তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: তাওয়াফে যিয়ারতের পর কোন স্ত্রী লোকের ঋতু আসলে। | বর্ণনাকারী: পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদিস নং (১৭৬১): বর্ণনাকারী বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, সে মহিলা রওয়ানা হতে পারবে না। পরবর্তীতে তাঁকে এ কথাও বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: তাওয়াফে যিয়ারতের পর কোন স্ত্রী লোকের ঋতু আসলে। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৭৬২): ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বের হলাম। হাজ্জই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় পৌঁছে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা ও মারওয়ার সা‘য়ী করলেন। তবে ইহরাম খুলেননি। তাঁর সঙ্গে কুরবানীর জানোয়ার ছিল। তাঁর সহধর্মিণী ও সাহাবীগণের মধ্যে যারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁরাও তাওয়াফ করলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল না, তাঁরা হালাল হয়ে গেলেন। এরপর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ঋতুমতী হয়ে পড়লেও (বর্ণনাকারী বলেন) আমরা হাজ্জের সমুদয় হুকুম-আহকাম আদায় করলাম। এরপর যখন লায়লাতুল-হাসবা অর্থাৎ রওয়ানা হওয়ার রাত হল, তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি ব্যতীত আপনার সকল সাহাবী তো হাজ্জ ও ‘উমরাহ করে ফিরছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমরা যে রাতে এসেছি সে রাতে তুমি কি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করনি? আমি বললাম, না। অতঃপর তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে তান‘ঈম (নামক স্থানে) চলে যাও এবং সেখান হতে ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধে নাও। আর অমুক অমুক স্থানে তোমার সঙ্গে সাক্ষাতের ওয়াদা থাকল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, এরপর আমি ‘আবদুর রাহমান (রাঃ)-এর সঙ্গে তান‘ঈমের দিকে গেলাম এবং ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলাম। আর সাফিয়্যা বিনত হুয়াই (রাযি.)-এর ঋতু দেখা দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বিরক্ত হয়ে বলেনঃ তুমি তো আমাদেরকে আটকিয়ে ফেললে। তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছিলে? তিনি বললেন, হাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে কোন বাধা নেই, রওয়ানা হও। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন] আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে মিলিত হলাম। এমতাবস্থায় যে, তিনি মক্কার উপরের দিকে উঠছিলেন, আর আমি নিচের দিকে নামছিলাম। অথবা আমি উঠছিলাম আর তিনি নামছিলেন। মুসাদ্দাদ (রহ.)-এর বর্ণনায় এ হাদীসে (হাঁ)-এর পরিবর্তে ‘লা’ (না) রয়েছে। রাবী জারীর (রহ.) মনসূর (রহ.) হতে এ হাদীস বর্ণনায় মুসাদ্দাদ (রহ.)-এর অনুরূপ ‘লা’ (না) বর্ণনা করেছেন।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: (মিনা হতে) ফেরার দিন আবতাহ নামক স্থানে ‘আসর সালাত আদায় করা। | বর্ণনাকারী: আবদুল আযীয ইবনু রুফায় (রহ.)
হাদিস নং (১৭৬৩): আবদুল ‘আযীয ইবনু রুফা‘য় (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মনে রেখেছেন এমন কিছু কথা আমাকে বলুন, তারবিয়ার দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের সালাত কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মিনাতে। আমি বললাম, প্রত্যাবর্তনের দিন ‘আসরের সালাত কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, আবতাহ নামক স্থানে। (তারপর বললেন,) তুমি তাই কর, যেভাবে তোমার শাসকগণ করেন।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: (মিনা হতে) ফেরার দিন আবতাহ নামক স্থানে ‘আসর সালাত আদায় করা। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৬৪): আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর, ‘আসর, মাগরিব ও ‘ইশার সালাত আদায়ের পর মুহাস্সাবে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকেন, পরে সওয়ার হয়ে বাইতুল্লাহর দিকে গেলেন এবং বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: মুহাসসাব। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৭৬৫): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তা হল একটি মানযিল মাত্র, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করতেন, যাতে বেরিয়ে যাওয়া সহজতর হয় অর্থাৎ এর দ্বারা আবতাহ বুঝানো হয়েছে।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: মুহাসসাব। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৬৬): ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাস্সাবে অবতরণ করা (হজ্জের- কিছুই নয়। এ তো শুধু একটি মানযিল, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করেছিলেন।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: মক্কাহ্য় প্রবেশের পূর্বে যু-তুয়া উপত্যকায় অবতরণ এবং | বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহ.)
