অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: অপর দুই জামরায় কংকর নিক্ষেপ করে সমতল ভূমিতে গিয়ে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ’উমার (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৫১):
ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি প্রথম জামরায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলতেন। তারপর সামনে অগ্রসর হয়ে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতেন এবং উভয় হাত তুলে দু’আ করতেন। অতঃপর মধ্যবর্তী জামরায় কঙ্কর মারতেন এবং একটু বাঁ দিকে চলে সমতল ভূমিতে এসে কিবলামুখী দাঁড়িয়ে উভয় হাত উঠিয়ে দু’আ করতেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। এরপর বাতন ওয়াদী হতে জামরায়ে ’আকাবায় কঙ্কর মারতেন। এর কাছে তিনি বিলম্ব না করে ফিরে আসতেন এবং বলতেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ করতে দেখেছি।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: নিকটবর্তী এবং মধ্যবর্তী জামরার নিকট দুই হস্ত উত্তোলন করা। |
বর্ণনাকারী: সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.)
হাদিস নং (১৭৫২):
সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) নিকটবর্তী জামরায় সাতটি কঙ্কর মারতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলতেন। এরপর সামনে এগিয়ে গিয়ে সমতল ভূমিতে এসে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দু‘আ করতেন। অতঃপর মধ্যবর্তী জামরায় অনুরূপভাবে কঙ্কর মারতেন। এরপর বাঁ দিক হয়ে সমতল ভূমিতে এসে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দু‘আ করতেন। অতঃপর বাতন ওয়াদী হতে জামরায়ে ‘আকাবায় কঙ্কর মারতেন এবং এর কাছে তিনি দেরী করতেন না। তিনি বলতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি অনুরূপ করতে দেখেছি।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: দুই জামরার নিকটে দু‘আ করা। |
বর্ণনাকারী: যুহরী (রহ.)
হাদিস নং (১৭৫৩):
যুহরী (রহ.) হতে বর্ণিত যে, মসজিদে মিনার দিক হতে প্রথমে অবস্থিত জামরায় যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঙ্কর মারতেন, সাতটি কঙ্কর মারতেন এবং প্রত্যেকটি কঙ্কর মারার সময় তিনি তাকবীর বলতেন। এরপর সামনে এগিয়ে গিয়ে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে উভয় হাত উঠিয়ে দু‘আ করতেন এবং এখানে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। অতঃপর দ্বিতীয় জামরায় এসে সাতটি কঙ্কর মারতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর মারার সময় তিনি তাকবীর বলতেন। অতঃপর বাঁ দিকে মোড় নিয়ে ওয়াদীর কাছে এসে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াতেন এবং উভয় হাত উঠিয়ে দু‘আ করতেন। অবশেষে ‘আকাবার কাছে জামরায় এসে তিনি সাতটি কঙ্কর মারতেন এবং প্রতিটি কঙ্কর মারার সময় তাকবীর বলতেন। এরপর ফিরে যেতেন, এখানে বিলম্ব করতেন না। যুহরী (রহ.) বলেন, সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.)-কে তাঁর পিতার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি। (রাবী বলেন) ইবনু ‘উমার (রাঃ)-ও তাই করতেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: কংকর নিক্ষেপের পর সুগন্ধি ব্যবহার এবং তাওয়াফে যিয়ারতের পূর্বে মাথা মুন্ডন |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৭৫৪):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার এ দু’ হাত দিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে খুশবু লাগিয়েছি, যখন তিনি ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করেছেন এবং তাওয়াফে যিয়ারাহর পূর্বে যখন তিনি ইহরাম খুলে হালাল হয়েছেন। এ কথা বলে তনি তাঁর উভয় হাত প্রসারিত করলেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: বিদায়ী তাওয়াফ। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৫৫):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেদের আদেশ দেয়া হয় যে, তাদের শেষ কাজ যেন হয় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ। তবে এ হুকুম ঋতুমতী মহিলাদের জন্য শিথিল করা হয়েছে।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: বিদায়ী তাওয়াফ। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৫৬):
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহর, ‘আসর, মাগরিব ও ‘ইশার সালাত আদায় করে উপত্যকায় কিছুক্ষণ শুয়ে থাকেন। অতঃপর সওয়ারীতে আরোহণ করে বাইতুল্লাহর দিকে এসে তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করেন। লায়স (রহ.)...আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস বর্ণনায় ‘আমর ইবনু হারিস (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: তাওয়াফে যিয়ারতের পর কোন স্ত্রী লোকের ঋতু আসলে। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৭৫৭):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী সাফিয়্যা বিনত হুয়াই (রাঃ) ঋতুমতী হলেন এবং পরে এ কথাটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অবগত করানো হয়। তখন তিনি বললেনঃ সে কি আমাদের যাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে? তারা বললেন, তিনি তো তাওয়াফে যিয়ারাহ্ সমাধা করে নিয়েছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তো আর বাধা নেই।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: তাওয়াফে যিয়ারতের পর কোন স্ত্রী লোকের ঋতু আসলে। |
বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহ.)
হাদিস নং (১৭৫৮):
ইকরিমা (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তাওয়াফে যিয়ারাহর পর ঋতু এসেছে এমন মহিলা সম্পর্কে মদিনা্বাসী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাদের বললেন, সে রওয়ানা হয়ে যাবে। তারা বললেন, আমরা আপনার কথা গ্রহণ করব না এবং যায়দের কথাও বর্জন করব না। তিনি বললেন, তোমরা মদিনা্য় ফিরে গিয়ে জিজ্ঞেস করে নেবে। তাঁরা মদিনা্য় এসে জিজ্ঞেস করলেন যাঁদের কাছে তাঁরা জিজ্ঞেস করেছিলেন তাঁদের মধ্যে উম্মে সুলাইম (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাঁদের সাফিয়্যা (উম্মুল মু’মিনীন) (রাঃ)-এর ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। হাদীসটি খালিদ ও কাতাদাহ (রহ.) ‘ইকরিমা (রহ.) হতে বর্ণনা করেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: তাওয়াফে যিয়ারতের পর কোন স্ত্রী লোকের ঋতু আসলে। |
বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহ.)
হাদিস নং (১৭৫৯):
ইকরিমা (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তাওয়াফে যিয়ারাহর পর ঋতু এসেছে এমন মহিলা সম্পর্কে মদিনা্বাসী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাদের বললেন, সে রওয়ানা হয়ে যাবে। তারা বললেন, আমরা আপনার কথা গ্রহণ করব না এবং যায়দের কথাও বর্জন করব না। তিনি বললেন, তোমরা মদিনা্য় ফিরে গিয়ে জিজ্ঞেস করে নেবে। তাঁরা মদিনা্য় এসে জিজ্ঞেস করলেন যাঁদের কাছে তাঁরা জিজ্ঞেস করেছিলেন তাঁদের মধ্যে উম্মে সুলাইম (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাঁদের সাফিয়্যা (উম্মুল মু’মিনীন) (রাঃ)-এর ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। হাদীসটি খালিদ ও কাতাদাহ (রহ.) ‘ইকরিমা (রহ.) হতে বর্ণনা করেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: তাওয়াফে যিয়ারতের পর কোন স্ত্রী লোকের ঋতু আসলে। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৬০):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাওয়াফে যিয়ারাহ্ আদায় করার পর ঋতুমতী মহিলাকে রওয়ানা হয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে।
|