অধ্যায়: যাকাত |
উপ-অধ্যায়: সদাকাহ দেয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান ও সুপারিশ করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৩১):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন বের হলেন এবং দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, এর আগে ও পরে কোন সালাত আদায় করেননি। এরপর তিনি বিলাল (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে মহিলাদের কাছে গেলেন। তাদের উপদেশ দিলেন এবং সাদাকা করার নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলাগণ কানের দুল ও হাতের কংকন ছুঁড়ে মারতে লাগলেন।
|
অধ্যায়: যাকাত |
উপ-অধ্যায়: সদাকাহ দেয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান ও সুপারিশ করা। |
বর্ণনাকারী: আবূ মূসা (আশ‘আরী) (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৩২):
আবূ মূসা (আশ‘আরী) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট কেউ কিছু চাইলে বা প্রয়োজনীয় কিছু চাওয়া হলে তিনি বলতেনঃ তোমরা সুপারিশ কর সওয়াব প্রাপ্ত হবে, আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা তাঁর নবীর মুখে চূড়ান্ত করেন।
|
অধ্যায়: যাকাত |
উপ-অধ্যায়: সদাকাহ দেয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান ও সুপারিশ করা। |
বর্ণনাকারী: আসমা (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৩৩):
আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি (সম্পদ কমে যাওয়ার আশঙ্কায়) সাদাকা দেয়া বন্ধ করবে না। অন্যথায় তোমার জন্যও আল্লাহ কর্তৃক দান বন্ধ করে দেয়া হবে।
‘আব্দা (রহ.) হতে বর্ণিত যে, [পূর্বোক্ত সূত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন] তুমি (সম্পদ) গণনা করে জমা রেখো না, (এরূপ করলে) আল্লাহ তোমার রিযক বন্ধ করে দিবেন।
|
অধ্যায়: যাকাত |
উপ-অধ্যায়: সাধ্যানুসারে সদাকাহ করা। |
বর্ণনাকারী: আসমা বিনতু আবূ বকর (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৩৪):
আসমা বিনতু আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তাঁকে বললেনঃ তুমি সম্পদ জমা করে রেখো না, এরূপ করলে আল্লাহ তোমা হতে তা আটকে রাখবেন। কাজেই সাধ্যানুসারে দান করতে থাক।
|
অধ্যায়: যাকাত |
উপ-অধ্যায়: সদাকাহ গুনাহ মিটিয়ে দেয়। |
বর্ণনাকারী: হুযাইফা (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৩৫):
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বললেন, তোমাদের মধ্যে কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ফিতনা সম্পর্কিত হাদীস মনে রেখেছ? হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে বলেছেন, আমি ঠিক সেভাবেই তা স্মরণ রেখেছি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি [আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে] বড় দুঃসাহসী ছিলে, তিনি কিভাবে বলেছেন (বলতো)? তিনি বলেন, আমি বললাম, (হাদীসটি হলোঃ) মানুষ পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি ও প্রতিবেশি নিয়ে ফিতনায় পতিত হবে আর সালাত, সাদাকা ও নেক কাজ সেই ফিতনা মুছে দিবে। সুলাইমান [অর্থাৎ ‘আমাশ (রহ.)] বলেন, আবূ ওয়াইল কোন কোন সময় সালাত, সাদাকা ও সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করতে বলতেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি এ ধরনের ফিতনার কথা অবগত হতে চাইনি, বরং যে ফিতনা সাগরের ঢেউয়ের মত প্রবল বেগে ছুটে আসবে। হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আমীরুল মু‘মিনীন! আপনার জীবনকালে ঐ ফিতনার কোন ভয় নেই। সেই ফিতনা ও আপনার মাঝে বদ্ধ দরজা রয়েছে। ‘উমার (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, দরজা কি ভেঙ্গে দেয়া হবে না কি খুলে দেয়া হবে? হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, না বরং ভেঙ্গে দেয়া