অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি কুরবানীর জন্তু সাথে নিয়ে যায়। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (১৬৯১):
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ ও ‘উমরাহ একসাথে পালন করেছেন। তিনি হাদী পাঠান অর্থাৎ যুল-হুলাইফা হতে কুরবানীর জানোয়ার সাথে নিয়ে নেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধেন, এরপর হাজ্জের ইহরাম বাঁধেন। সাহাবীগণ তাঁর সঙ্গে ‘উমরাহ’র ও হাজ্জের নিয়্যাতে তামাত্তু‘ করলেন। সাহাবীগণের কতেক হাদী সাথে নিয়ে চললেন, আর কেউ কেউ হাদী সাথে নেননি। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ পৌঁছে সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে এসেছ, তাদের জন্য হাজ্জ সমাপ্ত করা পর্যন্ত কোন নিষিদ্ধ জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে আসনি, তারা বাইতুল্লাহর এবং সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ করে চুল কেটে হালাল হয়ে যাবে। এরপর হাজ্জের ইহরাম বাঁধবে। তবে যারা কুরবানী করতে পারবে না তারা হাজ্জের সময় তিনদিন এবং বাড়িতে ফিরে গিয়ে সাতদিন সওম পালন করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ পৌঁছেই তাওয়াফ করলেন। প্রথমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং তিন চক্কর রামল করে আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করলেন। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করে তিনি মাকামে ইব্রাহীমের নিকট দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, সালাম ফিরিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফায় আসলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সা‘ঈ করলেন। হাজ্জ সমাধান করা পর্যন্ত তিনি যা কিছু হারাম ছিল তা হতে হালাল হয়নি। তিনি কুরবানীর দিনে হাদী কুরবানী করলেন, সেখান হতে এসে তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। অতঃপর তাঁর উপর যা হারাম ছিল সে সব কিছু হতে তিনি হালাল হয়ে গেলেন। সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা হাদী সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা সেরূপ করলেন, যেরূপ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি কুরবানীর জন্তু সাথে নিয়ে যায়। |
বর্ণনাকারী: উরওয়া (রহ.) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৬৯২):
উরওয়া (রহ.) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের সাথে ‘উমরাহ পালন করেন এবং তাঁর সঙ্গে সাহাবীগণও তামাত্তু’ করেন, যেমনি বর্ণনা করেছেন সালিম (রহ.) ইব্ন ‘উমার (রাঃ) সূত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: রাস্তা হতে কুরবানীর পশু ক্রয় করা। |
বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহ.)
হাদিস নং (১৬৯৩):
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর পুত্র ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁর পিতাকে বললেন, আপনি (এবার বাড়িতেই) অবস্থান করুন। কেননা, বাইতুল্লাহ হতে আপনার বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, তাহলে আমি তাই করব যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। তিনি আরো বলেন, ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ’’- (আহযাবঃ ২১)। সুতরাং আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, (এবার) ‘উমরাহ আদায় করা আমি আমার উপর ওয়াজিব করে নিয়েছি। তাই তিনি ‘উমরাহ’র জন্য ইহরাম বাঁধলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি রওয়ানা হলেন, যখন বায়দা নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন তিনি হাজ্জ এবং ‘উমরাহ উভয়টির জন্য ইহরাম বেঁধে বললেন, হাজ্জ এবং ‘উমরাহ’র ব্যাপার তো একই। এরপর তিনি কুদাইদ নামক স্থান হতে কুরবানীর জানোয়ার কিনলেন এবং মক্কা্ পৌঁছে (হাজ্জ ও ‘উমরাহ) উভয়টির জন্য একটি তাওয়াফ করলেন। উভয়ের সব কাজ শেষ করা পর্যন্ত তিনি ইহরাম খুললেন না।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি যুল-হুলায়ফা হতে (কুরবানীর পশুকে) ইশ্‘আর এবং কিলাদা করে পরে ইহরাম বাঁধে। |
বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনু মাখরামা ও মারওয়ান (রাযি.)
