অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: তালবিয়া পড়ার আগে সওয়ারীতে আরোহণকালে তাহমীদ, তাসবীহ ও তাকবীর পড়া |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৫৫১):
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে মাদ্বীনায় যুহরের সালাত আদায় করেন চার রাক‘আত এবং যুল-হুলাইফায় (পৌঁছে) ‘আসরের সালাত আদায় করেন দু’ রাক‘আত। এরপর সেখানেই ভোর পর্যন্ত রাত কাটালেন। সকালে সওয়ারীতে আরোহণ করে বায়দা নামক স্থানে উপনীত হলেন। তখন তিনি আল্লাহ্র হামদ, তাসবীহ ও তাকবীর পাঠ করছিলেন। এরপর তিনি হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র তালবিয়া পাঠ করলেন। সাহাবীগণ উভয়ের তালবিয়া পাঠ করলেন। যখন আমরা (মক্কার উপকন্ঠে) পৌঁছলাম তখন তিনি সাহাবীগণকে (‘উমরা শেষ করে) হালাল হওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁরা হালাল হয়ে গেলেন। অবশেষে যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে তাঁরা হাজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে কিছু সংখ্যক উট দাঁড়ানো অবস্থায় নহর (যবেহ) করলেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় সাদা কাল মিশ্রিত রঙ-এর দু’টি মেষ যবেহ করেছিলেন।
আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, কোন কোন রাবী হাদীসটি আইয়ূব (রহ.) সূত্রে জনৈক রাবীর মাধ্যমে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: সওয়ারী আরোহীকে নিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে গেলে তালবিয়া পড়া। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (১৫৫২):
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে নিয়ে তাঁর সওয়ারী সোজা দাঁড়িয়ে গেলে তিনি তালবিয়া পাঠ করেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: কিবলামুখী হয়ে তালবিয়া পড়া। |
বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহ.)
হাদিস নং (১৫৫৩):
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) যুল-হুলাইফায় ফজরের সালাত শেষ করে সওয়ারী প্রস্তুত করার নির্দেশ দিতেন, প্রস্তুত হলে আরোহণ করতেন। সওয়ারী তাঁকে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে তিনি সোজা কিবলামুখী হয়ে হারাম শরীফের সীমারেখায় পৌঁছা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকতেন। এরপর বিরতি দিয়ে যূ-তুওয়া নামক স্থানে পৌঁছে ভোর পর্যন্ত রাত যাপন করতেন এবং অতঃপর ফজরের সালাত আদায় করে গোসল করতেন এবং বলতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করে ছিলেন। ইসমা‘ঈল (রহ.) গোসল সম্পর্কিত বর্ণনায় আইয়ূব (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: কিবলামুখী হয়ে তালবিয়া পড়া। |
বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহ.)
হাদিস নং (১৫৫৪):
নাফি‘ (রহ.) বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) মক্কা গমনের ইচ্ছা করলে দেহে সুগন্ধিবিহীন তেল লাগাতেন। অতঃপর যুল-হুলাইফা’র মসজিদে পৌঁছে সালাত আদায় করে সওয়ারীতে আরোহণ করতেন। তাঁকে নিয়ে সওয়ারী সোজা দাঁড়িয়ে গেলে তিনি ইহরাম বাঁধতেন। এরপর তিনি [ইবনু ‘উমার (রা)] বলতেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ করতে দেখেছি।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: নিম্নভূমিতে অবতরণকালে তালবিয়া পড়া। |
বর্ণনাকারী: মুজাহিদ (রহ.)
