তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: ক্ববরের ‘আযাব সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৩৭১): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, নিশ্চয়ই তারা এখন ভালভাবে জানতে (ও বুঝতে) পেরেছে যে, (কবর আযাব প্রসঙ্গে) আমি তাদের যা বলতাম তা বাস্তব। আল্লাহ্ তা‘আলা ঘোষণা করেছেনঃ ‘‘আপনি (হে নবী!) নিশ্চিতই মৃতদের (কোন কথা) শোনাতে পারেন না’’- (আন্-নামালঃ ৮০)।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: ক্ববরের ‘আযাব সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৩৭২): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, এক ইয়াহুদী স্ত্রীলোক ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর কাছে এসে কবর আযাব সম্পর্কে আলোচনা করে তাঁকে (দু‘আ করে) বলল, আল্লাহ্ আপনাকে কবর আযাব হতে রক্ষা করুন! পরে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) কবর আযাব সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেনঃ হাঁ, কবর আযাব (সত্য)। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, এরপর থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এমন কোন সালাত আদায় করতে আমি দেখিনি, যাতে তিনি কবর আযাব হতে আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেননি। [এ হাদীসের বর্ণনায়] গুণদার (রহ.) অধিক উল্লেখ করেছেন যে, ‘কবর ‘আযাব একেবারে বাস্তব’।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: ক্ববরের ‘আযাব সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে। | বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনু যুবাইর (রাঃ)
হাদিস নং (১৩৭৩): উরওয়া ইবনু যুবাইর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি আসমা বিনত আবূ বকর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) দাঁড়িয়ে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন তাতে তিনি কবরে মানুষ যে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, তার বর্ণনা দিলে মুসলিমগণ ভয়ার্ত চিৎকার করতে লাগলেন।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: ক্ববরের ‘আযাব সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (১৩৭৪): আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সাথীরা এতটুকু মাত্র দূরে যায় যে, সে তখনও তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। [1] এ সময় দু’জন ফেরেশ্তা তার নিকট এসে তাকে বসান এবং তাঁরা বলেন, এ ব্যক্তি অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তুমি কী বলতে? তখন মু’মিন ব্যক্তি বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহ্‌র বান্দা এবং তাঁর রাসূল। তখন তাঁকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থান স্থলটির দিকে নযর কর, আল্লাহ্ তোমাকে তার বদলে জান্নাতের একটি অবস্থান স্থল দান করেছেন। তখন সে দু’টি স্থলের দিকেই দৃষ্টি করে দেখবে। কাতাদাহ (রহ.) বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, সে ব্যক্তির জন্য তাঁর কবর প্রশস্ত করে দেয়া হবে। অতঃপর তিনি (কাতাদাহ) পুনরায় আনাস (রাঃ)-এর হাদীসের বর্ণনায় ফিরে আসেন। তিনি [(আনাস) (রাঃ)] বলেন, আর মুনাফিক বা কাফির ব্যক্তিকেও প্রশ্ন করা হবে তুমি এ ব্যক্তি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কী বলতে? সে উত্তরে বলবে, আমি জানি না। লোকেরা যা বলত আমি তা-ই বললাম। তখন তাকে বলা হবে, তুমি না নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। আর তাকে লোহার মুগুর দ্বারা এমনভাবে আঘাত করা হবে, যার ফলে সে এমন বিকট চিৎকার করে উঠবে যে, দু’ জাতি (মানুষ ও জ্বিন) ছাড়া তার আশপাশের সকলেই তা শুনতে পাবে।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: ক্ববরের ‘আযাব হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা। | বর্ণনাকারী: আবূ আইয়ুব [আনসারী (রা.)]
হাদিস নং (১৩৭৫): আবূ আইয়ুব [আনসারী (রা.)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) সূর্য ডুবে যাওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন। তখন তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে বলেনঃ ইয়াহূদীদের কবরে আযাব দেয়া হচ্ছে। (এটা আযাব দেয়ার বা আযাবের ফেরেশ্তাগণের বা ইয়াহূদীদের আওয়ায।) [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] নযর (রহ.).....আবূ আইয়ুব (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে (অনুরূপ) বলেছেন।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: ক্ববরের ‘আযাব হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা। | বর্ণনাকারী: খালিদ ইবনু সাঈদ ইবনু ‘আস (রাঃ)
হাদিস নং (১৩৭৬): খালিদ ইবনু সাঈদ ইবনু ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবরের শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছেন।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: ক্ববরের ‘আযাব হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (১৩৭৭): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করতেন, হে আল্লাহ্! আমি আপনার সমীপে পানাহ চাচ্ছি কবরের শাস্তি হতে, জাহান্নামের শাস্তি হতে, জীবন ও মরণের ফিতনা হতে এবং মাসীহ্ দাজ্জাল এর ফিতনা হতে।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: গীবত এবং পেশাবে অসাবধানতার কারণে ক্ববরের ‘আযাব। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৩৭৮): ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন ঐ দু’জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে আর কোন কঠিন কাজের কারণে তাদের আযাব দেয়া হচ্ছে না। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হাঁ (আযাব দেয়া হচ্ছে) তবে তাদের একজন পরনিন্দা করে বেড়াত, অন্যজন তার পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না। (রাবী বলেন) অতঃপর তিনি একটি তাজা ডাল নিয়ে তা দু’খন্ডে ভেঙ্গে ফেললেন। অতঃপর সে দু’ খন্ডের প্রতিটি এক এক কবরে পুঁতে দিলেন। অতঃপর বললেনঃ আশা করা যায় যে এ দু’টি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের উভয়ের ‘আযাব হালকা করা হবে।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: মৃত ব্যক্তির সম্মুখে সকাল ও সন্ধ্যায় (জান্নাত ও জাহান্নামে তার আবাসস্থল) পেশ করা হয়। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (১৩৭৯): আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মারা গেলে অবশ্যই তার সামনে সকাল ও সন্ধ্যায় তার অবস্থান স্থল উপস্থাপন করা হয়। যদি সে জান্নাতী হয়, তবে (অবস্থান স্থল) জান্নাতীদের মধ্যে দেখানো হয়। আর সে জাহান্নামী হলে, তাকে জাহান্নামীদের (অবস্থান স্থল দেখানো হয়) আর তাকে বলা হয়, এ হচ্ছে তোমার অবস্থান স্থল, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে আল্লাহ্ তোমাকে পুনরুত্থিত করা অবধি।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: খাটিয়ার উপর থাকাকালীন মৃতের কথা বলা। | বর্ণনাকারী: আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)
হাদিস নং (১৩৮০): আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে খাটিয়ায় রেখে লোকেরা যখন কাঁধে বহন করে নিয়ে যায় তখন সে নেক্কার হলে বলতে থাকে, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চল, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চল; আর সে নেক্কার না হলে বলতে থাকে হায় আফসোস! এটাকে নিয়ে তোমরা কোথায় যাচ্ছ? মানুষ ব্যতীত সব কিছুই তার এ আওয়াজ শুনতে পায়। মানুষেরা তা শুনতে পেলে অবশ্যই অজ্ঞান হয়ে পড়ত।