তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

ফিল্টার
মোট: ৩৫০০
পৃষ্ঠা ১৫২ / ৩৫০
যাকাত আযাদ ও গোলামের পক্ষ হতে সদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। ইবনু ‘উমার (রাঃ)
১৫১১ হাদিস নং
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক পুরুষ, মহিলা, আযাদ ও গোলামের পক্ষ হতে সদাকাতুল ফিতর অথবা (বলেছেন) সদাকা-ই রমাযান হিসেবে এক সা‘ খেজুর বা এক এক সা‘ যব আদায় করা ফরজ করেছেন। অতঃপর লোকেরা অর্থ সা‘ গমকে এক সা‘ খেজুরের সমমান দিতে লাগল। (রাবী নাফি‘ বলেন) ইবনু ‘উমার (রাঃ) খেজুর (সদাকাতুল ফিতর হিসেবে) দিতেন। এক সময় মাদ্বীনায় খেজুর দুর্লভ হলে যব দিয়ে তা আদায় করেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) প্রাপ্ত বয়স্ক ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সকলের পক্ষ হতেই সদাকাতুল ফিত্র আদায় করতেন, এমনকি আমার সন্তানদের পক্ষ হতেও সাদাকার দ্রব্য গ্রহীতাদেরকে দিয়ে দিতেন এবং ঈদের এক-দু’ দিন পূর্বেই আদায় করে দিতেন।
যাকাত অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও প্রাপ্ত বয়স্কদের পক্ষ হতে সদাকাতুল ফিতর আদায় করা কর্তব্য ইবনু ‘উমার (রাঃ)
১৫১২ হাদিস নং
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপ্রাপ্ত বয়স্ক, প্রাপ্ত বয়স্ক, আযাদ ও গোলাম প্রত্যেকের পক্ষ হতে এক সা‘ যব অথবা এক সা‘ খেজুর সদাকাতুল ফিত্র হিসেবে আদায় করা ফরজ করে দিয়েছেন।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হজ্জ ফরয হওয়া ও এর ফযীলত আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
১৫১৩ হাদিস নং
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফযল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) একই বাহনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আরোহণ করেছিলেন। এরপর খাশ‘আম গোত্রের জনৈক মহিলা উপস্থিত হল। তখন ফযল (রাঃ) সেই মহিলার দিকে তাকাতে থাকে এবং মহিলাটিও তার দিকে তাকাতে থাকে। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযলের চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিতে থাকে। মহিলাটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর বান্দার উপর ফার্য (ফরয)কৃত হাজ্জ আমার বয়োঃবৃদ্ধ পিতার উপর ফরজ হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের উপর স্থির থাকতে পারেন না, আমি কি তাঁর পক্ষ হতে হাজ্জ আদায় করবো? তিনি বললেনঃ হাঁ (আদায় কর)। ঘটনাটি বিদায় হাজ্জের সময়ের।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তারা তোমার নিকট আসবে পদব্রজে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উষ্ট্রে আরোহণ করে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে যাতে তারা তাদের কল্যাণময় স্থানগুলোয় উপস্থিত হতে পারে।’’ (আল-হজ্জঃ ২৭) ১৫১৪. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফা নামক স্থানে তাঁর বাহনের উপর আরোহণ করেন, বাহনটি সোজা হয়ে দাঁড়াতেই তিনি তালবিয়া উচ্চারণ করতে থাকেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ)
১৫১৪ হাদিস নং
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফা নামক স্থানে তাঁর বাহনের উপর আরোহণ করেন, বাহনটি সোজা হয়ে দাঁড়াতেই তিনি তালবিয়া উচ্চারণ করতে থাকেন।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তারা তোমার নিকট আসবে পদব্রজে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উষ্ট্রে আরোহণ করে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে যাতে তারা তাদের কল্যাণময় স্থানগুলোয় উপস্থিত হতে পারে।’’ (আল-হজ্জঃ ২৭) জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
১৫১৫ হাদিস নং
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর তাল্বিয়া পাঠ যুল-হুলাইফা হতে আরম্ভ হত যখন তাঁর বাহন তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতো। হাদীসটি আনাস ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন অর্থাৎ ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহ.)-এর সূত্রে জাবির (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) উটের হাওদায় আরোহণ করে হজ্জে গমন। আয়িশাহ্ (রাযি.)
১৫১৬ হাদিস নং
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর সাথে তাঁর ভাই ‘আবদুর রাহমান (রাঃ)-কে প্রেরণ করেন। তিনি ‘আয়িশাহ্কে ‘তান‘ঈম’ নামক স্থান হতে ছোট একটি হাওদায় বসিয়ে ‘উমরাহ করাতে নিয়ে যান। ‘উমার (রাঃ) বলেন, তোমরা হাজ্জে (গমনের উদ্দেশে) উটের পিঠে হাওদা মজবুত করে বাঁধ (সফর কর)। কেননা, হাজ্জও এক প্রকারের জিহাদ।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) উটের হাওদায় আরোহণ করে হজ্জে গমন। সুমামা ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আনাস
১৫১৭ হাদিস নং
সুমামা ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আনাস হতে বর্ণিত যে, আনাস (রাঃ) হাওদায় আরোহণ অবস্থায় হাজ্জে গমন করেছেন অথচ তিনি কৃপণ ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি আরো বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাওদায় আরোহণ করে হজ্জে গমন করেন এবং সেই উটটিই তাঁর মালের বাহন ছিলো।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) উটের হাওদায় আরোহণ করে হজ্জে গমন। আয়িশাহ্ (রাযি.)
১৫১৮ হাদিস নং
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনারা ‘উমরাহ করলেন, আর আমি ‘উমরাহ করতে পারলাম না! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ‘আবদুর রাহমান! তোমার বোন (‘আয়িশা)-কে সাথে করে নিয়ে তান‘ঈম হতে গিয়ে ‘উমরাহ করিয়ে নিয়ে এসো। তিনি ‘আয়িশাকে উটের পিঠে ছোট একটি হাওদার পশ্চাদ্ভাগে বসিয়ে দেন এবং তিনি ‘উমরাহ আদায় করেন।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হজ্জে মাবরুর কবূলকৃত হজ্জের ফযীলত। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
১৫১৯ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বলেনঃ হাজ্জ-ই-মাবরূর (মাকবূল হাজ্জ)।
হাজ্জ (হজ্জ/হজ) হজ্জে মাবরুর কবূলকৃত হজ্জের ফযীলত। উম্মুল মু‘মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)
১৫২০ হাদিস নং
উম্মুল মু‘মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জিহাদকে আমরা সর্বোত্তম ‘আমল মনে করি। কাজেই আমরা কি জিহাদ করবো না? তিনি বললেনঃ না, বরং তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হল, হাজ্জে মাবরূর।