অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: শহরে পৌঁছে রাত্রিকালে পরিজনের নিকটে প্রবেশ করবে না। |
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
হাদিস নং (১৮০১):
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা পরিবারের কাছে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন।
|
অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি মদিনায় (নিজস্ব শহরে) পৌঁছে তার উটনী (সওয়ারী) দ্রুত চালায় |
বর্ণনাকারী: হুমাইদ (রাঃ)
হাদিস নং (১৮০২):
হুমাইদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর হতে ফিরে যখন মদিনার উঁচু রাস্তাগুলো দেখতেন তখন তিনি তাঁর উটনী দ্রুতগতিতে চালাতেন আর বাহন অন্য জানোয়ার হলে তিনি তাকে তাড়া দিতেন।
অপর একটি বর্ণনায় হুমাইদ আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,دَرَجَاتِ (উঁচু রাস্তা)-এর পরিবর্তে جُدُرَاتِ (দেয়ালগুলো) শব্দ বলেছেন। হারিস ইবনু ‘উমাইর (রহ.) ইসমা‘ঈল (রহ.)-এর অনুরূপ বর্ণনা করেন।
|
অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা গৃহসমূহে তার দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশ কর। (আল-বাকারাহ ২ : ১৮৯) |
বর্ণনাকারী: আবূ ইসহাক (রহ.)
হাদিস নং (১৮০৩):
আবূ ইসহাক (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বারা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, এ আয়াতটি আমাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল। হাজ্জ করে এসে আনসারগণ তাদের বাড়িতে সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেন। এক আনসার ফিরে এসে তার বাড়ির সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে তাকে এ জন্য লজ্জা দেয়া হয়। তখনই নাযিল হয়ঃ ‘‘পশ্চাৎ দিক দিয়ে তোমাদের গৃহ-প্রবেশ করাতে কোন কল্যাণ নেই। বরং কল্যাণ আছে যে তাকওয়া অবলম্বন করে। সুতরাং তোমরা (সামনের) দরজা দিয়ে গৃহে প্রবেশ কর’’- (আল-বাকারাঃ ১৮৯)।
|
অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: সফর ‘আযাবের একটি অংশ বিশেষ। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (১৮০৪):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সফর ‘আযাবের অংশ বিশেষ। তা তোমাদের যথাসময় পানাহার ও নিদ্রায় ব্যঘাত ঘটায়। কাজেই সকলেই যেন নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অবিলম্বে আপন পরিজনের কাছে ফিরে যায়।
|
অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: মুসাফিরের সফর সফর যদি অসহনীয় হয়ে পড়ে সে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসবে। |
বর্ণনাকারী: আসলাম (রহ.)
হাদিস নং (১৮০৫):
আসলাম (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কার রাস্তায় আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। সাফিয়্যা বিনতু আবূ ‘উবায়দ (রাঃ)-এর মারাত্নক অসুস্থ হওয়ার খবর তাঁর নিকট পৌঁছল। তখন তিনি গতি বৃদ্ধি করলেন। (পশ্চিম আকাশের) লালিমা চলে যাবার পর সাওয়ারী হতে অবতরণ করে মাগরিব ও ‘ইশা একত্রে আদায় করেন। অতঃপর বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, সফরে তাড়াতাড়ি চলার দরকার হলে তিনি মাগরিবকে দেরি করে মাগরিব ও ‘ইশা একত্রে আদায় করতেন।
|
অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: উমরাহ আদায়কারী ব্যক্তি যদি পথে আটকে পড়েন। |
বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহ.)
