অধ্যায়: জানাযা |
উপ-অধ্যায়: জামা ছাড়া কাফন। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১২৭১):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনখানা সুতী সাদা সাহুলী (ইয়ামানী) কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছিল, তার মধ্যে কামীস এবং পাগড়ী ছিল না।
|
অধ্যায়: জানাযা |
উপ-অধ্যায়: জামা ছাড়া কাফন। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১২৭২):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনখানা কাপড় দিয়ে কাফন দেয়া হয়েছিল, তাতে জামা ও পাগড়ী ছিল না। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) বলেন, আবূ নু‘আইম (রহ.) ثَلاَثَةِ শব্দটি বলেননি। আর ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ওয়ালীদ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায়ثَلاَثَةِ শব্দটি বলেছেন।
|
অধ্যায়: জানাযা |
উপ-অধ্যায়: পাগড়ী ছাড়া কাফন। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১২৭৩):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনখানা সাদা সাহুলী কাপড় দিয়ে কাফন দেয়া হয়েছিল, যার মধ্যে কোন কামীস ও পাগড়ী ছিল না।
|
অধ্যায়: জানাযা |
উপ-অধ্যায়: মৃত ব্যক্তির সমস্ত সম্পদ হতে কাফন দেয়া। |
বর্ণনাকারী: সা‘দ (রহ.)
হাদিস নং (১২৭৪):
সা‘দ (রহ.)-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)-কে খাবার দেয়া হল। তখন তিনি বললেন, মুস্‘আব ইবনু উমাইর (রাঃ) শহীদ হলেন আর তিনি আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন অথচ তাঁর কাফনের জন্য একটি চাদর ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। হামযাহ (রাঃ) বা অপর এক ব্যক্তি শহীদ হলেন, তিনিও ছিলেন আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, অথচ তাঁর কাফনের জন্যও একটি চাদর ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি। তাই আমার ভয় হয়, আমাদের নেক আমলের বিনিময় আমাদের এ পার্থিব জীবনে পূর্বেই দেয়া হল। অতঃপর তিনি কাঁদতে লাগলেন।
|
অধ্যায়: জানাযা |
উপ-অধ্যায়: একখানা কাপড় ছাড়া আর কোন কাপড় পাওয়া না গেলে। |
বর্ণনাকারী: ইব্রাহীম (রহ.)
হাদিস নং (১২৭৫):
ইব্রাহীম (রহ.) হতে বর্ণিত, একদা ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)-কে খাদ্য পরিবেশন করা হল, তখন তিনি সিয়াম পালন করছিলেন। তিনি বললেন, মুস‘আব ইবনু উমাইর (রাঃ) শহীদ হলেন। তিনি ছিলেন, আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। (অথচ) তাঁকে এমন একটি চাদর দিয়ে কাফন দেয়া হল যে, তাঁর মাথা ঢাকলে তাঁর দু’ পা বাইরে থাকে আর দু’ পা ঢাকলে মাথা বাইরে থাকে। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে পড়ে, তিনি আরও বলেছিলেন, হামযাহ (রাঃ) শহীদ হলেন। তিনিও ছিলেন আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। অতঃপর আমাদের জন্য পৃথিবীতে অত্যধিক প্রাচুর্য দেয়া হয়েছে। আশঙ্কা হয় যে, আমাদের নেক ‘আমলগুলো (এর বিনিময়) আমাদের পূর্বেই দিয়ে দেয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি ক্রন্দন করতে লাগলেন, এমনকি খাদ্যও বর্জন করলেন।
|
অধ্যায়: জানাযা |
উপ-অধ্যায়: মাথা বা পা ঢাকা যায় এতটুকু ছাড়া অন্য কোন কাফন না পাওয়া গেলে, তা দিয়ে কেবল মাথা ঢাকতে হবে। |
বর্ণনাকারী: খাব্বাব (রাঃ)
হাদিস নং (১২৭৬):
