তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: বিপদের সময় দুঃখ প্রকাশ না করা। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (১৩০১): আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহাহ্ (রাঃ)-এর এক পুত্র অসুস্থ হয়ে পড়ল। বর্ণনাকারী বলেন, তার মৃত্যু হলো। তখন আবূ তালহাহ্ (রাঃ) বাড়ির বাইরে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী যখন দেখলেন যে, ছেলেটি মারা গেছে, তখন তিনি কিছু প্রস্তুতি নিলেন এবং ছেলেটিকে ঘরের এক কোণে রেখে দিলেন। আবূ তালহাহ্ (রাঃ) বাড়িতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ছেলের অবস্থা কেমন? স্ত্রী জওয়াব দিলেন, তার আত্মা শান্ত হয়েছে এবং আশা করি সে এখন আরাম পাচ্ছে। আবূ তালহাহ্ (রাঃ) ভাবলেন, তাঁর স্ত্রী সত্য বলেছেন। রাবী বলেন, তিনি রাত যাপন করলেন এবং ভোরে গোসল করলেন। তিনি বাইরে যেতে উদ্যত হলে স্ত্রী তাঁকে জানালেন, ছেলেটি মারা গেছে। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে (ফজরের) সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁদের রাতের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ আশা করা যায়, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের এ রাতে বারকাত দিবেন। সুফইয়ান (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, আমি আবূ তালহাহ্ (রাঃ) দম্পতির নয় জন সন্তান দেখেছি, তাঁরা সবাই কুরআন পাঠ করেছে।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: মুসীবতের প্রথম অবস্থায়ই প্রকৃত সবর। | বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (১৩০২): আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিপদের প্রথম অবস্থায়ই প্রকৃত সবর।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণীঃ তোমার জন্য আমরা অবশ্যই শোকাভিভূত। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (১৩০৩): আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আবূ সায়ফ্ কর্মকারের নিকট গেলাম। তিনি ছিলেন (নবী-তনয়) ইব্রাহীম (রাঃ)-এর দুধ সম্পর্কীয় পিতা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইব্রাহীম (রাঃ)-কে তুলে নিয়ে চুমু খেলেন এবং নাকে-মুখে লাগালেন। অতঃপর (আরেক বার) আমরা তার (আবূ সায়ফ্-এর) বাড়িতে গেলাম। তখন ইব্রাহীম (রাঃ) মুমূর্ষু অবস্থায়। এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উভয় চক্ষু হতে অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আর আপনিও? (ক্রন্দন করছেন?) তখন তিনি বললেনঃ অশ্রু প্রবাহিত হয় আর হৃদয় হয় ব্যথিত। তবে আমরা মুখে তা-ই বলি যা আমাদের রব পছন্দ করেন।[1] আর হে ইব্রাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা অবশ্যই শোকসন্তপ্ত। [2] رَوَاهُ مُوسَى عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ المُغِيرَةِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم মূসা (রহ.)....আনাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি বর্ণনা করেন।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: রোগাক্রান্ত ব্যক্তির নিকট কান্নাকাটি করা। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (১৩০৪): আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলে, সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) রোগাক্রান্ত হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু ‘আওফ‘ সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে দেখতে আসলেন। তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে পরিজনের মাঝে দেখতে পেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, তার কি মৃত্যু হয়েছে! তাঁরা বললেন, না। হে আল্লাহর রাসূল! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেঁদে ফেললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কান্না দেখে উপস্থিত লোকেরা কাঁদতে লাগলেন। তখন তিনি ইরশাদ করলেনঃ শুনে রাখ! নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তা‘আলা চোখের পানি ও অন্তরের শোক-ব্যথার কারণে ‘আযাব দিবেন না। তিনি ‘আযাব দিবেন এর কারণে (এ বলে) জিহ্বার দিকে ইঙ্গিত করলেন। অথবা এর কারণেই তিনি রহম করে থাকেন। আর নিশ্চয় মৃত ব্যক্তিকে তার পরিজনের বিলাপের কারণে ‘আযাব দেয়া হয়। ‘উমার (রাঃ) এ (ধরনের কান্নার) কারণে লাঠি দ্বারা আঘাত করতেন, কঙ্কর নিক্ষেপ করতেন বা মুখে মাটি পুরে দিতেন।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: (সরবে) কাঁদা ও বিলাপ নিষিদ্ধ হওয়া এবং তাতে বাধা প্রদান করা। