তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ | উপ-অধ্যায়: সালাতে সালামের উত্তর দিবে না। | বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১২১৭): জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর একটি কাজে পাঠালেন, আমি গেলাম এবং কাজটি সেরে ফিরে এলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম করলাম। তিনি জওয়াব দিলেন না। এতে আমার মনে এমন খটকা লাগল যা আল্লাহ্ই ভাল জানেন। আমি মনে মনে বললাম, সম্ভবত আমি বিলম্বে আসার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। আবার আমি তাঁকে সালাম করলাম; তিনি জওয়াব দিলেন না। ফলে আমার মনে প্রথম বারের চেয়েও অধিক খটকা লাগল। (সালাত শেষে) আবার আমি তাঁকে সালাম করলাম এবার তিনি সালামের জওয়াব দিলেন এবং বললেনঃ সালাতে ছিলাম বলে তোমার সালামের জওয়াব দিতে পারিনি। তিনি তখন তাঁর বাহনের পিঠে কিবলা হতে অন্যমুখে ছিলেন।
অধ্যায়: সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ | উপ-অধ্যায়: কিছু ঘটলে সালাতে হাত উত্তোলন করা। | বর্ণনাকারী: সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.)
হাদিস নং (১২১৮): সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছল যে, কুবায় বনূ আমর ইবনু আওফ গোত্রে কোন ব্যাপার ঘটেছে। তাদের মধ্যে মীমাংসার উদ্দেশে তিনি কয়েকজন সাহাবীসহ বেরিয়ে গেলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েন। ইতোমধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেল। বিলাল (রাযি.) আবূ বকর (রাযি.)-এর নিকট এসে বললেন, হে আবূ বকর! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্মব্যস্ত রয়েছেন। এদিকে সালাতের সময় উপস্থিত। আপনি কি লোকদের ইমামাত করবেন? তিনি বললেন, হাঁ, যদি তুমি চাও। তখন বিলাল (রাযি.) সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বললেন এবং আবূ বকর (রাযি.) এগিয়ে গেলেন এবং তাকবীর বললেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনলেন এবং কাতার ফাঁক করে সামনে এগিয়ে গিয়ে কাতারে দাঁড়ালেন। মুসল্লীগণ তখন তাস্ফীহ্ করতে লাগলেন। সাহল (রাযি.) বলেন, তাসফীহ্ মানে তাস্ফীক (হাতে তালি দেয়া) তিনি আরো বললেন, আবূ বকর (রাযি.) সালাতে এদিক সেদিক তাকাতেন না। মুসল্লীগণ অধিক (তালি দেয়া) করবে, তিনি লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলেন। তিনি তাঁকে ইঙ্গিতে সালাত আদায় করার আদেশ দিলেন। তখন আবূ বকর (রাযি.) তাঁর দু’হাত তুললেন এবং আল্লাহর হাম্দ বর্ণনা করলেন। অতঃপর পিছু হেঁটে পিছনে চলে এসে কাতারে দাঁড়ালেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে এগিয়ে গেলেন এবং মুসল্লীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি মুসল্লীগণের দিকে মুখ করে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের কী হয়েছে? সালাতে কোন ব্যাপার ঘটলে তোমরা হাত চাপড়াতে শুরু কর কেন? হাত চাপড়ানো তো মেয়েদের জন্য। সালাতে আদায়রত অবস্থায় কারো কিছু ঘটলে পুরুষরা সুব্হানাল্লাহ্ বলবে। অতঃপর তিনি আবূ বকর (রাযি.)-এর দিকে লক্ষ্য করে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবূ বকর! তোমাকে আমি ইঙ্গিত করা সত্ত্বেও কিসে তোমাকে সালাত আদায়ে বাধা দিল? আবূ বকর (রাযি.) বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা ইবনু আবূ কুহাফার* জন্য সমীচীন নয়।
অধ্যায়: সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ | উপ-অধ্যায়: সালাতে কোমরে হাত রাখা। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১২১৯): আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে কোমরে হাত রাখা নিষেধ করা হয়েছে। হিশাম ও আবূ হিলাল (রহ.) ইবনু সীরীন (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।
অধ্যায়: সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ | উপ-অধ্যায়: সালাতে কোমরে হাত রাখা। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (১২২০): আবূ হুরাইরাহ্ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোমরে হাত রেখে সালাত আদায় করতে লোকেদের নিষেধ করা হয়েছে।
অধ্যায়: সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ | উপ-অধ্যায়: সালাতে মুসল্লীর কোন বিষয় কল্পনা করা। | বর্ণনাকারী: ঊকবাহ ইবনু হারিস (রাযি.)