হবে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, দরজা ভেঙ্গে দেয়া হলে কোন দিন তা আর বন্ধ করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, আমি বললাম, সত্যই বলেছেন। আবূ ওয়াইল (রাঃ) বলেন, দরজা বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে- এ কথা হুযাইফাহ (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করে জানতে আমরা কেউ সাহসী হলাম না। তাই প্রশ্ন করতে মাসরূককে অনুরোধ করলাম। মাসরূক (রহ.) হুযাইফাহ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করায় তিনি উত্তর দিলেনঃ দরজা হলেন ‘উমার (রাঃ)। আমরা বললাম, আপনি দরজা বলে যাকে উদ্দেশ্য করেছেন, ‘উমর (রাঃ) কি তা অনুধাবন করতে পেরেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, আগামীকালের পূর্বে রাতের আগমন যেমন সুনিশ্চিত (তেমনি নিঃসন্দেহে তিনি তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন)। এর কারণ হলো, আমি তাঁকে এমন হাদীস বর্ণনা করেছি, যাতে কোন ভুল ছিল না।
|
অধ্যায়: যাকাত |
উপ-অধ্যায়: মুশরিক থাকাকালে সদাকাহ করার পর যে ইসলাম গ্রহণ করে (তার সদাকাহ কবূল হবে কি না) |
বর্ণনাকারী: হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৩৬):
হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান আনয়নের পূর্বে (সওয়াব লাভের উদ্দেশে) আমি সাদাকা প্রদান, দাসমুক্ত করা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার ন্যায় যত কাজ করেছি সেগুলোতে সওয়াব হবে কি? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি যে সব ভালো কাজ করেছ তা নিয়েই ইসলাম গ্রহণ করেছ (তুমি সেসব কাজের সওয়াব পাবে)।
|
অধ্যায়: যাকাত |
উপ-অধ্যায়: মালিকের নির্দেশে ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত খাদিমের সদাকাহ করার প্রতিদান |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৪৩৭):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্ত্রী তার স্বামীর খাদ্য সামগ্রী হতে বিপর্যয়ের উদ্দেশ্য ব্যতীত সাদাকা করলে সে সাদাকা করার সওয়াব পাবে, উপার্জন করার কারণে স্বামীও এর সওয়াব পাবে এবং খাজাঞ্চীও অনুরূপ সওয়াব পাবে।
|
অধ্যায়: যাকাত |
উপ-অধ্যায়: মালিকের নির্দেশে ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত খাদিমের সদাকাহ করার প্রতিদান |
বর্ণনাকারী: আবূ মূসা (রাঃ)
হাদিস নং (১৪৩৮):
আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যে বিশ্বস্ত মুসলিম খাজাঞ্চী (আপন মালিক কর্তৃক) নির্দেশিত পরিমাণ সাদাকার সবটুকুই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সানন্দচিত্তে আদায় করে, কোন কোন সময় তিনি ‘‘يُنَفِّذٌ (বাস্তবায়িত করে) শব্দের স্থলে يُعْطِيْ (আদায় করে) শব্দ বলেছেন, সে খাজাঞ্চীও নির্দেশদাতার ন্যায় সাদাকা দানকারী হিসেবে গণ্য।
|
অধ্যায়: যাকাত |
উপ-অধ্যায়: ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত স্ত্রী তার স্বামীর গৃহ (সম্পদ) হতে কিছু সদাকাহ প্রদান করলে বা আহার করালে স্ত্রী এর প্রতিদান পাবে। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৪৩৯):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, স্ত্রী তার স্বামীর ঘর হতে কাউকে কিছু সাদাকা করলে (স্ত্রী এর সওয়াব পাবে)।
|
অধ্যায়: যাকাত |
উপ-অধ্যায়: ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত স্ত্রী তার স্বামীর গৃহ (সম্পদ) হতে কিছু সদাকাহ প্রদান করলে বা আহার করালে স্ত্রী এর প্রতিদান পাবে। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৪৪০):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত স্ত্রী তার স্বামীর গৃহ হতে কাউকে কিছু আহার করালে স্ত্রী এর সওয়াব পাবে স্বামীও সমপরিমাণ সওয়াব পাবে এবং খাজাঞ্চীও সেই পরিমাণ সওয়াব পাবে। স্বামী উপার্জন করার কারণে আর স্ত্রী দান করার কারণে সওয়াব পাবে।
|