অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: ‘উমরাহ আদায়কারী কখন হালাল হবে (ইহরাম খুলবে)? |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৯১):
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমরাহ করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে ‘উমরাহ করলাম। তিনি মক্কা প্রবেশ করে তাওয়াফ করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে তাওয়াফ করলাম। এরপর তিনি সাফা-মারওয়ায় সা‘য়ী করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে সা‘য়ী করলাম। আর আমরা তাঁকে মক্কাবাসীদের হতে লুকিয়ে রাখছিলাম যাতে কোন মুশরিক তাঁর প্রতি কোন কিছু নিক্ষেপ করতে না পারে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার এক সাথী তাঁকে বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কা‘বা শরীফে প্রবেশ করেছিলেন? তিনি বললেন, না।
|
অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: ‘উমরাহ আদায়কারী কখন হালাল হবে (ইহরাম খুলবে)? |
বর্ণনাকারী: পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদিস নং (১৭৯২):
প্রশ্নকারী তাঁকে বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজা (রাযি.) সম্বন্ধে কী বলেছেন? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খাদীজাকে বেহেশতের মাঝে মতি দিয়ে তৈরি এমন একটি ঘরের সুসংবাদ দাও যেখানে কোন শোরগোল থাকবে না এবং কোন প্রকার কষ্ট ক্লেশও থাকবে না।
|
অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: উমরাহ আদায়কারী কখন হালাল হবে (ইহরাম খুলবে)? |
বর্ণনাকারী: আমর ইবনু দ্বীনার (রহ.)
হাদিস নং (১৭৯৩):
আমর ইবনু দ্বীনার (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উমরাহ’র মাঝে বাইতুল্লাহর তাওয়াফের পর সাফা-মারওয়াহর তাওয়াফ না করে যে স্ত্রীর নিকট গমন করে, এমন ব্যক্তি সম্পর্কে আমরা ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কায়) এসে বায়তুল্লাহ’র সাতবার তাওয়াফ করে মাকামে ইব্রাহীমের পাশে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। এরপর সাতবার সাফা-মারওয়ার মাঝে সা‘য়ী করেছেন। ‘‘আর তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ তো রয়েছে আল্লাহর রাসূলের মাঝেই’’- (আল-আহযাবঃ ২১)।
|
অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: উমরাহ আদায়কারী কখন হালাল হবে (ইহরাম খুলবে)? |
বর্ণনাকারী: আমর ইবনু দ্বীনার (রহঃ)
হাদিস নং (১৭৯৪):
(রাবী) ‘আমর ইবনু দ্বীনার (রহ.) বলেছেন, জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ)-কেও আমরা জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেছেন, সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ না করা পর্যন্ত কেউ তার স্ত্রীর নিকট কিছুতেই যাবে না।
|
অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: উমরাহ আদায়কারী কখন হালাল হবে (ইহরাম খুলবে)? |
বর্ণনাকারী: আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৯৫):
আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার বাতহায় অবতরণ করলে আমি তাঁর নিকট গেলাম। তিনি বললেনঃ তুমি কি হাজ্জ করেছ? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছিলে? আমি বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইহরামের মত আমিও ইহরামের তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বললেনঃ ভাল করেছ। এখন বাইতুল্লাহ এবং সাফা-মারওয়ার সা‘য়ী করে হালাল হয়ে যাও। অতঃপর আমি বাইতুল্লাহ এবং সাফা-মারওয়ার সা‘য়ী করে কায়স গোত্রের এক মহিলার কাছে গেলাম। সে আমার মাথার উকুন বেছে দিল। এরপর আমি হাজ্জের ইহরাম বাঁধলাম এবং ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফত পর্যন্ত আমি এভাবেই ফাতাওয়া দিতে থাকি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, যদি আমরা আল্লাহর কিতাব গ্রহণ করি সেটা তো আমাদের পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়। আর যদি আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণী গ্রহণ করি তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর পশু তার স্থানে পৌঁছার (যবহ করার) পূর্ব পর্যন্ত হালাল হননি।
|
অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: উমরাহ আদায়কারী কখন হালাল হবে (ইহরাম খুলবে)? |
বর্ণনাকারী: আবুল আসওয়াদ (রহ.)
হাদিস নং (১৭৯৬):
আবুল আসওয়াদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ)-এর কন্যা আসমা (রাযি.)-এর আযাদকৃত গোলাম ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, যখনই আসমা (রাযি.) হাজ্জূন এলাকা দিয়ে গমন করতেন তখনই তাঁকে বলতে শুনেছেন صَلَّى اللهُ عَلَى رَسُولِهِ আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি রহমত নাযিল করুন, এ স্থানে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে অবতরণ করেছিলাম। তখন আমাদের বোঝা ছিল খুব অল্প, যানবাহন ছিল একেবারে নগণ্য এবং সম্বল ছিল খুবই কম। আমি, আমার বোন ‘আয়িশাহ (রাযি.), যুবাইর (রাঃ) এবং অমুক অমুক ‘উমরাহ আদায় করলাম। তারপর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে আমরা সকলেই হালাল হয়ে গেলাম এবং সন্ধ্যাকালে হাজ্জের ইহরাম বাঁধলাম।
|
অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: হজ্জ, ‘উমরাহ ও যুদ্ধ হতে ফিরার পরে কী বলবে? |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৯৭):
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোন যুদ্ধ, বা হাজ্জ অথবা ‘উমরাহ হতে প্রত্যাবর্তন করতেন তখন তিনি প্রত্যেক উঁচু ভূমিতে তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন এবং পরে বলতেন :
অর্থাৎ ‘‘আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। সর্বময় ক্ষমতা এবং সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই। তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী ও তওবা্কারী, ‘ইবাদতকারী, আমাদের প্রভুর উদ্দেশে সিজদা্কারী ও প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, স্বীয় বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সকল শত্রুদলকে পরাজিত করেছেন।
|
অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: আগমনকারী হাজীদেরকে স্বাগত জানানো এবং এমতাবস্থায় এক সওয়ারীতে তিনজন আরোহণ করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৯৮):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় এলে ‘আবদুল মুত্তালিব গোত্রীয় কয়েকজন তরুণ তাঁকে স্বাগত জানায়। তিনি একজনকে তাঁর সাওয়ারীর সামনে ও অন্যজনকে পেছনে তুলে নেন।
|
অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: সকাল বেলা বাড়িতে আগমন। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৯৯):
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে,আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উদ্দেশে বের হয়ে ‘মসজিদে শাজারাতে’ সালাত আদায় করতেন। আর যখন ফিরতেন, যুল-হুলাইফার বাতনুল-ওয়াদীতে সালাত আদায় করতেন এবং এখানে সকাল পর্যন্ত রাত যাপন করতেন।
|
অধ্যায়: উমরাহ |
উপ-অধ্যায়: বিকালে বা সন্ধ্যাকালে বাড়িতে প্রবেশ করা। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৮০০):
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে কখনো পরিবারের নিকট প্রবেশ করতেন না। তিনি প্রভাতে কিংবা বৈকালে ছাড়া পরিবারের নিকট প্রবেশ করতেন না।
|