অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: ঋতুমতী নারীর বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের অন্য সকল কার্য সম্পাদন করা এবং উযূ ব্যতীত সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ করা। |
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
হাদিস নং (১৬৫১):
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ হাজ্জ-এর ইহরাম বাঁধেন, তাঁদের মাঝে কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তালহা (রাঃ) ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল না। ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে আগমন করেন, তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি [‘আলী (রাঃ)] বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও সেরূপ ইহরাম বেঁধেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের মধ্যে যাদের নিকট কুরবানীর পশু ছিল না, তাদের ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত করার নির্দেশ দিলেন, তারা যেন তাওয়াফ করে, চুল ছেঁটে অথবা মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়। তাঁরা বলাবলি করতে লাগলেন, (যদি হালাল হয়ে যাই তা হলে) স্ত্রীর সাথে মিলনের পরপরই আমাদের পক্ষে মিনায় যাওয়াটা কেমন হবে! তা অবগত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি পরে যা জানতে পেরেছি তা যদি আগে জানতে পারতাম, তাহলে কুরবানীর পশু সাথে আনতাম না। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে অবশ্যই ইহরাম ভঙ্গ করতাম। (হাজ্জ-এর সফরে) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ঋতুমতী হওয়ার কারণে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হাজ্জ-এর অন্য সকল কাজ সম্পন্ন করে নেন। পবিত্র হওয়ার পর তাওয়াফ আদায় করেন, (ফিরার পথে) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সকলেই হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়টি আদায় করে ফিরছে, আর আমি কেবল হাজ্জ আদায় করে ফিরছি, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকার (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন, যেন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে নিয়ে তান‘ঈমে চলে যান, (সেখানে গিয়ে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধবেন)। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হাজ্জের পর ‘উমরাহ আদায় করে নিলেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: ঋতুমতী নারীর বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের অন্য সকল কার্য সম্পাদন করা এবং উযূ ব্যতীত সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ করা। |
বর্ণনাকারী: হাফসাহ (রাঃ)
হাদিস নং (১৬৫২):
হাফসাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের যুবতীদেরকে বের হতে নিষেধ করতাম। এক মহিলা বনূ খালীফা-এর দূর্গে এলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, তাঁর বোন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এক সাহাবীর সহধর্মিণী ছিলেন। যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বারোটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, (সেগুলোর মধ্যে) ছয়টি যুদ্ধে আমার বোনও স্বামীর সঙ্গে ছিলেন। তাঁর বোন বলেন, আমরা আহত যোদ্ধা ও অসুস্থ সৈনিকদের সেবা করতাম। আমার বোন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমাদের মধ্যে যার (শরীর উত্তমরূপে আবৃত করার মত) চাদর নেই, সে বের না হলে অন্যায় হবে কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের একজন অপরজনকে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাদরটি দিয়ে দেয়া উচিত এবং কল্যাণমূলক কাজে ও মু’মিনদের দু‘আয় বের হওয়া উচিত। উম্মু ‘আতিয়্যা (রাঃ) উপস্থিত হলে এ বিষয়ে তাঁর নিকট আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথা ব্দপ্পব্দ‘‘ (আমার পিতা উৎসর্গ হোন) ব্যতীত কখনও উচ্চারণ করতেন না। আমি তাঁকে বললাম, আপনি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, অবশ্যই। আমার পিতা উৎসর্গ হোন। তিনি বললেনঃ যুবতী ও পর্দাশীলা নারীদেরও বের হওয়া উচিত। অথবা বললেনঃ পর্দাশীলা যুবতী ও ঋতুমতীদেরও বের হওয়া উচিত। তারা কল্যাণমূলক কাজে এবং মুসলিমদের দু‘আয় যথাস্থানে উপস্থিত হবে। তবে ঋতুমতী মহিলাগণ সালাতের স্থানে উপস্থিত হবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঋতুমতী মহিলাও কি? তিনি বললেনঃ (কেন উপস্থিত হবে না?) তারা কি ‘আরাফার ময়দানে এবং অমুক অমুক স্থানে উপস্থিত হবে না?
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: তারবিয়ার দিন (যিলহজ্জ মাসের আট তারিখে) হাজী কোন্ স্থানে যুহরের সালাত আদায় করবে? |
বর্ণনাকারী: আবদুল ’আযীয ইবনু রুফাইয়’ (রহ.)
হাদিস নং (১৬৫৩):
আবদুল ’আযীয ইবনু রুফাইয়’ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আপনি যা উত্তমরূপে স্মরণ রেখেছেন তার কিছুটা বলুন। বলুন, যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে যুহর ও ’আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করতেন? তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, মিনা হতে ফিরার দিন ’আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মুহাস্সাবে। এরপর আনাস (রাঃ) বললেন, তোমাদের আমীরগণ যেরূপ করবে, তোমরাও অনুরূপ কর।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: তারবিয়ার দিন (যিলহজ্জ মাসের আট তারিখে) হাজী কোন্ স্থানে যুহরের সালাত আদায় করবে? |
বর্ণনাকারী: আবদুল ‘আযীয (রহ.)