হাদিস নং (১২২১): ঊকবাহ ইবনু হারিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ‘আসরের সালাত আদায় করলাম। সালাম করেই তিনি দ্রুত উঠে তাঁর কোন এক সহধর্মিণীর নিকট গেলেন, অতঃপর বেরিয়ে এলেন। তাঁর দ্রুত যাওয়া আসার ফলে (উপস্থিত) সাহাবীগণের চেহারায় বিস্ময়ের আভাস দেখে তিনি বললেনঃ সালাতে আমার নিকট রাখা একটি সোনার টুকরার কথা আমার মনে পড়ে গেল। সন্ধ্যায় বা রাতে তা আমার নিকট থাকবে আমি এটা অপছন্দ করলাম। তাই, তা বণ্টন করে দেয়ার নির্দেশ দিলাম।
অধ্যায়: সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ | উপ-অধ্যায়: সালাতে মুসল্লীর কোন বিষয় কল্পনা করা। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১২২২): আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেনঃ সালাতের আযান হলে শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় যাতে সে আযান শুনতে না পায়। তখন তার পশ্চাদ-বায়ু নিঃসরণ হতে থাকে। মুআয্যিন আযান শেষে নীরব হলে সে আবার এগিয়ে আসে। আবার ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বলা হলে পালিয়ে যায়। মুআয্যিন (ইক্বামাত(ইকামত/একামত)) শেষ করলে এগিয়ে আসে। তখন সে মুসল্লীকে বলতে থাকে, (ওটা) স্মরণ কর, যে বিষয় তার স্মরণে ছিল না। শেষ পর্যন্ত কত রাক‘আত সালাত আদায় করল তা মনে করতে পারে না। আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) বলেছেন, তোমাদের কেউ এরূপ অবস্থায় পড়লে (শেষ বৈঠকে) বসা অবস্থায় যেন দু’টি সিজদা্ করে। এ কথা আবূ সালামাহ (রহ.) আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে শুনেছেন।
অধ্যায়: সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ | উপ-অধ্যায়: সালাতে মুসল্লীর কোন বিষয় কল্পনা করা। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১২২৩): আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকে বলে আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) অধিক হাদীস বর্ণনা করেছে। এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হলে আমি জিজ্ঞেস করলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গতরাতে ‘ইশার সালাতে কোন সূরাহ্ পড়েছেন? লোকটি বলল, আমি জানি না। আমি বললাম, কেন, তুমি কি সে সালাতে উপস্থিত ছিলে না? সে বলল, হাঁ, ছিলাম। আমি বললাম, আমি কিন্তু জানি তিনি অমুক অমুক সূরাহ্ পড়েছেন।
অধ্যায়: সাহু সিজদা | উপ-অধ্যায়: ফরয সালাতে দু’রাকআতের পর দাঁড়িয়ে গেলে সিজদায়ে সাহূ প্রসঙ্গে। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহায়নাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১২২৪): আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহায়নাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সালাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রাক‘আত আদায় করে না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। মুসল্লীগণ তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন। যখন তাঁর সালাত সমাপ্ত করার সময় হলো এবং আমরা তাঁর সালাম ফিরানোর অপেক্ষা করছিলাম, তখন তিনি সালাম ফিরানোর পূর্বে তাকবীর বলে বসে বসেই দু’টি সিজদা্ করলেন। অতঃপর সালাম ফিরালেন।
অধ্যায়: সাহু সিজদা | উপ-অধ্যায়: ফরয সালাতে দু’রাকআতের পর দাঁড়িয়ে গেলে সিজদায়ে সাহূ প্রসঙ্গে। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহাইনাহ (রাযি.)
হাদিস নং (১২২৫): আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহাইনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের দু’রাক‘আত আদায় করে দাঁড়িয়ে গেলেন। দু‘রাক‘আতের পর তিনি বসলেন না। সালাত শেষ হয়ে গেলে তিনি দু’টি সিজদা্ করলেন এবং অতঃপর সালাম ফিরালেন।
অধ্যায়: সাহু সিজদা | উপ-অধ্যায়: ভুল বশতঃ সালাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করলে। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১২২৬): আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, সালাত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেন, এ প্রশ্ন কেন? (প্রশ্নকারী) বললেন, আপনি তো পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। অতএব তিনি সালাম ফিরানোর পর দু’টি সিজদা্ করলেন।