তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: যাকাত | উপ-অধ্যায়: ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত স্ত্রী তার স্বামীর গৃহ (সম্পদ) হতে কিছু সদাকাহ প্রদান করলে বা আহার করালে স্ত্রী এর প্রতিদান পাবে। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৪৪১): আয়িশাহ্ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত স্ত্রী তার ঘরের খাদ্য সামগ্রী হতে সাদাকা করলে সে এর সওয়াব পাবে। উপার্জন করার কারণে স্বামীও সওয়াব পাবে এবং খাজাঞ্চীও সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।
অধ্যায়: যাকাত | উপ-অধ্যায়: আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ অতঃপর যে ব্যক্তি দান করেছে এবং আল্লাহকে ভয় করেছে আর ভাল কথাকে সত্য বলে বুঝেছে, তবে আমি তাকে শান্তির উপকরণ প্রদান করব। আর যে ব্যক্তি কার্পণ্য করেছে এবং বেপরোয়া হয়েছে আর ভাল কথাকে অবিশ্বাস করেছে, ফলতঃ আমি তাকে ক্লেশদায়ক বস্তুর জন্য আসবাব প্রদান করব। (আল-লাইলঃ ৫-৯) হে আল্লাহ! তার দানে উত্তম প্রতিদান দিন | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৪২): আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন।
অধ্যায়: যাকাত | উপ-অধ্যায়: সদাকাহকারী ও কৃপণের উপমা। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৪৩): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ কৃপণ ও সাদাকা দানকারীর দৃষ্টান্ত এমন দু’ ব্যক্তির মত যাদের পরিধানে দু’টি লোহার বর্ম রয়েছে। অপর সনদে আবুল ইয়ামান (রহ.)....আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন, কৃপণ ও সাদাকা দানকারীর দৃষ্টান্ত এমন দু’ব্যক্তির মত, যাদের পরিধানে দু’টি লোহার বর্ম রয়েছে যা তাদের বুক হতে কাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত। দাতা ব্যক্তি যখন দান করে তখন বর্মটি তার সম্পূর্ণ দেহ পর্যন্ত প্রশস্ত হয়ে যায়। এমনকি হাতের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলে ও (পায়ের পাতা পর্যন্ত ঝুলন্ত বর্ম) পদচিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ ব্যক্তি যখন যৎসামান্যও দান করতে চায়, তখন যেন বর্মের প্রতিটি আংটা যথাস্থানে সেঁটে যায়, সে তা প্রশস্ত করতে চেষ্টা করলেও তা প্রশস্ত হয় না। হাসান ইবনু মুসলিম (রহ.) তাউস (রহ.) হতে الْجُبَّتَيْنِ শব্দটির বর্ণনায় ইবনু তাউস (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন।
অধ্যায়: যাকাত | উপ-অধ্যায়: সদাকাহকারী ও কৃপণের উপমা। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৪৪): হানযালা (রহ.) তাউস (রহ.) হতে جُنَّتَانِ উল্লেখ করেছেন। লায়স (রহ.) আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে جُنَّتَانِ (ঢাল) শব্দের উল্লেখ রয়েছে।
অধ্যায়: যাকাত | উপ-অধ্যায়: সদাকাহ করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। কারো কাছে সদাকাহ করার মত কিছু না থাকলে সে যেন নেক কাজ করে। | বর্ণনাকারী: আবূ মূসা আল- আশ'আরী (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৪৫): আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ প্রতিটি মুসলিমের সাদাকা করা উচিত। সাহাবীগণ আরয করলেন, কেউ যদি সাদাকা দেয়ার মত কিছু না পায়? (তিনি উত্তরে) বললেনঃ সে ব্যক্তি নিজ হাতে কাজ করবে এতে নিজেও লাভবান হবে, সাদাকাও করতে পারবে। তাঁরা বললেন, যদি এরও ক্ষমতা না থাকে? তিনি বললেনঃ কোন বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করবে। তাঁরা বললেন, যদি এতটুকুরও সামর্থ্য না থাকে? তিনি বললেনঃ এ অবস্থায় সে যেন সৎ ‘আমল করে এবং অন্যায় কাজ হতে বিরত থাকে। এটা তার জন্য সাদাকা বলে গণ্য হবে।
অধ্যায়: যাকাত | উপ-অধ্যায়: যাকাত ও সদাকাহ দানের পরিমাণ কত হবে এবং যে ব্যক্তি বকরী সদাকাহ করে | বর্ণনাকারী: উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাযি.)
