তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কতবার ‘উমরাহ করেছেন? | বর্ণনাকারী: আবূ ইসহাক (রহ.)
হাদিস নং (১৭৮১): আবূ ইসহাক (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মাসরূক, ‘আত্বা এবং মুজাহিদ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁরা বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-কা‘দা মাসে হাজ্জের আগে ‘উমরাহ করেছেন। রাবী বলেন, আমি বারা’ ইবনু ‘আযিব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ করার আগে দু’বার যুল-কা‘দা মাসে ‘উমরাহ করেছেন।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: রামাযান মাসে ‘উমরাহ আদায় করা। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৮২): ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারী মহিলাকে বললেনঃ আমাদের সঙ্গে হাজ্জ করতে তোমার বাধা কিসের? ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) মহিলার নাম বলেছিলেন কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছি। মহিলা বলল, আমাদের একটি পানি বহনকারী উট ছিল। কিন্তু তাতে অমুকের পিতা ও তার পুত্র (অর্থাৎ মহিলার স্বামী ও ছেলে) আরোহণ করে চলে গেছেন। আর আমাদের জন্য রেখে গেছেন পানি বহনকারী আরেকটি উট যার দ্বারা আমরা পানি বহন করে থাকি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আচ্ছা, রমাযান এলে তখন ‘উমরাহ করে নিও। কেননা, রমযানের একটি ‘উমরাহ একটি হাজ্জের সমতুল্য। অথবা এরূপ কোন কথা তিনি বলেছিলেন।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: মুহাসসাবের রাত্রিতে ও অন্য সময়ে ‘উমরাহ আদায় করা। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৭৮৩): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম যখন যুলহাজ্জ আগত প্রায়। তখন তিনি আমাদের বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যে হাজ্জের ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যেন হাজ্জের ইহরাম বেঁধে নেয়। আর যে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধতে চায় সে যেন ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধে নেয়। আমি যদি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে না আনতাম তাহলে অবশ্যই আমি ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধতাম। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলেন, আবার কেউ হাজ্জের। যারা ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধেছিলেন, আমি তাদের একজন। ‘আরাফার দিন এল, তখন আমি ঋতুমতী ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট তা জানালাম। তিনি বললেনঃ ‘উমরাহ ছেড়ে দাও এবং মাথার বেণী খুলে মাথা আঁচড়িয়ে নাও। অতঃপর হাজ্জের ইহরাম বাঁধ। যখন মুহাসসাবের রাত হল, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সঙ্গে (আমার ভাই) ‘আবদুর রাহমানকে তান‘ঈমে পাঠালেন এবং আমি ছেড়ে দেয়া ‘উমরাহ’র স্থলে নতুনভাবে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলাম।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: তান‘ঈম হতে ‘উমরাহ করা। | বর্ণনাকারী: আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৮৪): আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তাঁর সওয়ারীর পিঠে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর বসিয়ে তান‘ঈম হতে ‘উমরাহ করানোর নির্দেশ দেন। রাবী সুফয়ান (রহ.) একদা বলেন, এ হাদীস আমি ‘আমরের কাছে বহুবার শুনেছি।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: তান‘ঈম হতে ‘উমরাহ করা। | বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৮৫): জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তালহা (রাঃ) ব্যতীত কারো সাথে কুরবানীর পশু ছিল না। আর ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে এলেন এবং তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিষয়ে ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তার ইহরাম বাঁধলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত করতে এবং তাওয়াফ করে এরপরে মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যেতে নির্দেশ দিলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর জানোয়ার রয়েছে (তারা হালাল হবে না)। তাঁরা বললেন, আমরা মিনার দিকে রওয়ানা হবো এমতাবস্থায় আমাদের কেউ স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এসেছে। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পৌঁছলে তিনি বললেনঃ যদি আমি এ ব্যাপার পূর্বে জানতাম, যা পরে জানতে পারলাম, তাহলে কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে আনতাম না। আর যদি কুরবানীর পশু আমার সাথে না থাকত অবশ্যই আমি হালাল হয়ে যেতাম। আর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর ঋতু দেখা দিল। তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হাজ্জের সব কাজই সম্পন্ন করে নিলেন। রাবী বলেন, এরপর যখন তিনি পাক হলেন এবং তাওয়াফ করলেন, তখন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনারা তো হাজ্জ এবং ‘উমরাহ উভয়টি পালন করে ফিরছেন, আমি কি শুধু হাজ্জ করেই ফিরব? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন তাকে সঙ্গে নিয়ে তান‘ঈমে যেতে। অতঃপর যুলহাজ্জ মাসেই হাজ্জ আদায়ের পর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ‘উমরাহ আদায় করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জামরাতুল ‘আকাবায় কঙ্কর মারছিলেন তখন সুরাকা ইবনু মালিক ইবনু জু‘শুম (রাঃ)-এর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ হাজ্জের মাসে ‘উমরাহ আদায় করা কি আপনাদের জন্য খাস? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, এতো চিরদিনের (সকলের) জন্য।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: হজ্জের পর কুরবানী ব্যতীত ‘উমরাহ আদায় করা। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৭৮৬): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যুলহাজ্জ মাস আগত প্রায়, তখন আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রওয়ানা দিলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যেন ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধে নেয়। আর যে ব্যক্তি হাজ্জের ইহরাম বাঁধতে চায় সে যেন হাজ্জের ইহরাম বেঁধে নেয়। আমি যদি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে না আনতাম তাহলে অবশ্যই আমি ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধতাম। তাই তাঁদের কেউ ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলেন আর কেউ হাজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। যারা ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধেছিলেন, আমি তাদের মধ্যে একজন। এরপর মক্কা পৌঁছার আগেই আমার ঋতু দেখা দিল। ‘আরাফার দিবস চলে এল, আর আমি ঋতুমতী অবস্থায় ছিলাম। অতঃপর আমার এ অসুবিধার কথা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বললাম। তিনি বললেনঃ ‘উমরাহ ছেড়ে দাও। আর বেণী খুলে মাথা আঁচড়িয়ে নাও। অতঃপর হাজ্জের ইহরাম বেঁধে নাও। আমি তাই করলাম। মুহাস্সাবের রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে আবদুর রহমানকে তান‘ঈম পাঠালেন। (রাবী বলেন) আবদুর রহমান (রাঃ) তাঁকে সাওয়ারীতে নিজের পিছনে বসিয়ে নিলেন। অতঃপর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আগের ‘উমরাহ’র স্থলে নতুন ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলেন। এমনিভাবেই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর হাজ্জ এবং ‘উমরাহ উভয়টিই পুরা করালেন। বর্ণনাকারী বলেন, এর কোন ক্ষেত্রেই (দম হিসেবে) কুরবানী বা সাদাকা দিতে কিংবা সিয়াম পালন করতে হয়নি।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: কষ্ট অনুপাতে ‘উমরাহ’র আজর (নেকী)। | বর্ণনাকারী: আসওয়াদ (রহ.)
হাদিস নং (১৭৮৭): আসওয়াদ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, হে আল্লাহর রসুল! সাহাবীগণ ফিরছেন দু’টি নুসূক (অর্থাৎ হাজ্জ এবং ‘উমরাহ) পালন করে আর আমি ফিরছি একটি নুসূক (শুধু হাজ্জ) আদায় করে। তাঁকে বলা হল, অপেক্ষা কর। পরে যখন তুমি পবিত্র হবে তখন তান‘ঈমে গিয়ে ইহরাম বাঁধবে এরপর অমুক স্থানে আমাদের কাছে আসবে। এ ‘উমরাহ (এর সওয়াব) হবে তোমার খরচ বা কষ্ট অনুপাতে।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: উমরাহ আদায়কারী ‘উমরাহ’র তাওয়াফ করেই রওয়ানা হলে, তা কি তার জন্য বিদায়ী তাওয়াফের বদলে যথেষ্ট হবে? | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৭৮৮): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে হাজ্জের ইহরাম বেঁধে বের হলাম, হাজ্জের মাসে এবং হাজ্জের কার্যাদি পালনের উদ্দেশ্যে। যখন সারিফ নামক স্থানে অবতরণ করলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবাগণকে বললেনঃ যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই এবং সে এই ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত করতে চায়, সে যেন তা করে নেয় (অর্থাৎ ‘উমরাহ করে হালাল হয়)। আর যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার আছে সে এরূপ করবে না। (অর্থাৎ হালাল হতে পারবে না)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর কয়েকজন সমর্থ সাহাবীর নিকট কুরবানীর জানোয়ার ছিল তাঁদের হাজ্জ ‘উমরাহ পরিণত হল না। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন] আমি কাঁদছিলাম, এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এসে বললেনঃ তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? আমি বললাম, আপনি আপনার সাহাবীগণকে যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি। আমি তো ‘উমরাহ হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে গেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কী অবস্থা? আমি বললাম, আমি তো সালাত আদায় করছি না (ঋতুমতী অবস্থায়)। তিনি বললেনঃ এতে তোমার ক্ষতি হবে না। তুমি তো আদম কন্যাদেরই একজন। তাদের অদৃষ্টে যা লেখা ছিল তোমার জন্যও তা লিখিত হয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার হাজ্জ আদায় কর। সম্ভবতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে ‘উমরাহও দান করবেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি এ অবস্থায়ই থেকে গেলাম এবং পরে মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করে মুহাস্সাবে অবতরণ করলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রহমান [‘আয়িশাহ (রাযি.)-এর সহোদর ভাই] (রাঃ)-কে ডেকে বললেনঃ তুমি তোমার বোনকে হারামের বাইরে নিয়ে যাও। সেখান হতে যেন সে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধে। অতঃপর তোমরা তাওয়াফ করে নিবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। আমরা মধ্যরাতে এলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কি তাওয়াফ সমাধা করেছ? আমি বললাম, হাঁ। এ সময় তিনি সাহাবীগণকে রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। তাই লোকজন এবং যাঁরা ফজরের পূর্বে তাওয়াফ করেছিলেন তাঁরা রওয়ানা হলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা অভিমুখে রওয়ানা হলেন।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: হজ্জে যে সকল কাজ করতে হয় ‘উমরাতেও তাই করবে। | বর্ণনাকারী: ই‘য়ালা ইবনু উমায়্যা (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৮৯): ই‘য়ালা ইবনু উমায়্যা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জি‘রানাতে ছিলেন। এ সময় জুববা পরিহিত এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললেন, আপনি ‘উমরাহতে আমাকে কী কাজ করার নির্দেশ দেন? লোকটির জুববাতে খালূক বা হল্দে রঙের দাগ ছিল। এ সময় আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর ওয়াহী নাযিল করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কাপড় দিয়ে আচ্ছাদিত করে দেয়া হল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বললাম, আল্লাহ তাঁর নবীর প্রতি ওয়াহী নাযিল করছেন, এমতাবস্থায় আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে চাই। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এসো, আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি ওয়াহী নাযিল করছেন, এমতাবস্থায় তুমি কি তাঁকে দেখতে আগ্রহী? আমি বললাম, হাঁ। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) কাপড়ের একটি কোণ উঁচু করে ধরলেন। আমি তাঁর দিকে নজর করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আওয়াজ করছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলছিলেন, উটের আওয়াজের মত আওয়াজ। এ অবস্থা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে দূরীভূত হলে তিনি বললেনঃ ‘উমরাহ সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার হতে জুববাটি খুলে ফেল, খালূকের চিহ্ন ধুয়ে ফেল এবং হলদে রং পরিষ্কার করে নাও। আর তোমার হাজ্জে যা করেছ ‘উমরাহতে তুমি তা-ই করবে।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: হজ্জে যে সকল কাজ করতে হয় ‘উমরাতেও তাই করবে। | বর্ণনাকারী: উরওয়াহ (রহ.)
হাদিস নং (১৭৯০): উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বাল্যকালে একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর বললাম, আল্লাহর বাণীঃ ‘‘সাফা ও মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হাজ্জ কিংবা ‘উমরাহ সম্পন্ন করে এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করতে চায়, তার কোন গুনাহ্ নেই’’- (আল-বাকারাঃ ১৫৮)। তাই সাফা-মারওয়াহর সা‘য়ী না করা আমি কারো পক্ষে অপরাধ মনে করি না। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, তুমি যেমন বলছ, ব্যাপারটি তেমন হলে আয়াতটি অবশ্যই এমন হতঃ ‘‘সাফা ও মারওয়াহ্ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হাজ্জ কিংবা ‘উমরাহ সম্পন্ন করে এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করে, তার কোন পাপ নেই’’- (আল-বাকারাঃ ১৫৮)। অর্থাৎ এ দু’টির মাঝে তাওয়াফ করলে কোন পাপ নেই। এ আয়াত তো আনসারদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। কেননা তারা মানাতের জন্য ইহরাম বাঁধত। আর মানাত কুদায়দের সামনে ছিল। তাই আনসাররা সাফা-মারওয়া তাওয়াফ করতে দ্বিধাবোধ করত। এরপর ইসলামের আবির্ভাবের পর তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেনঃ ‘সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হাজ্জ কিংবা ‘উমরাহ করতে চায় তার জন্য এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করায় কোন গুনাহ্ নেই।’ সুফয়ান ও আবূ মু‘আবিয়াহ (রাঃ) হিশাম (রহ.) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাফা-মারওয়াহর মাঝে তাওয়াফ না করলে আল্লাহ কারো হাজ্জ এবং ‘উমরাকে পূর্ণ করেন না।