হাদিস নং (১৬৫৪):
আবদুল ‘আযীয (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে মিনার দিকে বের হলাম, তখন আনাস (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ লাভ করি, তিনি গাধার পিঠে আরোহণ করে যাচ্ছিলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, এ দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় যুহরের সালাত আদায় করেছিলেন? তিনি বললেন, তুমি লক্ষ্য রাখবে যেখানে তোমার আমীরগণ সালাত আদায় করবে, তুমিও সেখানেই সালাত আদায় করবে।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: মিনায় সালাত আদায় করা। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (১৬৫৫):
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন এবং আবূ বকর, ‘উমার (রাঃ)-ও। আর ‘উসমান (রাঃ) তাঁর খিলাফতের প্রথম ভাগেও দু’ রাক‘আত আদায় করেছেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: মিনায় সালাত আদায় করা। |
বর্ণনাকারী: হারিসাহ ইবনু ওয়াহব খুযা‘য় (রাঃ)
হাদিস নং (১৬৫৬):
হারিসাহ ইবনু ওয়াহব খুযা‘য় (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে মিনাতে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। এ সময় আমরা আগের তুলনায় সংখ্যায় বেশি ছিলাম এবং অতি নিরাপদে ছিলাম।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: মিনায় সালাত আদায় করা। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ (রাঃ)
হাদিস নং (১৬৫৭):
আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (মিনায়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছি। আবূ বকর-এর সাথে দু’ রাক‘আত এবং ‘উমার-এর সাথেও দু’ রাক‘আত আদায় করেছি। এরপর তোমাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে [অর্থাৎ ‘উসমান (রাঃ)-এর সময় হতে চার রাক‘আত সালাত আদায় করা শুরু হয়েছে] আহা! যদি চার রাক‘আতের পরিবর্তে মকবূল দু’রাক‘আতই আমার ভাগ্যে জুটত!
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: আরাফার দিবসে সওম। |
বর্ণনাকারী: উম্মু ফাযল (রাঃ)
হাদিস নং (১৬৫৮):
উম্মু ফাযল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আরাফার দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সওমের ব্যাপারে লোকজন সন্দেহ করতে লাগলেন। তাই আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট শরবত পাঠিয়ে দিলাম। তিনি তা পান করলেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: সকালে মিনা হতে ‘আরাফা যাওয়ার সময় তালবিয়া ও তাকবীর পাঠ করা। |
বর্ণনাকারী: মুহাম্মদ ইবনু আবূ বাকার সাকাফী (রহ.)
হাদিস নং (১৬৫৯):
মুহাম্মদ ইবনু আবূ বাকার সাকাফী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তাঁরা উভয়ে সকাল বেলায় মিনা হতে ‘আরাফার দিকে যাচ্ছিলেন, আপনারা এ দিনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে থেকে কিরূপ করতেন? তিনি বললেন, আমাদের মধ্যে যারা তালবিয়া পড়তে চাইত তারা পড়ত, তাতে বাধা দেয়া হতো না এবং যারা তাকবীর পড়তে চাইত তারা তাকবীর পড়ত, এতেও বাধা দেয়া হতো না।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: ‘আরাফার দিনে দুপুরে অবস্থান স্থলে গমন করা। |
বর্ণনাকারী: সালিম (রহ.)
হাদিস নং (১৬৬০):
সালিম (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (খলীফা) ‘আবদুল মালিক (মক্কার গভর্নর) হাজ্জাজের নিকট লিখে পাঠালেন যে, হাজ্জের ব্যাপারে ইবনু ‘উমার-এর বিরোধিতা করবে না। ‘আরাফার দিনে সূর্য ঢলে যাবার পর ইবনু ‘উমার (রাঃ) হাজ্জাজের তাঁবুর কাছে গিয়ে উচ্চস্বরে ডাকলেন। আমি তখন তাঁর (ইবনু ‘উমারের) সাথেই ছিলাম, হাজ্জাজ হলুদ রঙের চাদর পরিহিত অবস্থায় বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন, কী ব্যাপার, হে আবূ ‘আবদুর রহমান? ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, যদি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চাও তা হলে চল। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করলেন, এ মুহূর্তেই? তিনি বললেন, হাঁ। হাজ্জাজ বললেন, সামান্য অবকাশ দিন, মাথায় পানি ঢেলে বের হয়ে আসি। তখন তিনি তার সওয়ারী হতে নেমে পড়লেন। অবশেষে হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন। এরপর হাজ্জাজ চলতে লাগলেন, আমি ও আমার পিতার মাঝে তিনি চললেন, আমি তাকে বললাম, যদি আপনি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চান তা হলে খুত্বা সংক্ষিপ্ত করবেন এবং উকূফে দ্রুত করবেন। হাজ্জাজ ‘আবদুল্লাহর দিকে তাকাতে লাগলেন। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) যখন তাঁকে দেখলেন তখন বললেন, সে ঠিকই বলেছে।
|