অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: উমরাহ আদায়ের পর তামাত্তু‘ হজ্জ সম্পাদনকারীর চুল ছাঁটা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৩১):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় এসে সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন, তারা যেন বাইতুল্লাহ এবং সাফা ও মারওয়ার তাওয়াফ করে। এরপর মাথার চুল মুড়িয়ে বা চুল ছেঁটে হালাল হয়ে যায়।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: কুরবানীর দিবসে তাওয়াফে যিয়ারাহ সম্পাদন করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৩২):
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি একদা তাওয়াফ করলেন, এরপর কায়লুলা করেন এবং অতঃপর মিনায় আসেন অর্থাৎ কুরবানীর দিন। ‘আবদুর রাযযাক (রহ.) এটি মারফূ‘ হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমার নিকট ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: কুরবানীর দিবসে তাওয়াফে যিয়ারাহ সম্পাদন করা। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৭৩৩):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে হাজ্জ আদায় করে কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারাহ্ করলাম। এ সময় সাফিয়্যাহ (রাযি.)-এর ঋতু দেখা দিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে তা ইচ্ছা করছিলেন যা একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সঙ্গে ইচ্ছা করে থাকে। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো ঋতুমতী। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে তো সে আমাদের আটকিয়ে ফেলবে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সাফিয়্যাহ (রাযি.) তো কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারা করে নিয়েছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে রওয়ানা হও। কাসিম, ‘উরওয়া ও আসাদ (রহ.) সূত্রে ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, সাফিয়্যা কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারাহ্ আদায় করেছেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: ভুলবশত বা অজ্ঞতার কারণে কেউ যদি সন্ধ্যার পর কংকর মারে অথবা কুরবানীর পশু যবহ করার পূর্বে মাথা মুন্ডন করে ফেলে। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৩৪):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যবহ করা, মাথা কামান ও কঙ্কর মারা এবং (এ কাজগুলো) আগে-পিছে করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: ভুলবশত বা অজ্ঞতার কারণে কেউ যদি সন্ধ্যার পর কংকর মারে অথবা কুরবানীর পশু যবহ করার পূর্বে মাথা মুন্ডন করে ফেলে। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৩৫):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মিনাতে কুরবানীর দিন (বিভিন্ন বিষয়ে) জিজ্ঞেস করা হত, তখন তিনি বলতেনঃ কোন দোষ নেই। তাঁকে এক সাহাবী জিজ্ঞেস করে বললেন, আমি যবহ (কুরবানী) করার আগেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ যবহ করে নাও, এতে দোষ নেই। সাহাবী আরো বললেন, আমি সন্ধ্যার পর কঙ্কর মেরেছি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন দোষ নেই।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: জামারার নিকট সওয়ারীতে আরোহিত অবস্থায় ফাতোয়া প্রদান করা। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৩৬):
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাওয়ারীতে) অবস্থান করছিলেন, তখন সাহাবীগণ তাঁকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেনঃ একজন জিজ্ঞেস করলেন, আমি জানতাম না, তাই কুরবানী করার আগেই (মাথা) কামিয়ে ফেলেছি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ তুমি কুরবানী করে নাও, কোন দোষ নেই। অতঃপর অপর একজন এসে বললেন, আমি না জেনে কঙ্কর মারার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ কঙ্কর মেরে নাও, কোন দোষ নেই। সেদিন যে কোন কাজ আগে পিছে করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ করে নাও, কোন দোষ নেই।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: জামারার নিকট সওয়ারীতে আরোহিত অবস্থায় ফাতোয়া প্রদান করা। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৩৭):
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কুরবানীর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খুতবা দেওয়ার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন এক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন, আমার ধারণা ছিল অমুক কাজের আগে অমুক কাজ। এরপর অপর এক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন, আমার ধারণা ছিল অমুক কাজের আগে অমুক কাজ, আমি কুরবানী করার আগে মাথা কামিয়ে ফেলেছি। আর কঙ্কর মারার আগে কুরবানী করে ফেলেছি। এরূপ অনেক কথা জিজ্ঞেস করা হয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ করে নাও, কোন দোষ নেই। সব কটির জবাবে তিনি এ কথাই বললেন। সেদিন তাঁকে যা-ই জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, উত্তরে তিনি বলেনঃ করে নাও, কোন দোষ নেই।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: জামারার নিকট সওয়ারীতে আরোহিত অবস্থায় ফাতোয়া প্রদান করা। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৩৮):
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটনীর উপর অবস্থান করছিলেন। অতঃপর হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। যুহরী (রহ.) হতে এ হাদীস বর্ণনায় মা‘মার (রহ.) সালিহ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: মিনার দিবসগুলোতে খুৎবাহ প্রদান করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৩৯):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন লোকদের উদ্দেশে একটি খুৎবাহ দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! আজকের এ দিনটি কোন্ দিন? সকলেই বললেন, সম্মানিত দিন। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ শহরটি কোন্ শহর? তাঁরা বললেন, সম্মানিত শহর। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ মাসটি কোন্ মাস? তারা বললেনঃ সম্মানিত মাস। তিনি বললেনঃ তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের ইয্যত-সম্মান তোমাদের জন্য তেমনি সম্মানিত, যেমন সম্মানিত তোমাদের এ দিনটি, তোমাদের এ শহরে এবং তোমাদের এ মাস। এ কথাটি তিনি কয়েকবার বললেন। পরে মাথা উঠিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি কি (আপনার পয়গাম) পৌঁছিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছিয়েছি? ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, সে সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই এ কথাগুলো ছিল তাঁর উম্মতের জন্য অসীয়ত। [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ] উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছিয়ে দেয়। আমার পরে তোমরা পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: মিনার দিবসগুলোতে খুৎবাহ প্রদান করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭৪০):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ‘আরাফাত ময়দানে খুত্বা দিতে শুনেছি।
|