তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: মুহাসসাব হতে শেষ রাতে যাত্রা করা। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৭৭১): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যাবর্তনের দিন সাফিয়্যা (রাযি.)-এর ঋতু দেখা দিলে তিনি বললেন, আমার মনে হচ্ছে আমি তোমাদেরকে আটকিয়ে ফেললাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে ‘‘আকরা’, ‘হালকা’ বলে বিরক্তি প্রকাশ করলেন এবং বললেনঃ সে কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছে? বলা হল, হাঁ। তিনি বললেনঃ তবে চল।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: মুহাসসাব হতে শেষ রাতে যাত্রা করা। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাযি.)
হাদিস নং (১৭৭২): আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হাজ্জ আদায় করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা (মক্কা্য়) আসলাম, তখন আমাদের হালাল হওয়ার নির্দেশ দেন। অতঃপর প্রত্যাবর্তনের রাত এলে সাফিয়্যাহ বিন্তু হুয়াই (রাযি.)-এর ঋতু আরম্ভ হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘হালকা’ ‘আকরা’, বলে বিরক্তি প্রকাশ করে বললেনঃ আমার ধারণা, সে তোমাদের আটকিয়েই ফেলবে। অতঃপর বললেনঃ তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছিলে? সাফিয়্যাহ (রাযি.) বললেন, হাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে চল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো (‘উমরা আদায় করে) হালাল হইনি। তিনি বললেনঃ তাহলে এখন তুমি তান‘ঈম হতে ‘উমরাহ আদায় করে নাও। অতঃপর তাঁর সঙ্গে তার ভাই [‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)] গেলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, (‘উমরা আদায় করার পর) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়, যখন তিনি শেষ রাতে (বিদায়ী তওয়াফের জন্য) যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ অমুক স্থানে তোমরা সাক্ষাৎ করবে।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: উমরাহ (আদায়) ওয়াজিব হওয়া এবং তার ফযীলত। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৭৩): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক ‘উমরাহ’র পর আর এক ‘উমরাহ উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের (গুনাহের) জন্য কাফফারা। আর জান্নাতই হলো হাজ্জে মাবরূরের প্রতিদান।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি হজ্জ আদায়ের পূর্বে ‘উমরাহ সম্পাদন করল। | বর্ণনাকারী: ইকরিমা ইবনু খালিদ (রহ.)
হাদিস নং (১৭৭৪): ইকরিমা ইবনু খালিদ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে হাজ্জের আগে ‘উমরাহ আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বললেন, এতে কোন দোষ নেই। ‘ইকরিমা (রহ.) বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের আগে ‘উমরাহ আদায় করেছেন। ইবরাহীম ইবনু সা‘দ (রহ.) ইবনু ইসহাক (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, ‘ইকরিমা ইবনু খালিদ (রহ.) বলেছেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। পরবর্তী অংশ। উক্ত হাদীসের অনুরূপ।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কতবার ‘উমরাহ করেছেন? | বর্ণনাকারী: মুজাহিদ (রহ.)
হাদিস নং (১৭৭৫): মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ‘উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রহ.) মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর হুজরার পাশে বসে আছেন। ইতোমধ্যে কিছু লোক মসজিদে সালাতুয্যোহা আদায় করতে লাগল। আমরা তাঁকে এদের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটা বিদ‘আত। এরপর ‘উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রহ.) তাঁকে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার ‘উমরাহ আদায় করেছেন? তিনি বললেন, চারবার। এর মধ্যে একটি রজব মাসে। আমরা তাঁর কথা রদ করা পছন্দ করলাম না।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কতবার ‘উমরাহ করেছেন? | বর্ণনাকারী: আমরা উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৭৭৬): আমরা উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর হুজরার ভিতর হতে তাঁর মিসওয়াক করার আওয়াজ শুনতে পেলাম। তখন ‘উরওয়াহ (রহ.) বললেন, হে আম্মাজান, হে উম্মুল মুমিনীন! আবূ ‘আবদুর রাহমান কী বলছেন, আপনি কি শুনেননি? ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, তিনি কী বলছেন? ‘উরওয়াহ (রহ.) বললেন, তিনি বলছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারবার ‘উমরাহ আদায় করেছেন। এর মধ্যে একটি রজব মাসে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, আবূ ‘আবদুর রাহমানের প্রতি আল্লাহ রহম করুন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোন ‘উমরাহ আদায় করেননি যে, তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন না। কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাসে কখনো ‘উমরাহ আদায় করেননি।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কতবার ‘উমরাহ করেছেন? | বর্ণনাকারী: উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রহ.)
হাদিস নং (১৭৭৭): উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাসে কখনো ‘উমরাহ আদায় করেননি।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কতবার ‘উমরাহ করেছেন? | বর্ণনাকারী: কাতাদাহ (রহ.)
হাদিস নং (১৭৭৮): কাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার ‘উমরাহ আদায় করেছেন? তিনি বললেন, চারবার। তন্মধ্যে হুদায়বিয়ার ‘উমরাহ যুলকা‘দা মাসে যখন মুশরিকরা তাঁকে মক্কা প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছিল। পরবর্তী বছরের যুল-কা‘দা মাসের ‘উমরা, যখন মুশরিকদের সাথে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, জি‘রানার ‘উমরাহ, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমতের মাল, সম্ভবতঃ হুনায়নের যুদ্ধে বণ্টন করেন। আমি বললাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার হাজ্জ করেছেন? তিনি বললেন, একবার।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কতবার ‘উমরাহ করেছেন? | বর্ণনাকারী: কাতাদাহ (রহ.)
হাদিস নং (১৭৭৯): কাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার ‘উমরাহ করেছেন যখন তাঁকে মুশরিকরা ফিরিয়ে দিয়েছিল। তার পরবর্তী বছর ছিল হুদাইবিয়ার (চুক্তি অনুযায়ী) ‘উমরাহ, (তৃতীয়) ‘উমরাহ (জি’রানা) যুল-কা‘দা মাসে আর হাজ্জের মাসে অপর একটি ‘উমরাহ করেছেন।
অধ্যায়: উমরাহ | উপ-অধ্যায়: রামাযান মাসে ‘উমরাহ আদায় করা। | বর্ণনাকারী: হাম্মাম (রহ.)
হাদিস নং (১৭৮০): হাম্মাম (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি ‘উমরাহ করেছেন। তন্মধ্যে হাজ্জের মাসে যে ‘উমরাহ করেছেন তা ছাড়া বাকী সব ‘উমরাহই যুল-কা‘দা মাসে করেছেন। অর্থাৎ হুদাইবিয়ার ‘উমরাহ, পরবর্তী বছরের ‘উমরাহ, জি‘রানার ‘উমরাহ, যেখানে তিনি হুনাইনের মালে গনীমত বণ্টন করেছিলেন এবং হাজ্জের মাসে আদায়কৃত ‘উমরাহ।