তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

ফিল্টার
মোট: ৩৫০০
পৃষ্ঠা ১৫৯ / ৩৫০
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কোন্ দিক দিয়ে মক্কাহ্ হতে বের হবে। উরওয়াহ (রহ.)
১৫৮১ হাদিস নং
উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ বিজয়ের বছর কাদা-র পথে মক্কা্য় প্রবেশ করেন। [রাবী হিশাম (রহ.) বলেন] ‘উরওয়াহ উভয় পথেই প্রবেশ করতেন, তবে কুদা-র পথে তাঁর বাড়ি নিকটবর্তী হওয়ার কারণে সে পথেই অধিকাংশ সময় প্রবেশ করতেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, ‘কাদা’ ও ‘কুদা’ দু’টি স্থানের নাম।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) মক্কাহ্ ও তার ঘরবাড়ির ফযীলত। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
১৫৮২ হাদিস নং
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কা‘বা ঘর পুনর্নির্মাণের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ‘আব্বাস (রাঃ) পাথর বহন করছিলেন। ‘আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, তোমার লুঙ্গিটি কাঁধের ওপর দিয়ে নাও। তিনি তা করলে মাটিতে পড়ে গেলেন এবং তাঁর উভয় চোখ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল। তখন তিনি বললেনঃ আমার লুঙ্গি দাও এবং তা বেঁধে নিলেন।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) মক্কাহ্ ও তার ঘরবাড়ির ফযীলত। আয়িশাহ্ (রাযি.)
১৫৮৩ হাদিস নং
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ তুমি কি জান না! তোমার কওম যখন কা‘বা ঘরের পুনর্নির্মাণ করেছিল তখন ইব্রাহীম (‘আ.) কর্তৃক কা‘বা ঘরের মূল ভিত্তি হতে তা সঙ্কুচিত করেছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি একে ইবরাহীমী ভিত্তির উপর পুনঃস্থাপন করবেন না? তিনি বললেনঃ যদি তোমার সম্প্রদায়ের যুগ কুফরীর নিকটবর্তী না হত তা হলে অবশ্য আমি তা করতাম। ‘আবদুল্লাহ (ইবনু ‘উমর) (রাঃ) বলেন, যদি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) নিশ্চিতরূপে তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনে থাকেন, তাহলে আমার মনে হয় যে, বায়তুল্লাহ হাতীমের দিক দিয়ে সম্পূর্ণ ইবরাহিমী ভিত্তির উপর নির্মিত না হবার কারণেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তওয়াফের সময়) হাতীম সংলগ্ন দু’টি কোণ স্পর্শ করতেন না।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) মক্কাহ্ ও তার ঘরবাড়ির ফযীলত। আয়িশাহ্ (রাযি.)
১৫৮৪ হাদিস নং
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করলাম, (হাতীমের) দেয়াল কি বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত, তিনি বললেনঃ হাঁ। আমি বললাম, তাহলে তারা বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করল না কেন? তিনি বললেনঃ তোমার গোত্রের (অর্থাৎ কুরাইশের কা‘বা নির্মাণের) সময় অর্থ নিঃশেষ হয়ে যায়। আমি বললাম, কা‘বার দরজা এত উঁচু হওয়ার কারণ কী? তিনি বললেনঃ তোমার কওমতো এ জন্য করেছে যে, তারা যাকে ইচ্ছা তাকে ঢুকতে দিবে এবং যাকে ইচ্ছা নিষেধ করবে। যদি তোমার কওমের যুগ জাহিলিয়াতের নিকটবর্তী না হত এবং আশঙ্কা না হত যে, তারা একে ভাল মনে করবে না, তাহলে আমি দেয়ালকে বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম এবং তার দরজা ভূমি বরাবর করে দিতাম।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) মক্কাহ্ ও তার ঘরবাড়ির ফযীলত। আয়িশাহ্ (রাযি.)
১৫৮৫ হাদিস নং
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ যদি তোমার গোত্রের যুগ কুফরীর নিকটবর্তী না হত তা হলে অবশ্যই কা‘বা ঘর ভেঙ্গে ইব্রাহীম (আঃ)-এর ভিত্তির উপর তা পুনর্নির্মাণ করতাম। কেননা কুরায়শগণ এর ভিত্তি সঙ্কুচিত করে দিয়েছে। আর আমি আরো একটি দরজা করে দিতাম। আবূ মু‘আবিয়াহ (রহ.) বলেন, হিশাম (রহ.) বলেছেন : خَلْفًا অর্থ দরজা।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) মক্কাহ্ ও তার ঘরবাড়ির ফযীলত। আয়িশাহ্ (রাযি.)