হাদিস নং (১৭৬৭): নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) দু’ পাহাড়ের মধ্যস্থিত যু-তুয়া নামক স্থানে রাত যাপন করতেন। এরপর মক্কার উঁচু গিরিপথের দিক হতে প্রবেশ করতেন। হাজ্জ বা ‘উমরাহ আদায়ের জন্য মক্কা্ আসলে তিনি মসজিদে হারামের দরজার সামনে ব্যতীত কোথাও উট বসাতেন না। অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করে হাজারে আসওয়াদের কাছে আসতেন এবং সেখান হতে তাওয়াফ আরম্ভ করতেন এবং সাত চক্কর তাওয়াফ করতেন। তিনবার দ্রুতবেগে আর চারবার স্বাভাবিক গতিতে। এরপর ফিরে এসে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন এবং নিজের মানযিলে ফিরে যাওয়ার আগে সাফা-মারওয়ার মধ্যে সা‘য়ী করতেন। আর যখন হাজ্জ বা ‘উমরাহ হতে ফিরতেন তখন যুল-হুলাইফা উপত্যকার বাতহা নামক স্থানে অবতরণ করতেন, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করেছিলেন।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: মক্কাহ্য় প্রবেশের পূর্বে যু-তুয়া উপত্যকায় অবতরণ এবং | বর্ণনাকারী: খালিদ ইবনু হারিস (রহ.)
হাদিস নং (১৭৬৮): খালিদ ইবনু হারিস (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উবায়দুল্লাহ (রহ.)-কে মুহাসসাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি নাফি‘ (রহ.) হতে আমাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , ‘উমার ও ইবনু ‘উমার (রাঃ) সেখানে অবতরণ করেছেন। নাফি‘ (রহ.) হতে আরো বর্ণিত রয়েছে যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ) মুহাসসাবে যোহর ও ‘আসরের সালাত আদায় করতেন। আমার মনে হচ্ছে, তিনি মাগরিবের কথাও বলেছেন, খালিদ (রাঃ) বলেন, ঈসা সম্পর্কে আমার কোন সন্দেহ নেই এবং তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নিদ্রা যেতেন। এ কথা ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেই বর্ণনা করতেন।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: মক্কাহ্ হতে প্রত্যাবর্তনের সময় যু-তুয়া উপত্যকায় অবতরণ করা। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৬৯): ইবনু ‘উমার (রাঃ) বর্ণিত যে, তিনি যখনই মক্কা্ আসতেন তখনই যু-তুয়া উপত্যকায় রাত যাপন করতেন। আর সকাল হলে (মক্কা্য়) প্রবেশ করতেন। ফিরার সময়ও তিনি যু-তুয়ার দিকে যেতেন এবং সেখানে ভোর পর্যন্ত অবস্থান করতেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলতেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: (হজ্জের) মৌসুমে ব্যবসা করা এবং জাহিলী যুগের বাজারগুলোতে ক্রয়-বিক্রয় করা | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৭০): ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগে যুল-মাজায ও ‘উকায লোকেদের ব্যবসা কেন্দ্র ছিল। ইসলাম আসার পর মুসলিমগণ যেন তা অপছন্দ করতে লাগল, অবশেষে এ আয়াত নাযিল হলঃ ‘হাজ্জের মৌসুমে তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই’- (আল-বাকারাঃ ১৯৮)।