খাব্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে মাদ্বীনায় হিজরত করেছিলাম, এতে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি কামনা করেছিলাম। আমাদের প্রতিদান আল্লাহ্র নিকটে নির্ধারিত হয়ে আছে। অতঃপর আমাদের মধ্যে অনেকে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা তাঁদের বিনিময়ের কিছুই ভোগ করে যাননি। তাঁদেরই একজন মুস‘আব ইবনু উমাইর (রাঃ) আর আমাদের মধ্যে অনেকে এমনও আছেন যাঁদের প্রতিদানের ফল পরিপক্ক হয়েছে। আর তাঁরা তা ভোগ করছেন। মুস‘আব (রাঃ) উহুদের দিন শহীদ হয়েছিলেন। আমরা তাঁকে কাফন দেয়ার জন্য এমন একটি চাদর ব্যতীত আর কিছুই পেলাম না; যা দিয়ে তাঁর মস্তক আবৃত করলে তাঁর দু’ পা বাইরে থাকে আর তাঁর দু’ পা আবৃত করলে তাঁর মস্তক বাইরে থাকে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মস্তক আবৃত করতে এবং তাঁর দু’খানা পায়ের উপর ইয্খির (ঘাস) দিয়ে দিতে আমাদের নির্দেশ দিলেন।
|
অধ্যায়: জানাযা |
উপ-অধ্যায়: নাবী (সাঃ)-এর আমলে যে নিজের কাফন তৈরি করে রাখল, অথচ তাঁকে এতে বারণ করা হয়নি। |
বর্ণনাকারী: সাহল (রাঃ)
হাদিস নং (১২৭৭):
সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট একখানা বুরদাহ নিয়ে এলেন যার সাথে ঝালর যুক্ত ছিল। সাহল (রাঃ) বললেন, তোমরা জান, বুরদাহ কী? তারা বলল, চাদর। সাহল (রাঃ) বললেন, ঠিকই। মহিলা বললেন, চাদরখানি আমি নিজ হস্তে বয়ন করেছি এবং তা আপনার পরিধানের জন্য নিয়ে এসেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করলেন এবং তাঁর চাদরের প্রয়োজনও ছিল। অতঃপর তিনি তা ইযার হিসেবে পরিধান করে আমাদের সম্মুখে আসলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি তার সৌন্দর্য বর্ণনা করে বললেন, বাহ! কত সুন্দর! আমাকে এটি পরিধানের জন্য দান করুন। সাহাবীগণ বললেন, তুমি ভাল করনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তাঁর প্রয়োজনে পরিধান করেছেন; তবুও তুমি তা চেয়ে বসলে। অথচ তুমি জান যে, তিনি কাউকে বিমুখ করেন না। ঐ ব্যক্তি বলল, আল্লাহ্র কসম! আমি তা পরিধানের উদ্দেশে চাইনি। আমার চাওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য যেন তা দিয়ে আমার কাফন হয়। সাহল (রাঃ) বললেন, অবশেষে তা তাঁর কাফনই হয়েছিল।[1]
|
অধ্যায়: জানাযা |
উপ-অধ্যায়: জানাযার পশ্চাতে মহিলাদের অনুগমণ। |
বর্ণনাকারী: উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১২৭৮):
উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জানাযার পশ্চাদানুগমণ করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমাদের উপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়নি।
|
অধ্যায়: জানাযা |
উপ-অধ্যায়: স্বামী ছাড়া অন্যের জন্য স্ত্রীলোকের শোক প্রকাশ। |
বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহ.)
হাদিস নং (১২৭৯):
মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.)-এর এক পুত্রের মৃত্যু হল। তৃতীয় দিবসে তিনি হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনয়ন করিয়ে ব্যবহার করলেন, আর বললেন, স্বামী ব্যতীত অন্য কারো জন্য তিন দিবসের বেশি শোক পালন করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।
|
অধ্যায়: জানাযা |
উপ-অধ্যায়: স্বামী ছাড়া অন্যের জন্য স্ত্রীলোকের শোক প্রকাশ। |
বর্ণনাকারী: যায়নাব বিনত আবূ সালামাহ (রাযি.)
হাদিস নং (১২৮০):
যায়নাব বিনত আবূ সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সিরিয়া হতে আবূ সুফ্ইয়্যান (রাঃ)-এর মৃত্যুর খবর পৌঁছল, তার তৃতীয় দিবসে উম্মু হাবীবাহ (রাযি.) হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনয়ন করলেন এবং তাঁর উভয় গন্ড ও বাহুতে মথিত করলেন। অতঃপর বললেন, অবশ্য আমার এর কোন প্রয়োজন ছিল না, যদি আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ কথা বলতে না শুনতাম যে, স্ত্রীলোক আল্লাহ্ এবং কিয়ামতের দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়। অবশ্য স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।
|