তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: মিনাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কুরবানী করার জায়গায় কুরবানী করা। | বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহ.)
হাদিস নং (১৭১১): নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ) মুযদালিফা হতে শেষ রাতের দিকে হাজীদের সাথে, যাদের মধ্যে আযাদ ও ক্রীতদাস থাকত, নিজ কুরবানীর জানোয়ার পাঠিয়ে দিতেন, যাতে তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কুরবানীর স্থানে পৌঁছে যায়।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি নিজ হস্তে কুরবানী করে। | বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭১২): আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে সাতটি উট দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কুরবানী করেন এবং মদ্বীনাতেও হৃষ্টপুষ্ট শিং বিশিষ্ট সুন্দর দু’টি দুম্বা তিনি কুরবানী করেছেন। এখানে হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: বাঁধা অবস্থায় উট কুরবানী করা। | বর্ণনাকারী: যিয়াদ ইবনু জুবাইর (রহ.)
হাদিস নং (১৭১৩): যিয়াদ ইবনু জুবাইর (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে দেখেছি যে, তিনি আসলেন এমন এক ব্যক্তির নিকট, যে তার নিজের উটটিকে নহর করার জন্য বসিয়ে রেখেছিল। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, সেটি উঠিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় বেঁধে নাও। (এ) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন যে,] শু‘বাহ্ (রহ.) ইউনুস সূত্রে যিয়াদ (রহ.) হতে হাদীসটি أَخْبَرَنِي শব্দ দিয়ে বর্ণনা করেন।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: উটকে দাঁড় করিয়ে কুরবানী করা। | বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৭১৪): আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্তে যোহর চার রাক‘আত এবং যুল হুলাইফাতে ‘আসর দু’রাক‘আত আদায় করলেন এবং এখানেই রাত যাপন করলেন। ভোর হলে তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করে তাহ্লীল ও তাসবীহ পাঠ করতে লাগলেন। এরপর বায়দায় যাওয়ার পর তিনি হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের জন্য তালবিয়া পাঠ করেন এবং মক্কা্য় প্রবেশ করে তিনি সাহাবাদের ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দেন। আর (সে হাজ্জে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি উট দাঁড় করিয়ে নিজ হাতে কুরবানী করেন আর মদ্বীনাহ্তে হৃষ্টপুষ্ট শিং বিশিষ্ট সুন্দর দু’টি ভেড়া কুরবানী দেন।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: উটকে দাঁড় করিয়ে কুরবানী করা। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (১৭১৫): আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্তে যুহর চার রাক‘আত এবং যুল-হুলাইফাতে ‘আসর দু’ রাক‘আত আদায় করেন। আইয়ূব (রহ.) এক ব্যক্তির মাধ্যমে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, এরপর তিনি সেখানে রাত যাপন করেন। ভোর হলে তিনি ফজরের সালাত আদায় করার পর সওয়ারীতে আরোহণ করেন। সওয়ারী বায়দায় পৌঁছে সোজা হয়ে দাঁড়ালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের জন্য তালবিয়া পাঠ করেন।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: কুরবানীর জন্তুর কিছুই কসাইকে দেয়া যাবে না। | বর্ণনাকারী: আলী (রাঃ)
হাদিস নং (১৭১৬): আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠালেন, আমি কুরবানীর জানোয়ারের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম, অতঃপর তিনি আমাকে আদেশ করলেন। আমি ওগুলোর গোশ্ত বণ্টন করে দিলাম। এরপর তিনি আমাকে আদেশ করলেন। আমি এর পিঠের আবরণ এবং চামড়াগুলোও বিতরণ করে দিলাম। (মীম). ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ করলেন কুরবানীর জানোয়ারের পাশে দাঁড়াতে এবং এর হতে পারিশ্রমিক হিসেবে কসাইকে কিছু না দিতে।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: কুরবানীর পশুর চামড়া সদাকাহ করা। | বর্ণনাকারী: আলী (রাঃ)
হাদিস নং (১৭১৭): আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের কুরবানীর জানোয়ারের পাশে দাঁড়াতে আর এগুলোর সমুদয় গোশ্ত, চামড়া এবং পিঠের আবরণসমূহ বিতরণ করতে নির্দেশ দেন এবং তা হতে যেন কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছুই না দেয়া হয়।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: কুরবানীর পশুর পিঠের আচ্ছাদন সদাকাহ করা। | বর্ণনাকারী: আলী (রাঃ)
হাদিস নং (১৭১৮): আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর একশ’ উট পাঠান এবং আমাকে মাংস সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন। আমি তা বণ্টন করে দিলাম। এরপর তিনি তার পিঠের আবরণ সম্বন্ধে আমাকে নির্দেশ দিলেন, আমি তা বণ্টন করে দিলাম। অতঃপর তিনি আমাকে চামড়া সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন, আমি তা বণ্টন করে দিলাম।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: পরিচ্ছেদ নাই। | বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ)
হাদিস নং (১৭১৯): জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের কুরবানীর গোশ্ত মিনা’র তিন দিনের বেশি খেতাম না। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অনুমতি দিলেন এবং বললেনঃ খাও এবং সঞ্চয় করে রাখ। তাই আমরা খেলাম এবং সঞ্চয়ও করলাম। রাবী বলেন, আমি ’আত্বা (রহ.)-কে বললাম, জাবির (রাঃ) কি বলেছেন আমরা মদ্বীনায় আসা পর্যন্ত? তিনি বললেন, না।
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) | উপ-অধ্যায়: কী পরিমাণ কুরবানীর গোশত ভক্ষণ করবে এবং কী পরিমাণ সদাকাহ করবে? | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৭২০): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুল-কা‘দার পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হাজ্জ ব্যতীত আমরা অন্য কিছু উদ্দেশ্য করিনি, অবশেষে আমরা যখন মক্কার নিকটে পৌঁছলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলেনঃ যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই সে যেন বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করে হালাল হয়ে যায়। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, এরপর কুরবানীর দিন আমাদের কাছে গরুর মাংস পাঠানো হল। আমি বললাম, এ কী? বলা হল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের তরফ হতে কুরবানী করেছেন। ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেন, আমি কাসিম (রহ.)-এর নিকট হাদীসটি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, ‘আমরাহ্ (রহ.) হাদীসটি ঠিক ভাবেই তোমার নিকট বর্ণনা করেছেন।