হাদিস নং (১৬৯৪):
মিসওয়ার ইবনু মাখরামা ও মারওয়ান (রাযি.) হতে বর্ণিত। তাঁরা উভয়েই বলেছেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাজারেরও অধিক সাহাবী নিয়ে মাদ্বীনা হতে বের হয়ে যুল-হুলাইফা পৌঁছে কুরবানীর পশুটিকে কিলাদা পরালেন এবং ইশ‘আর করলেন। এরপর তিনি ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি যুল-হুলায়ফা হতে (কুরবানীর পশুকে) ইশ্‘আর এবং কিলাদা করে পরে ইহরাম বাঁধে। |
বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনু মাখরামা ও মারওয়ান (রাযি.)
হাদিস নং (১৬৯৫):
মিসওয়ার ইবনু মাখরামা ও মারওয়ান (রাযি.) হতে বর্ণিত। তাঁরা উভয়েই বলেছেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাজারেরও অধিক সাহাবী নিয়ে মাদ্বীনা হতে বের হয়ে যুল-হুলাইফা পৌঁছে কুরবানীর পশুটিকে কিলাদা পরালেন এবং ইশ‘আর করলেন। এরপর তিনি ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি যুল-হুলায়ফা হতে (কুরবানীর পশুকে) ইশ্‘আর এবং কিলাদা করে পরে ইহরাম বাঁধে। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৬৯৬):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নিজ হাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কুরবানীর (হাদী) পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি তাকে কিলাদা পরিয়ে ইশ’আর করার পর পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর জন্য যা হালাল ছিল এতে তা হারাম হয়নি।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: উট এবং গরুর জন্য কিলাদা পাকানো। |
বর্ণনাকারী: হাফসা (রাঃ)
হাদিস নং (১৬৯৭):
হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! লোকদের কী হল তারা হালাল হয়ে গেল আর আপনি হালাল হলেন না? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তো আমার মাথার তালবিদ করেছি এবং আমার কুরবানীর জানোয়ারকে কিলাদা পরিয়ে দিয়েছি, তাই হাজ্জ সমাধা না করা পর্যন্ত আমি হালাল হতে পারি না।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: উট এবং গরুর জন্য কিলাদা পাকানো। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৬৯৮):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদ্বীনা হতে কুরবানীর পশু পাঠাতেন, আমি তার গলায় কিলাদার মালা পাকিয়ে দিতাম। এরপর মুহরিম যে কাজ বর্জন করে, তিনি তার কিছু বর্জন করতেন না।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: কুরবানীর পশুকে ইশ‘আর করা। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৬৯৯):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কুরবানীর (হাদী) পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিলাম। এরপর তিনি তার ইশ’আর করলেন এবং তাকে তিনি কিলাদা পরিয়ে দিলেন অথবা আমি একে কিলাদা পরিয়ে দিলাম। এরপর তিনি তা বাইতুল্লাহর দিকে পাঠালেন এবং নিজে মাদ্বীনায় থাকলেন এবং তাঁর জন্য যা হালাল ছিল তা হতে কিছুই তাঁর জন্য হারাম হয়নি।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: যে নিজ হস্তে কিলাদা বাঁধে। |
বর্ণনাকারী: যিয়াদ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান (রহ.)
হাদিস নং (১৭০০):
যিয়াদ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তিনি ’আয়িশাহ (রাযি.)-এর নিকট পত্র লিখলেন যে, ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরবানীর পশু (হাদী) (মক্কা্) পাঠায় তা যবহ না করা পর্যন্ত তার জন্য ঐ সমস্ত কাজ হারাম হয়ে যায়, যা হাজীদের জন্য হারাম। (বর্ণনাকারিণী) আমরাহ (রহ.) বলেন, ’আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) যেমন বলেছেন, ব্যাপার তেমন নয়। আমি নিজ হাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কুরবানীর পশুর (হাদী) কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি আর তিনি নিজ হাতে তাকে কিলাদা পরিয়ে দেন। এরপর আমার পিতার সঙ্গে তা পাঠান। সে জানোয়ার যবহ করা পর্যন্ত আল্লাহ কর্তৃক হালাল করা কোন বস্তুই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি হারাম হয়নি।
|