হাদিস নং (১৮০৬):
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, হাঙ্গামা চলাকালে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) ‘উমরাহ’র নিয়্যাত করে মক্কায় রওয়ানা হবার পর বললেন, বাইতুল্লাহর পথে বাধাগ্রস্ত হলে, তাই করব যা করেছিলাম আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে। তাই তিনি ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলেন। কেননা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও হুদাইবিয়ার বছর ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধেছিলেন।
|
অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: উমরাহ আদায়কারী ব্যক্তি যদি পথে আটকে পড়েন। |
বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)
হাদিস নং (১৮০৭):
নাফি‘ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ও সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) উভয়ই তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, যে বছর হাজ্জাজ (ইবনু ইউসুফ) বাহিনী ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, সে সময়ে তাঁরা উভয়ে কয়েকদিন পর্যন্ত ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে বুঝালেন। তাঁরা বললেন, এ বছর হাজ্জ না করলে আপনার কোন ক্ষতি হবে না। আমরা আশঙ্কা করছি, আপনার ও বাইতুল্লাহর মাঝে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বললেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রওয়ানা হয়েছিলাম। কিন্তু বাইতুল্লাহর পথে কাফির কুরাইশরা আমাদের বাধা হয়ে দাঁড়াল। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর পশু যবেহ করে মাথা মুড়িয়ে নিয়েছিলেন। এখন আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আমার নিজের জন্য ‘উমরাহ ওয়াজিব করে নিয়েছি। আল্লাহ চাহেন তো আমি এখন রওয়ানা হয়ে যাব। যদি আমার এবং বাইতুল্লাহর মাঝে বাধা না আসে তাহলে আমি তাওয়াফ করে নিব। কিন্তু যদি আমার ও বাইতুল্লাহর মাঝে বাধা সৃষ্টি করা হয় তাহলে আমি তখনই সেরূপ করব যেরূপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন আর আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। অতঃপর তিনি যুল-হুলাইফা হতে ‘উমরাহ্’র ইহরাম বেঁধে কিছুক্ষণ চললেন, এরপরে বললেন, হাজ্জ এবং ‘উমরাহ্’র ব্যাপার তো একই। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, নিশ্চয়ই আমি আমার ‘উমরাহ্’র সাথে হাজ্জও নিজের জন্য ওয়াজিব করে নিলাম। তাই তিনি হাজ্জ ও ‘উমরাহ কোনটি হতেই হালাল হননি। অবশেষে কুরবানীর দিন কুরবানী করলেন এবং হালাল হলেন। তিনি বলতেন, আমরা হালাল হব না যতক্ষণ পর্যন্ত না মক্কায় প্রবেশ করে একটি তাওয়াফ করে নিই।
|
অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: উমরাহ আদায়কারী ব্যক্তি যদি পথে আটকে পড়েন। |
বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহ.)
হাদিস নং (১৮০৮):
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর কোন এক ছেলে তাঁর পিতাকে বললেন, যদি আপনি এ বছর বাড়িতে অবস্থান করতেন (তাহলে আপনার জন্য কতই না কল্যাণকর হত)!
|
অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: উমরাহ আদায়কারী ব্যক্তি যদি পথে আটকে পড়েন। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৮০৯):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হুদাইবিয়াতে) বাধাপ্রাপ্ত হন। তাই তিনি মাথা কামিয়ে নেন। স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হন এবং প্রেরিত জানোয়ার কুরবানী করেন। অবশেষে পরবর্তী বছর ‘উমরাহ আদায় করেন।
|
অধ্যায়: পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান |
উপ-অধ্যায়: হজ্জে বাধাগ্রস্ত হওয়া। |
বর্ণনাকারী: সালিম (রহ.)
হাদিস নং (১৮১০):
সালিম (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাতই কি তোমাদের পক্ষে যথেষ্ট নয়? তোমাদের কেউ যদি হাজ্জ আদা করতে বাধাগ্রস্ত হয় সে যেন (‘উমরাহ্’র জন্য) বাইতুল্লাহর ও সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করে সমস্ত কিছু হতে হালাল হয়ে যায়। অবশেষে পরবর্তী বৎসর হাজ্জ আদায় করে নেয়। তখন সে কুরবানী করবে আর কুরবানী দিতে যদি না পারে তবে সিয়াম পালন করবে। ‘আবদুল্লাহ (রহ.)....ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
|