হাদিস নং (১৫৫৫):
মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকটে ছিলাম, লোকেরা দাজ্জালের আলোচনা করে বলল যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তাঁর দু’ চোখের মাঝে (কপালে) কা-ফি-র লেখা থাকবে। রাবী বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কিছু শুনিনি। অবশ্য তিনি বলেছেনঃ আমি যেন দেখছি মূসা (‘আ.) নীচু ভূমিতে অবতরণকালে তালবিয়া পাঠ করছিলেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: ঋতু ও প্রসবোত্তর স্রাব অবস্থায় মহিলাগণ কিভাবে ইহরাম বাঁধবে? |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৫৫৬):
আয়িশাহ্ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে বের হয়ে ‘উমরাহ’র নিয়্যাতে ইহরাম বাঁধি। নবী বললেনঃ যার সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে সে যেন ‘উমরাহ’র সাথে হাজ্জের ইহরামও বেঁধে নেয়। অতঃপর সে ‘উমরাহ ও হাজ্জ উভয়টি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত হালাল হতে পারবে না। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন] এরপর আমি মক্কা্য় ঋতুমতী অবস্থায় পৌঁছলাম। কাজেই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা‘য়ী কোনটিই আদায় করতে সমর্থ হলাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমার অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেনঃ মাথার চুল খুলে নাও এবং তা আঁচড়িয়ে নাও এবং হাজ্জের ইহরাম বহাল রাখ এবং ‘উমরাহ ছেড়ে দাও। আমি তাই করলাম, হাজ্জ সম্পন্ন করার পর আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে তান‘ঈম-এ প্রেরণ করেন। [1] সেখান হতে আমি ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ তোমার (ছেড়ে দেয়া) ‘উমরাহ’র স্থলবর্তী। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, যাঁরা ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধেছিলেন, তাঁরা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা‘য়ী সমাপ্ত করে হালাল হয়ে যান এবং মিনা হতে ফিরে আসার পর দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন আর যাঁরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিলেন তাঁরা একটি মাত্র তাওয়াফ করেন।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় তাঁর ইহরামের মত যিনি ইহরাম বেঁধেছেন। |
বর্ণনাকারী: জাবির (রাঃ)
হাদিস নং (১৫৫৭):
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে ইহরাম বহাল রাখার আদেশ দিলেন, এরপর জাবির (রাঃ) সুরাকাহ (রাঃ)-এর উক্তি বর্ণনা করেন। মুহাম্মাদ ইবনু বকর (রহ.) ইবনু জুরাইজ (রহ.) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে বললেনঃ হে ‘আলী! তুমি কোন্ প্রকার ইহরাম বেঁধেছ? ‘আলী (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইহরামের অনুরূপ। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে কুরবানীর পশু প্রেরণ কর এবং ইহরাম অবস্থায় যেভাবে আছ সেভাবেই থাক।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় তাঁর ইহরামের মত যিনি ইহরাম বেঁধেছেন। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (১৫৫৮):
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কী প্রকার ইহরাম বেঁধেছ? ‘আলী (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুরূপ। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার সঙ্গে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি হালাল হয়ে যেতাম।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় তাঁর ইহরামের মত যিনি ইহরাম বেঁধেছেন। |
বর্ণনাকারী: আবূ মূসা (আশ‘আরী) (রাঃ)
হাদিস নং (১৫৫৯):