১৫৮৬ হাদিস নং
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেনঃ হে ‘আয়িশাহ! যদি তোমার কওমের যুগ জাহিলিয়াতের নিকটবর্তী না হত তাহলে আমি কা‘বা ঘর সম্পর্কে নির্দেশ দিতাম এবং তা ভেঙ্গে ফেলা হত। অতঃপর বাদ দেয়া অংশটুকু আমি ঘরের অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম এবং তা ভূমি বরাবর করে দিতাম ও পূর্ব-পশ্চিমে এর দু’টি দরজা করে দিতাম। এভাবে কা‘বাকে ইব্রাহীম (‘আ.) নির্মিত ভিত্তিতে সম্পন্ন করতাম। (বর্ণনাকারী বলেন), আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এ উক্তি কা‘বা ঘর ভাঙ্গতে (‘আবদুল্লাহ) ইবনু যুবাইর (রহ.)-কে অনুপ্রাণিত করেছে। (রাবী) ইয়াযীদ বলেন, আমি ইবনু যুবাইর (রাঃ)-কে দেখেছি তিনি যখন কা‘বা ঘর ভেঙ্গে তা পুনর্নির্মাণ করেন এবং বাদ দেয়া অংশটুকু (হাতীম) তার সাথে সংযোজিত করেন এবং ইবরাহীম (আঃ)-এর নির্মিত ভিত্তির পাথরগুলো উটের কুঁজোর ন্যায় আমি দেখতে পেয়েছি। (রাবী) জারীর (রহ.) বলেন, আমি তাকে (ইয়াযীদকে) বললাম, কোথায় সেই ভিত্তি মূলের স্থান? তিনি বললেন, এখনই আমি তোমাকে দেখিয়ে দিব। আমি তাঁর সাথে বাদ দেয়া দেয়াল বেষ্টনীতে (হাতীমে) প্রবেশ করলাম। তখন তিনি একটি স্থানের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, এখানে। জরীর (রহ.) বলেন, দেয়াল বেষ্টিত স্থানটুকু পরিমাপ করে দেখলাম ছয় হাত বা তার কাছাকাছি।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হারমের ফযীলত। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
১৫৮৭ হাদিস নং
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ (মক্কা) শহরকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন, এর একটি কাঁটাও কর্তন করা যাবে না, এতে বিচরণকারী শিকারকে তাড়া করা যাবে না, এখানে প্রচারের উদ্দেশ্য ব্যতীত পড়ে থাকা কোন বস্তু কেউ তুলে নিবে না।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) কাউকে মক্কাহ্য় অবস্থিত বাড়ির (ও জমির) ওয়ারিশ বানানো উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)
১৫৮৮ হাদিস নং
উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি মক্কা্য় অবস্থিত আপনার বাড়ির কোন্ স্থানে অবস্থান করবেন? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘আকীল কি কোন সম্পত্তি বা ঘর-বাড়ি অবশিষ্ট রেখে গেছে? ‘আকীল এবং তালিব আবূ তালিবের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন, জা‘ফর ও ‘আলী (রাঃ) হননি। কেননা তাঁরা দু’জন ছিলেন মুসলিম। ‘আকীল ও তালিব ছিল কাফির। এজন্যই ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলতেন, মু’মিন কাফির-এর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না। ইবনু শিহাব (যুহরী) (রহ.) বলেন, (পূর্ববর্তীগণ নিম্ন উদ্ধৃত আয়াতে উক্ত বিলায়াতকে উত্তরাধিকার বলে) এই তাফসীর করতেন। আল্লাহ বলেনঃ ‘‘নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে, নিজেদের ধন ও প্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দান করেছে ও সাহায্য করেছে তারা একে অপরের বন্ধু। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরত করেনি তাদের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব তোমাদের নেই যে পর্যন্ত না তারা হিজরত করে। আর যদি তারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাহায্য চায় তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য, কিন্তু তোমাদের সাথে যে ক্বাওমের চুক্তি রয়েছে তাদের মুকাবিলায় নয়। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা সবই দেখেন।’’ (আল-আনফালঃ ৭২)।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মক্কাহ্য় অবতরণ। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
১৫৮৯ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মিনা হতে ফিরে) যখন মক্কা্ প্রবেশের ইচ্ছা করলেন তখন বললেনঃ আগামীকাল খায়ফ বনী কেনানায় (মুহাসসাবে) ইনশাআল্লাহ আমাদের অবস্থানস্থল হবে যেখানে তারা (বনূ খায়ফ ও কুরাইশরা) কুফরীর উপর শপথ করেছিল।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মক্কাহ্য় অবতরণ। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
১৫৯০ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরবানীর দিনে মিনায় অবস্থানকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমরা আগামীকাল (ইনশাআল্লাহ) খায়ফ বনী কিনানায় অবতরণ করব, যেখানে তারা কুফরীর উপরে শপথ নিয়েছিল। (রাবী বলেন) খায়ফ বনী কিনানাই হলো মুহাসসাব। কুরায়শ ও কিনানা গোত্র বনূ হাশিম ও বনূ আবদুল মুত্তালিব-এর বিরুদ্ধে এই বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল, যে পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাদের হাতে সমর্পণ করবে না সে পর্যন্ত তাদের সাথে বিয়ে-শাদী ও বেচা-কেনা বন্ধ থাকবে। সালামাহ (রহ.) ‘উকাইল (রহ.) সূত্রে এবং ইয়াহ্ইয়া ইবনু যাহ্হাক (রহ.) আওযায়ী (রহ.) সূত্রে ইবনু শিহাব যুহরী (রহ.) হতে বর্ণিত এবং তাঁরা উভয়ে [সালামাহ ও ইয়াহইয়া (রহ.)] বনূ হাশিম ও ইবনুল মুত্তালিব বলে উল্লেখ করেছেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ (বুখারী) (রহ.) বলেন, বনী মুত্তালিব হওয়াই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।