হাদিস নং (১৪৪৬): উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নুসায়বা নাম্নী আনসারী মহিলার জন্য একটি বকরী (সাদাকা স্বরূপ) পাঠানো হলো। তিনি বকরীর কিছু অংশ ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) -কে (হাদিয়া[1] স্বরূপ) পাঠিয়ে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কাছে (আহার্য) কিছু আছে কি? ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, নুসায়বা কর্তৃক প্রেরিত সেই বকরীর মাংস ব্যতীত আর কিছুই নেই। তখন তিনি বললেনঃ তাই নিয়ে এসো, কেননা বকরীর (সাদাকা) যথাস্থানে পৌঁছে গেছে (সাদাকা গ্রহীতার নিকট)।
অধ্যায়: যাকাত | উপ-অধ্যায়: রৌপ্যের যাকাত। | বর্ণনাকারী: আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৪৭): আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচের কম সংখ্যক উটের[1] উপর যাকাত নেই, পাঁচ উকিয়া-এর কম পরিমাণ রূপার উপর যাকাত নেই এবং পাঁচ ওয়াসক-এর কম পরিমাণ উৎপন্ন দ্রব্যের উপর সাদাকা (উশর) নেই। আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসটি শুনেছি।
অধ্যায়: যাকাত | উপ-অধ্যায়: পণ্যদ্রব্যের যাকাত আদায় করা। | বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৪৮): আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ বকর (রাঃ) আনাস (রাঃ)-এর কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আল্লাহ তা‘আলা যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন সে সম্পর্কে লিখে জানালেন, যে ব্যক্তির উপর যাকাত হিসেবে বিনতে মাখায[1] ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে তা নেই বরং বিনত্ লাবূন[2] রয়েছে, তা হলে তা-ই (যাকাত স্বরূপ) গ্রহণ করা হবে। এ অবস্থায় যাকাত আদায়কারী যাকাত দাতাকে বিশটি দিরহাম বা দু’টি বকরী দিবে। আর যদি বিনতে মাখায না থাকে বরং ইবনু লাবূন থাকে তা হলে তা-ই গ্রহণ করা হবে। এমতাবস্থায় আদায়কারীর যাকাত দাতাকে কিছু দিতে হবে না।
অধ্যায়: যাকাত | উপ-অধ্যায়: পণ্যদ্রব্যের যাকাত আদায় করা। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৪৯): ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুত্বা প্রদানের পূর্বেই (ঈদের) সালাত আদায় করেন, এরপর বুঝতে পারলেন যে, (সকলের পিছনে থাকা বিধায়) নারীদেরকে খুত্বার আওয়াজ পৌঁছাতে পারেননি। তাই তিনি নারীদের নিকট আসলেন, তাঁর সাথে বিলাল (রাঃ) ছিলেন। তিনি একখন্ড বস্ত্র প্রসারিত করে ধরলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে উপদেশ দিলেন ও সাদাকা করতে আদেশ করলেন। তখন মহিলাগণ তাদের (অলংকারাদি) ছুঁড়ে মারতে লাগলেন। (রাবী) আইয়ুব (রহ.) তার কান ও গলার দিকে ইঙ্গিত করে (মহিলাগণের অলংকারাদি দান করার বিষয়) দেখালেন।
অধ্যায়: যাকাত | উপ-অধ্যায়: আলাদা আলাদা সম্পদকে একত্রিত করা যাবে না। আর একত্রিতগুলো আলাদা করা যাবে না | বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৫০): আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন তা আবূ বকর (রাঃ) তাঁর নিকট লিখে পাঠান, যাকাতের (পরিমাণ কম-বেশি হওয়ার) আশংকায় বিচ্ছিন্ন [1] (প্রাণী)-গুলোকে একত্রিত করা যাবে না এবং একত্রিতগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।