আবূ মূসা (আশ‘আরী) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামানে আমার গোত্রের নিকট পাঠিয়েছিলেন; তিনি (হাজ্জ-এর সফরে) বাত্হা নামক স্থানে অবস্থানকালে আমি (ফিরে এসে) তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি কোন্ প্রকার ইহরাম বেঁধেছ? আমি বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইহরামের অনুরূপ আমি ইহরাম বেঁধেছি। তিনি বললেনঃ তোমার সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে কি? আমি বললাম, নেই। তিনি আমাকে বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ করতে আদেশ করলেন। আমি বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সা‘য়ী করলাম। পরে তিনি আদেশ করলে আমি হালাল হয়ে গেলাম। অতঃপর আমি আমার গোত্রীয় এক মহিলার নিকট আসলাম। সে আমার মাথা আঁচড়িয়ে দিল অথবা বলেছেন, আমার মাথা ধুয়ে দিল। এরপর ‘উমার (রাঃ) তাঁর খিফাফতকালে এক উপলক্ষে আসলেন। (আমরা তাঁকে বিষয়টি জানালে) তিনি বললেনঃ কুরআনের নির্দেশ পালন কর। কুরআন তো আমাদেরকে হাজ্জ ও ‘উমরাহ পৃথক পৃথকভাবে যথাসময়ে পূর্ণরূপে আদায় করার নির্দেশ দান করে। আল্লাহ বলেনঃ ‘‘তোমরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ আল্লাহ’র উদ্দেশে পূর্ণ কর’’- (আল-বাকারাঃ ১৯৬)। আর যদি আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাতকে অনুসরণ করি, তিনি তো কুরবানীর পশু যবেহ করার আগে হালাল হননি।
|
অধ্যায়: হাজ্জ (হজ্জ/হজ) |
উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘হজ্জ হয় সুবিদিত মাসগুলোতে। অতঃপর যে কেউ এ মাসগুলোতে হজ্জ করা স্থির করে, তার জন্য হজ্জের সময়ে স্ত্রী সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও কলহ বিবাদ বিধেয় নয়’’- (আল-বাকারাঃ ১৯৭)। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৫৬০):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জ-এর মাসে, হাজ্জ-এর দিনগুলোতে, হাজ্জ-এর মৌসুমে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে (হাজ্জে) বের হয়ে সারিফ নামক স্থানে আমরা অবতরণ করলাম।‘ আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণের নিকট বেরিয়ে ঘোষণা করলেনঃ যার সাথে কুরবানীর পশু নেই এবং যে এ ইহরাম ‘উমরাহ’র ইহরামে পরিণত করতে আগ্রহী, সে তা করতে পারবে। আর যার সাথে কুরবানীর পশু আছে সে তা পারবে না। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, কয়েকজন সাহাবী ‘উমরাহ করলেন, আর কয়েকজন তা করলেন না। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর কয়েকজন সাহাবী (দীর্ঘ ইহরাম রাখতে) সক্ষম ছিলেন এবং তাঁদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল। তাই তাঁরা (শুধু) ‘উমরাহ করতে (ও পরে হালাল হয়ে যেতে) সক্ষম হলেন না। তিনি আরো বলেন, আমি কাঁদছিলাম, এমন সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ ওহে কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আপনি সাহাবাদের যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি, কিন্তু আমার পক্ষে ‘উমরাহ করা সম্ভব নয়। তিনি বললেনঃ তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, আমি সালাত আদায় করতে পারছি না (আমি ঋতুমতী)। তিনি বললেনঃ এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই, তুমি আদম-সন্তানের এক মহিলা। সকল নারীর জন্য আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন, তোমার জন্যেও তাই নির্ধারণ করেছেন। কাজেই তুমি হাজ্জ-এর ইহরাম অবস্থায় থাক। আল্লাহ তোমাকে ‘উমরাহ করার সুযোগও দিতে পারেন। তিনি বলেন, আমরা হাজ্জ-এর জন্য বের হয়ে মিনায় পৌঁছলাম। সে সময় আমি পবিত্র হলাম। পরে মিনা হতে ফিরে (বাইতুল্লাহ পৌঁছে) তাওয়াফে যিয়ারা আদায় করি। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সর্বশেষ দলে বের হলাম। তিনি মুহাস্সাব নামক স্থানে অবতরণ করেন, আমি তাঁর সাথে অবতরণ করলাম। এখানে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে ডেকে বললেনঃ তোমার বোন (‘আয়িশা)-কে নিয়ে হারাম সীমারেখা হতে বেরিয়ে যাও। সেখান হতে সে উমরার ইহরাম বেঁধে মক্কা হতে ‘উমরাহ সমাধা করলে তাকে নিয়ে এখানে ফিরে আসবে। আমি তোমাদের আগমণ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকব। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমরা বের হয়ে গেলাম এবং আমি ও আমার ভাই তাওয়াফ সমাধা করে ফিরে এসে প্রভাত হওয়ার আগেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পৌঁছে গেলাম। তিনি বললেনঃ কাজ সমাধা করেছ কি? আমি বললাম জী-হাঁ। তখন তিনি রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। সকলেই মদিনার দিকে রওয়ানা করলেন।
ضَيْرِ শব্দটি ضَارَ-يَضِيرُ-ضَيْرًا (ক্ষতিকর) শব্দ হতে উদগত। এমনই ভাবে ضَارَ يَضُورُ ضَوْرًا,ضَرَّ يَضُرُّ-ضَرًّا- সমার্থবোধক।
|