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৩০৫): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মুতার যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে) যায়দ ইবনু হারিসাহ, জা‘ফর এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাতের খবর পৌঁছলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে পড়লেন; তাঁর মধ্যে শোকের আলামত প্রকাশ পেল। আমি [‘আয়িশাহ (রাযি.)] দরজার ফাঁক দিয়ে ঝুঁকে তা দেখছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে সম্বোধন করেন, হে আল্লাহর রাসূল! জা‘ফর (রাঃ)-এর (পরিবারের) মহিলাগণ কান্নাকাটি করছে। তিনি তাদের নিষেধ করার জন্য তাকে আদেশ করলেন। সেই ব্যক্তি চলে গেলেন। পরে এসে বললেন, আমি তাদের নিষেধ করেছি। তিনি উল্লেখ করলেন যে, তারা তাকে মানেনি। তিনি তাদের নিষেধ করার জন্য দ্বিতীয়বার তাকে নির্দেশ দিলেন। তিনি চলে গেলেন এবং আবার এসে বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! অবশ্যই তাঁরা আমাকে (বা বলেছেন আমাদেরকে) হার মানিয়েছে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হলে তাঁদের মুখে মাটি ছুঁড়ে মারো। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন] আমি বললাম, আল্লাহ্ তোমার নাক ধূলি মিশ্রিত করুন। আল্লাহ্‌র কসম! তোমাকে যে কাজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা করতে পারছ না আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বিরক্ত করতেও ছাড়ছ না।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: (সরবে) কাঁদা ও বিলাপ নিষিদ্ধ হওয়া এবং তাতে বাধা প্রদান করা। | বর্ণনাকারী: উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১৩০৬): উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাই‘আত গ্রহণকালে আমাদের কাছ হতে এ অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, আমরা (কোন মৃতের জন্য) বিলাপ করব না। ....আমাদের মধ্য হতে পাঁচজন মহিলা উম্মু সুলাইম, উম্মুল ‘আলা, আবূ সাব্রাহর কন্যা মু‘আযের স্ত্রী, আরো দু’জন মহিলা বা মু‘আযের স্ত্রী ও আরেকজন মহিলা ব্যতীত কোন নারীই সে ওয়াদা রক্ষা করেনি।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: জানাযার জন্য দন্ডায়মান হওয়া। | বর্ণনাকারী: আমির ইবনু রাবী‘আহ (রাঃ)
হাদিস নং (১৩০৭): আমির ইবনু রাবী‘আহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা জানাযা দেখলে তা তোমাদের পিছনে ফেলে যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকবে। হুমাইদী আরও উল্লেখ করেছেন, তা তোমাদের পশ্চাতে ফেলে যাওয়া বা মাটিতে নামিয়ে রাখা পর্যন্ত।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: জানাযার জন্য দাঁড়ালে কখন বসবে? | বর্ণনাকারী: আমির ইবনু রাবী‘আহ (রাঃ)
হাদিস নং (১৩০৮): আমির ইবনু রাবী‘আহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ জানাযা যেতে দেখলে যদি সে তার সহযাত্রী না হয়, তবে ততক্ষণ সে দাঁড়িয়ে থাকবে, যতক্ষণ না সে ব্যক্তি জানাযা পিছনে ফেলে বা জানাযা তাকে পিছনে ফেলে যায় অথবা পিছনে ফেলে যাওয়ার পূর্বে তা (মাটিতে) নামিয়ে রাখা হয়।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: জানাযার জন্য দাঁড়ালে কখন বসবে? | বর্ণনাকারী: সা‘ঈদ মাকবুরী (রহ.)
হাদিস নং (১৩০৯): সা‘ঈদ মাকবুরী (রহ.)-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একটি জানাযায় শরীক হলাম। (সেখানে) আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) মারওয়ানের হাত ধরলেন এবং তাঁরা জানাযা নামিয়ে রাখার পূর্বেই বসে পড়লেন। তখন আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) এগিয়ে এসে মারওয়ানের হাত ধরে বললেন, দাঁড়িয়ে পড়ুন! আল্লাহ্‌র কসম! ইনি [আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)] তো জানেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কাজ করতে (জানাযা নামিয়ে রাখার পূর্বে বসতে) নিষেধ করেছেন। তখন আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বললেন, তিনি ঠিকই বলেছেন।
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি জানাযার পিছে পিছে যায়, সে লোকদের কাঁধ হতে তা নামিয়ে না রাখা পর্যন্ত বসবে না আর বসে পড়লে তাকে দাঁড়াবার নির্দেশ দেয়া হবে। | বর্ণনাকারী: আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)
হাদিস নং (১৩১০): আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যখন কোন জানাযা যেতে দেখবে, যদি সে তার সহযাত্রী না হয় তাহলে সে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে, যতক্ষণ না তা চলে যায় অথবা নামিয়ে না রাখা হয়।