তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ | উপ-অধ্যায়: রমাযানে ও অন্যান্য সময়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাত্রি জেগে ইবাদাত করা। | বর্ণনাকারী: আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রাহমান (রাযি.)
হাদিস নং (১১৪৭): আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রাহমান (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেন, রমাযান মাসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত কেমন ছিল? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে এবং অন্যান্য সময় (রাতে) এগার রাক‘আতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। তিনি চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তুমি সেই সালাতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। তারপর চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। অতঃপর তিনি তিন রাক‘আত (বিতর) সালাত আদায় করতেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, (একদা) আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিতরের পূর্বে ঘুমিয়ে থাকেন? তিনি ইরশাদ করলেনঃ আমার চোখ দু’টি ঘুমায়, কিন্তু আমার হৃদয় ঘুমায় না।
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ | উপ-অধ্যায়: রমাযানে ও অন্যান্য সময়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাত্রি জেগে ইবাদাত করা। | বর্ণনাকারী: উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১১৪৮): উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের কোন সালাতে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বসে কিরা‘আত পড়তে দেখিনি। অবশ্য শেষ দিকে বার্ধক্যে উপনীত হলে তিনি বসে কিরা‘আত পড়তেন। যখন (পঠিত) সূরাহর ত্রিশ চল্লিশ আয়াত অবশিষ্ট থাকত, তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সেগুলো পড়ার পর রুকূ‘ করতেন।
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ | উপ-অধ্যায়: রাতে ও দিনে তাহারাত (পবিত্রতা) হাসিল করার মর্যাদা এবং উযূ করার পর রাতে ও দিনে সালাত আদায়ের ফযীলত। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১১৪৯): আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা ফজরের সালাতের সময় বিলাল (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে বিলাল! ইসলাম গ্রহণের পর সর্বাধিক সন্তুষ্টিব্যঞ্জক যে ‘আমল তুমি করেছ, তার কথা আমার নিকট ব্যক্ত কর। কেননা, জান্নাতে (মি’রাজের রাতে) আমি আমার সামনে তোমার পাদুকার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। বিলাল (রাযি.) বললেন, আমার নিকট এর চেয়ে (অধিক) সন্তুষ্টিব্যঞ্জক হয় এমন কিছুতো আমি করিনি। দিন রাতের যে কোন প্রহরে আমি তাহারাত ও পবিত্রতা অর্জন করেছি, তখনই সে তাহারাত দ্বারা সালাত আদায় করেছি, যে পরিমাণ সালাত আদায় করা আমার তাক্দীরে লেখা ছিল।
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ | উপ-অধ্যায়: ইবাদাতে কঠোরতা অবলম্বন করা অপছন্দনীয়। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (১১৫০): আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) প্রবেশ করে দেখতে পেলেন যে, দু’টি স্তম্ভের মাঝে একটি রশি টাঙানো রয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ রশিটি কী কাজের জন্য? লোকেরা বললো, এটি যায়নাবের রশি, তিনি (‘ইবাদাত করতে করতে) অবসন্ন হয়ে পড়লে এটির সাথে নিজেকে বেঁধে দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ না, ওটা খুলে ফেল। তোমাদের কারো প্রাণবন্ত থাকা পর্যন্ত ইবাদাত করা উচিত। যখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন যেন সে বসে পড়ে।
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ | উপ-অধ্যায়: ইবাদাতে কঠোরতা অবলম্বন করা অপছন্দনীয়। | বর্ণনাকারী: উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১১৫১): উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনূ আসাদের এক মহিলা আমার নিকট উপস্থিত ছিলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন এবং তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ মহিলাটি কে? আমি বললাম, অমুক। তিনি রাতে ঘুমান না। তখন তাঁর সালাতের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বললেনঃ রাখ রাখ। সাধ্যানুযায়ী ‘আমল করতে থাকাই তোমাদের কর্তব্য। কেননা, আল্লাহ্ তা‘আলা (সাওয়াব দানে) ক্লান্ত হন না, যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হয়ে পড়।
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ | উপ-অধ্যায়: রাত জেগে সালাত আদায়ে অভ্যস্ত ব্যক্তির ‘ইবাদাত পরিত্যাগ করা মাকরূহ। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর ইবনুল আ‘স (রাযি.)
