অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: বাধাপ্রাপ্ত হলে মাথা মুন্ডনের পূর্বে কুরবানী করা। |
বর্ণনাকারী: মিসওয়ার (রাঃ)
হাদিস নং (১৮১১):
মিসওয়ার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা কামানোর আগেই কুরবানী করেন এবং সাহাবাদের অনুরূপ করার নির্দেশ দেন।
|
অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: বাধাপ্রাপ্ত হলে মাথা মুন্ডনের পূর্বে কুরবানী করা। |
বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহ.)
হাদিস নং (১৮১২):
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আবদুল্লাহ এবং সালিম (রহ.) উভয়ই ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ‘উমরাহ্’র নিয়ত করে আমরা রওয়ানা হলে যখন কুরায়শের কাফিররা বাইতুল্লাহর অনতিদূরে বাধা হয়ে দাঁড়ায়,তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উট কুরবানী করেন এবং মাথা কামিয়ে ফেলেন।
|
অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: যারা বলেন, বাধাপ্রাপ্ত ব্যক্তির উপর কাযা আবশ্যক নয়। |
বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহ.)
হাদিস নং (১৮১৩):
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, (মক্কা মুকার্রামায়) গোলযোগ চলাকালে ‘উমরাহ্’র নিয়ত করে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) যখন মক্কার দিকে রওয়ানা হলেন, তখন বললেন, বাইতুল্লাহ হতে যদি আমি বাধাপ্রাপ্ত হই তাহলে তাই করব যা করেছিলাম আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে। তাই তিনি ‘উমরাহ্’র ইহরাম বাঁধলেন। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও হুদাইবিয়ার বছর ‘উমরাহ্’র ইহরাম বেঁধেছিলেন। অতঃপর ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) নিজের ব্যাপারে ভেবে চিন্তে বললেন, উভয়টিই (হাজ্জ ও ‘উমরা) এক রকম। এরপর তিনি তাঁর সাথীদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, উভয়টি তো একই রকম। আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, আমি আমার উপর ‘উমরাহ্’র সাথে হাজ্জকে ওয়াজিব করে নিলাম। তিনি উভয়টির জন্য একই তাওয়াফ করলেন এবং এটাই তাঁর পক্ষ হতে যথেষ্ট মনে করেন, আর তিনি কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়েছিলেন।
|
অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ |
বর্ণনাকারী: কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ)
হাদিস নং (১৮১৪):
কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বোধ হয় তোমার এই পোকাগুলো (উকুন) তোমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বললেন, হাঁ, ইয়া আল্লাহর রাসূল! এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি মাথা মুন্ডন করে ফেল এবং তিন দিন সিয়াম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনকে আহার করাও কিংবা একটা বকরী কুরবানী কর।
|
অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘অথবা সদাকাহ’’ (আল-বাকারাহঃ ১৯৬) |
বর্ণনাকারী: কা‘ব ইবনু ‘উজরা (রাঃ)
হাদিস নং (১৮১৫):
কা‘ব ইবনু ‘উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট দন্ডায়মান হলেন। এ সময় আমার মাথা হতে উকুন ঝরে পড়ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার এই পোকাগুলো (উকুন) কি তোমাকে যন্ত্রণা দিচ্ছে? আমি বললাম, হাঁ, তিনি বললেনঃ মাথা মুন্ডন করে ফেল অথবা বললেন, মুন্ডন করে ফেল। কা‘ব ইবনু ‘উজরা (রাঃ) বলেন, আমার সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে এই আয়াতটিঃ ‘‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি রোগাক্রান্ত হয় কিংবা মাথায় কষ্টকর কিছু হয়ে থাকে...’’- (আল-বাকারাহঃ ১৯৬)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তিনদিন সওম পালন কর কিংবা এক ফারাক (তিন সা‘ পরিমাণ) ছয়জন মিসকীনের মধ্যে সাদাকা কর অথবা কুরবানী কর যা তোমার জন্য সহজসাধ্য।
|
অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: ফিদয়ার দেয় খাদ্যের পরিমাণ অর্ধ সা‘। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু মা‘কিল (রহ.)
হাদিস নং (১৮১৬):
‘আবদুল্লাহ ইবনু মা‘কিল (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কা‘ব ইবনু ‘উজরা (রাঃ)-এর পাশে বসে তাঁকে ফিদ্য়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এ আয়াত বিশেষভাবে আমার সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে। তবে এ হুকুম সাধারণভাবে তোমাদের সকলের জন্যই। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আমাকে নিয়ে যাওয়া হল। তখন আমার চেহারায় উকুন বেয়ে পড়ছে। তিনি বললেনঃ তোমার কষ্ট বা পীড়া যে পর্যায়ে পৌঁছেছে দেখতে পাচ্ছি, আমার তো আগে এ ধারণা ছিল না। তুমি কি একটি বকরীর ব্যবস্থা করতে পারবে? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি তিন দিন সিয়াম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনকে অর্ধ সা‘ করে খাওয়াও।
|
অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: নুসূক হলো একটি বকরী কুরবানী করা। |
বর্ণনাকারী: কা‘ব ইবনু ‘উজরা (রাঃ)
হাদিস নং (১৮১৭):
কা‘ব ইবনু ‘উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চেহারায় উকুন ঝরে পড়তে দেখে তাঁকে বললেনঃ এই কীটগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বললেন, হাঁ। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে মাথা কামিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। এ সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ায় ছিলেন। এখানেই তাঁদের হালাল হয়ে যেতে হবে এ বিষয়টি তখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট হয়নি। তাঁরা মক্কায় প্রবেশের আশা করছিলেন।তখন আল্লাহ তা‘আলা ফিদয়ার হুকুম নাযিল করলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এক ফারাক খাদ্যশস্য ছয়জন মিসকীনের মধ্যে দিতে কিংবা একটি বকরী কুরবানী করতে অথবা তিন দিন সিয়াম পালনের নির্দেশ দিলেন।
|
অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: নুসূক হলো একটি বকরী কুরবানী করা। |
বর্ণনাকারী: কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ)
হাদিস নং (১৮১৮):
কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এমতাবস্থায় দেখলেন যে, তাঁর চেহারার উপর উকুন পড়ছে। এর বাকি অংশ উপরের হাদীসের মত।
|
অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘( হজ্জের সময়) স্ত্রী সহবাস নেই’। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (১৮১৯):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এ ঘরের হাজ্জ আদায় করল এবং স্ত্রী সহবাস করল না এবং অন্যায় আচরণ করল না, সে প্রত্যাবর্তন করবে মাতৃগর্ভ হতে সদ্য প্রসূত শিশুর মত হয়ে।
|
অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ হজ্জের সময়ে অশ্লীল আচরণ ও ঝগড়া-বিবাদ নেই। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (১৮২০):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এ ঘরের (বাইতুল্লাহর) হাজ্জ আদায় করল, অশ্লীলতায় জড়িত হল না এবং আল্লাহর অবাধ্যতা করল না, সে মায়ের পেট হতে সদ্য প্রসূত শিশুর ন্যায় (হাজ্জ হতে) প্রত্যাবর্তন করল।
|