তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

ফিল্টার
মোট: ৩৫০০
পৃষ্ঠা ১৪৮ / ৩৫০
যাকাত চাওয়া হতে বিরত থাকা যুবাইর ইবনু ‘আওয়াম (রাঃ)
১৪৭১ হাদিস নং
যুবাইর ইবনু ‘আওয়াম (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ রশি নিয়ে তার পিঠে কাঠের বোঝা বয়ে আনা এবং তা বিক্রি করা, ফলে আল্লাহ তার চেহারাকে (যাচ্ঞা করার লাঞ্ছনা হতে) রক্ষা করেন, তা মানুষের কাছে সওয়াল করার চেয়ে উত্তম, চাই তারা দিক বা না দিক।
যাকাত চাওয়া হতে বিরত থাকা হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ)
১৪৭২ হাদিস নং
হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট কিছু চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন, আবার চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন, আবার চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন। অতঃপর বললেনঃ হে হাকীম! এই সম্পদ শ্যামল সুস্বাদু। যে ব্যক্তি প্রশস্ত অন্তরে (লোভ ব্যতীত) তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় হয়। আর যে ব্যক্তি অন্তরের লোভসহ তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় করা হয় না। যেন সে এমন ব্যক্তির মত, যে খায় কিন্তু তার ক্ষুধা মেটে না। উপরের হাত নিচের হাত হতে উত্তম। হাকীম (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, তাঁর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! আপনার পর মৃত্যু পর্যন্ত (সওয়াল করে) আমি কাউকে সামান্যতমও ক্ষতিগ্রস্ত করবো না। এরপর আবূ বকর (রাঃ) হাকীম (রাঃ)-কে অনুদান গ্রহণের জন্য ডাকতেন, কিন্তু তিনি তাঁর কাছ হতে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করতেন। অতঃপর ‘উমর (রাঃ) (তাঁর যুগে) তাঁকে কিছু দেয়ার জন্য ডাকলেন। তিনি তাঁর কাছ হতেও কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, মুসলিমগণ! হাকীম (রহ.)-এর ব্যাপারে আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি। আমি তাঁর এই গনীমত হতে তাঁর প্রাপ্য পেশ করেছি, কিন্তু সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। (সত্য সত্যই) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পর হাকীম (রাঃ) মৃত্যু অবধি কারো নিকট কিছু চেয়ে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করেননি।
যাকাত যাকে আল্লাহ সওয়াল ও অন্তরের লোভ ব্যতীত কিছু দান করেন। আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
১৪৭৩ হাদিস নং
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু দান করতেন, তখন আমি বলতাম, যে আমার চেয়ে বেশি অভাবগ্রস্ত, তাকে দিন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ তা গ্রহণ কর। যখন তোমার কাছে এসব মালের কিছু আসে অথচ তার প্রতি তোমার অন্তরের লোভ নেই এবং তার জন্য তুমি প্রার্থী নও, তখন তা তুমি গ্রহণ করবে। এরূপ না হলে তুমি তার প্রতি অন্তর ধাবিত করবে না।
যাকাত সম্পদ বাড়ানোর জন্য যে মানুষের কাছে সওয়াল করে। আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
১৪৭৪ হাদিস নং
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সব সময় মানুষের কাছে চেয়ে থাকে, সে কিয়ামতের দিন এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় কোন গোশ্ত থাকবে না।
যাকাত সম্পদ বাড়ানোর জন্য যে মানুষের কাছে সওয়াল করে। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১৪৭৫ হাদিস নং
তিনি আরো বলেনঃ কিয়ামতের দিন সূর্য তাদের অতি কাছে আসবে, এমনকি ঘাম কানের অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছবে। যখন তারা এই অবস্থায় থাকবে, তখন তারা সাহায্য চাইবে আদম (‘আ.)-এর কাছে, অতঃপর মূসা (‘আ.)-এর কাছে, তারপর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে। ‘আবদুল্লাহ (রহ.) লায়স (রহ.)-এর মাধ্যমে ইবনু আবূ জা‘ফর (রহ.) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টির মধ্যে ফয়সালা করার জন্য সুপারিশ করবেন। তিনি যেতে যেতে জান্নাতের ফটকের কড়া ধরবেন। সেদিন আল্লাহ তাঁকে মাকামে মাহমূদে পৌঁছে দিবেন। হাশরের ময়দানে সমবেত সকলেই তাঁর প্রশংসা করবে। রাবী মু‘আল্লা (রহ.)...ইবনু ‘উমার (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ভিক্ষাবৃত্তি সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
যাকাত মহান আল্লাহর বাণীঃ তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে যাচ্ঞা করে না- (আল-বাকারাঃ ২৭৩)। আর ধনী হওয়ার পরিমাণ কত? আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
১৪৭৬ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে ব্যক্তি প্রকৃত মিসকীন নয়, যাকে এক দু’ লোকমা ফিরিয়ে দেয় (যথেষ্ট হয়) বরং সে-ই প্রকৃত মিসকীন যার কোন সম্পদ নেই, অথচ সে (চাইতে) লজ্জাবোধ করে অথবা লোকদেরকে আঁকড়ে ধরে যাচ্ঞা করে না।
যাকাত হান আল্লাহর বাণীঃ তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে যাচ্ঞা করে না- (আল-বাকারাঃ ২৭৩)। আর ধনী হওয়ার পরিমাণ কত? শা‘বী (রহ.)
