানগুলো মীকাত হিসেবে গণ্য হবে। আর মীকাতের ভেতরে অবস্থানকারী লোকদের জন্য তারা যেখান হতে যাত্রা করবে সেটাই তাদের ইহরাম বাঁধার জায়গা। এমনকি মক্কাবাসী লোকেরা মক্কা হতেই ইহরাম বাঁধবে।
|
অধ্যায়: ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা |
উপ-অধ্যায়: হারাম ও মক্কাহয় ইহরাম ছাড়া প্রবেশ করা। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (১৮৪৬):
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় (মক্কা) প্রবেশ করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিরস্ত্রাণটি মাথা হতে খোলার পর এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বললেন, ইবনু খাতাল কা‘বার গিলাফ ধরে আছে। তিনি বললেনঃ তাকে তোমরা হত্যা কর।
|
অধ্যায়: ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা |
উপ-অধ্যায়: অজ্ঞতাবশতঃ যদি কেউ জামা পরিধান করে ইহরাম বাঁধে। |
বর্ণনাকারী: সফওয়ান ইবনু ইয়া‘লা (রহ.)
হাদিস নং (১৮৪৭):
সফওয়ান ইবনু ইয়া‘লা (রহ.) তাঁর পিতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। এমতাবস্থায় হলুদ বা অনুরূপ রঙ্গের চিহ্ন বিশিষ্ট জামা পরিহিত এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসলেন। আর ‘উমার (রাঃ) আমাকে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি যখন ওয়াহী নাযিল হয় সে মুহূর্তে তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও? এরপর (ঐ সময়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি ওয়াহী নাযিল হল। অতঃপর এ অবস্থার পরিবর্তন হলে তিনি (প্রশ্নকারীকে) বললেনঃ হাজ্জে তুমি যা কর ‘উমরাতেও তাই কর।
|
অধ্যায়: ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা |
উপ-অধ্যায়: অজ্ঞতাবশতঃ যদি কেউ জামা পরিধান করে ইহরাম বাঁধে। |
বর্ণনাকারী: পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদিস নং (১৮৪৮):
এক ব্যক্তি অন্য একজনের হাত কামড়িয়ে ধরলে তার সামনের দু’টি দাঁত উৎপাটিত হয়ে যায়, এ সংক্রান্ত নালিশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাতিল করে দেন।
|
অধ্যায়: ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা |
উপ-অধ্যায়: কোন মুহরিম ব্যক্তি আরাফাতে মারা গেলে তার পক্ষ হতে হজ্জের বাকী রুক্নগুলো আদায় করতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দেননি। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৮৪৯):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ‘আরাফাত ময়দানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে উকূফ (অবস্থান) করছিলেন। হঠাৎ তিনি তাঁর সওয়ারী হতে পড়ে যান এবং তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে যায় অথবা সাওয়ারীটি তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে দেয়। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে কুলগাছের পাতা দিয়ে সিদ্ধ পানি দ্বারা গোসল করাও এবং দুই কাপড়ে অথবা বলেন তার পরিধেয় দু’টি কাপড়ে কাফন দাও। তবে তার মাথা ঢেকে দিও না এবং হানূত নামক সুগন্ধিও ব্যবহার কর না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাকে কিয়ামতের দিনে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠাবেন।
|
অধ্যায়: ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা |
উপ-অধ্যায়: কোন মুহরিম ব্যক্তি আরাফাতে মারা গেলে তার পক্ষ হতে হজ্জের বাকী রুক্নগুলো আদায় করতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দেননি। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৮৫০):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ‘আরাফাতের মাঠে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে অবস্থান করছিলেন, অকস্মাৎ তিনি তাঁর সওয়ারী হতে পড়ে গেলে তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে যায় অথবা সওয়ারীটি তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে দেয়। (ফলে তিনি মারা যান)। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাকে কুলগাছের পাতা দিয়ে সিদ্ধ পানি দ্বারা গোসল করাও এবং দুই কাপড়ে কাফন দাও। তবে তার শরীরে সুগন্ধি মাখাবে না আর তার মাথা ঢাকবে না এবং হানূতও লাগাবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাকে কিয়ামতের ময়দানে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠাবেন।
|