হাদিস নং (১১৫২): আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর ইবনুল আ‘স (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে ‘আবদুল্লাহ্! তুমি অমুক ব্যক্তির মত হয়ো না, সে রাত জেগে ‘ইবাদাত করত, পরে রাত জেগে ‘ইবাদাত করা ছেড়ে দিয়েছে। আবূ সালামাহ (রাযি.) হতেও এ রকম বর্ণিত আছে।
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ | উপ-অধ্যায়: পরিচ্ছেদ নাই। | বর্ণনাকারী: আবুল ‘আব্বাস (রহ.)
হাদিস নং (১১৫৩): আবুল ‘আব্বাস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে শুনেছি, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ আমাকে কি জানানো হয়নি যে, তুমি রাত ভর ‘ইবাদাতে জেগে থাক আর দিনভর সিয়াম পালন কর? আমি বললাম, হ্যাঁ, তা আমি করে থাকি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ একথা নিশ্চিত যে, তুমি এমন করতে থাকলে তোমার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যাবে এবং তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তোমার দেহের অধিকার রয়েছে, তোমার পরিবার পরিজনেরও অধিকার রয়েছে। কাজেই তুমি সিয়াম পালন করবে এবং বাদও দেবে। রাতে জেগে ‘ইবাদাত করবে এবং ঘুমাবেও।
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ | উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি রাত জেগে সালাত আদায় করে তাঁর ফযীলত। | বর্ণনাকারী: উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযি.)
হাদিস নং (১১৫৪): বাদাহ ইবনু সামিত (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে জেগে ওঠে (উপরোক্ত) দু‘আ পড়ে- (দু‘আর অর্থ) ‘‘এক আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই। রাজ্য তাঁরই। যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই। তিনিই সব কিছুর উপরে শক্তিমান। যাবতীয় হাম্দ আল্লাহরই জন্য, আল্লাহ্ তা‘আলা পবিত্র, আল্লাহ্ ব্যতীত সত্য কোন ইলাহ নেই। আল্লাহ্ মহান, গুনাহ হতে বাঁচার এবং নেক কাজ করার কোন শক্তি নেই আল্লাহর তাওফীক ব্যতীত।’’ অতঃপর বলে, ‘‘হে আল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা করুন।’’ বা (অন্য কোন) দু‘আ করে, তাঁর দু‘আ কবূল করা হয়। অতঃপর উযূ করে (সালাত আদায় করলে) তার সালাত কবূল করা হয়।
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ | উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি রাত জেগে সালাত আদায় | বর্ণনাকারী: হায়সাম ইবনু আবূ সিনান
হাদিস নং (১১৫৫): হায়সাম ইবনু আবূ সিনান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) তাঁর ওয়ায বর্ণনাকালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, তোমাদের এক ভাই অর্থাৎ ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু রাওয়াহা (রাযি.) অনর্থক কথা বলেননি।* ‘‘আর আমাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহর রাসূল, যিনি তিলাওয়াত করেন তাঁর (আল্লাহর) কিতাব, যখন ফজরের আলো উদ্ভাসিত হয়। তিনি আমাদের গোমরাহীর পর হিদায়াতের পথ দেখিয়েছেন, তাই আমাদের অন্তরগুলো তাঁর প্রতি এ বিশ্বাস রাখে যে যা তিনি বলেছেন তা অবশ্যই সত্য। তিনি রাত যাপন করেন পার্শ্বদেশকে শয্যা হতে দূরে সরিয়ে রেখে, যখন মুশরিকরা থাকে আপন শয্যাসমূহে নিদ্রামগ্ন।’’ আর ‘উকায়ল (রহ.) ইউনুস (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। যুবাইদী (রহ.).....আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) সূত্রেও তা বর্ণনা করেছেন।
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ | উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি রাত জেগে সালাত আদায় করে তাঁর ফযীলত। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাযি.)
হাদিস নং (১১৫৬): ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে আমি (এক রাতে) স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার হাতে একটুকরা মোটা রেশমী কাপড় রয়েছে এবং যেন আমি জান্নাতের যে কোন স্থানে যেতে ইচ্ছা করছি কাপড় (আমাকে) সেখানে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অপর একটি স্বপ্নে আমি দেখলাম, যেন দু’জন মালাক আমার নিকট এসে আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। তখন অন্য একজন মালাক তাঁদের সামনে এসে বললেন, তোমার কোন ভয় নেই। (আর ঐ দু’জনকে বললেন) তোমরা ওকে ছেড়ে দাও।