১৪৭৭ হাদিস নং
শা‘বী (রহ.) হতে বর্ণিত যে, মুগীরা ইবনু শু‘বাহ্ (রহ.)-এর কাতিব (একান্ত সচিব) বলেছেন, মু‘আবিয়া (রাঃ) মুগীরা ইবনু শু‘বাহ্ (রাঃ)-এর কাছে লিখে পাঠালেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছ হতে আপনি যা শুনেছেন তার কিছু আমাকে লিখে জানান। তিনি তাঁর কাছে লিখলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তোমাদের তিনটি কাজ অপছন্দ করেন- (১) অনর্থক কথাবার্তা, (২) সম্পদ নষ্ট করা এবং (৩) অত্যধিক সওয়াল করা।
যাকাত মহান আল্লাহর বাণীঃ তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে যাচ্ঞা করে না- (আল-বাকারাঃ ২৭৩)। আর ধনী হওয়ার পরিমাণ কত? সা‘দ ইবনু আবূ ওক্কাস (রাঃ)
১৪৭৮ হাদিস নং
সা‘দ ইবনু আবূ ওক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোককে কিছু দান করলেন। আমি তাদের মধ্যে উপবিষ্ট ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তিকে কিছুই দিলেন না। অথচ সে ছিল আমার বিবেচনায় তাদের মধ্যে সবচাইতে উত্তম। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গিয়ে চুপে চুপে বললাম, অমুক সম্পর্কে আপনার কী হলো? আমি তো তাকে অবশ্য মু’মিন বলে মনে করি। তিনি বললেনঃ বরং মুসলিম (বল)। সা’দ (রাঃ) বলেন, এরপর আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। আবার তার সম্পর্কে আমার ধারণা প্রবল হয়ে উঠলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক সম্পর্কে আপনার কী হলো? আল্লাহর কসম! আমি তো তাকে মু’মিন বলে মনে করি। তিনি বললেনঃ বরং মুসলিম। এবারও কিছুক্ষণ নীরব রইলাম। আবার তার সম্পর্কে আমার ধারণা প্রবল হয়ে উঠলে আমি বললাম, অমুক সম্পর্কে আপনার কী হলো? আল্লাহর কসম! আমি তো তাকে মু’মিন বলে মনি করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অথবা মুসলিম! এভাবে তিনবার বললেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি একজনকে দিয়ে থাকি অথচ অন্য ব্যক্তি আমার কাছে অধিক প্রিয় এই আশঙ্কায় যে, তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অপর সনদে ইসমাঈল ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে এভাবে বলতে শুনেছি, তিনি হাদীসটি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাঁধে হাত রাখলেন, এরপর বললেন, হে সা‘দ! অগ্রসর হও। আমি সে লোকটিকে (এখন) অবশ্যই দিব। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন,(فَكُبْكِبُوْا) অর্থ ‘‘উল্টিয়ে দেয়া হয়েছে।’’ (আল-ইসরা/বনী ইসরাঈলঃ ৯৪) (مُكِبً) আরবী বাগধারা অনুসারে أَكَبِّ الرَّجُلُ হতে গৃহীত হয়েছে অর্থাৎ কর্তার কর্ম যখন কারো প্রতি না বর্তায় তখনই এরূপ বলা হয়ে থাকে। আর যদি কর্ম কারোর উপর বর্তায়, তখন বলা হয় كَبَّهُ اللهُ لِوَجْهِهِ ও كَبَبْتُهُ أَنَا।
যাকাত মহান আল্লাহর বাণীঃ তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে যাচ্ঞা করে না- (আল-বাকারাঃ ২৭৩)। আর ধনী হওয়ার পরিমাণ কত? আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
১৪৭৯ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রকৃত মিসকীন সে নয় যে মানুষের কাছে ভিক্ষার জন্য ঘুরে বেড়ায় এবং এক-দু’ লুকমা অথবা এক-দু’টি খেজুর পেলে ফিরে যায় বরং প্রকৃত মিসকীন সেই ব্যক্তি, যার এতটুকু সম্পদ নেই যাতে তার প্রয়োজন মিটতে পারে এবং তার অবস্থা সেরূপ বোঝা যায় না যে, তাকে দান খয়রাত করা যাবে আর সে মানুষের কাছে যাচ্ঞা করে বেড়ায় না।
যাকাত মহান আল্লাহর বাণীঃ তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে যাচ্ঞা করে না- (আল-বাকারাঃ ২৭৩)। আর ধনী হওয়ার পরিমাণ কত? আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
১৪৮০ হাদিস নং
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি রশি নিয়ে সকাল বেলা বের হয়, (রাবী বলেন) আমার ধারণা যে, তিনি বলেছেন, পাহাড়ের দিকে, অতঃপর লাকড়ী সংগ্রহ করে এবং তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে এবং দানও করে, তা তার পক্ষে লোকের কাছে যাঞ্চা করার চেয়ে উত্তম।