তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: সালাত ক্বাসর করা | উপ-অধ্যায়: মাগরিব ও ‘ইশা একত্রে আদায় করলে আযান দিবে, না ইকামাত? | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.)
হাদিস নং (১১০৯): আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি যখন সফরে তাঁকে দ্রুত পথ অতিক্রম করতে হত, তখন মাগরিবের সালাত এত বিলম্বিত করতেন যে মাগরিব ও ‘ইশা একত্রে আদায় করতেন। সালিম (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.)ও দ্রুত সফরকালে ঐ রকমই করতেন। তখন ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের পর মাগরিব তিন রাক‘আত আদায় করতেন এবং সালাম ফিরাতেন। অতঃপর অল্প সময় অপেক্ষা করেই ‘ইশা-এর ইকামাত দিয়ে তা দু‘রাক‘আত আদায় করে সালাম ফিরাতেন। এ দু’য়ের মাঝখানে কোন নফল সালাত আদায় করতেন না এবং ‘ইশার পরেও না। অতঃপর মধ্যরাতে (তাহাজ্জুদের জন্য) উঠতেন।
অধ্যায়: সালাত ক্বাসর করা | উপ-অধ্যায়: মাগরিব ও ‘ইশা একত্রে আদায় করলে আযান দিবে, না ইকামাত? | বর্ণনাকারী: আনাস (রাযি.)
হাদিস নং (১১১০): আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে এ দু’ সালাত একত্রে আদায় করতেন অর্থাৎ মাগরিব ও ‘ইশা।
অধ্যায়: সালাত ক্বাসর করা | উপ-অধ্যায়: সূর্য ঢলে পড়ার আগে সফরে রওয়ানা হলে যুহরের সালাত আসরের সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করা। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (১১১১): আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে সফর শুরু করলে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত যুহর বিলম্বিত করতেন এবং উভয় সালাত একত্রে আদায় করতেন। আর (সফর শুরুর আগেই) সূর্য ঢলে গেলে যুহর আদায় করে নিতেন। অতঃপর সওয়ারীতে উঠতেন।
অধ্যায়: সালাত ক্বাসর করা | উপ-অধ্যায়: সূর্য ঢলে পড়ার পর সফর আরম্ভ করলে যুহরের সালাত আদায় করার পর সওয়ারীতে আরোহণ করা। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (১১১২): আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে সফর শুরু করলে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত যুহরের সালাত বিলম্বিত করতেন। অতঃপর অবতরণ করে দু’ সালাত একসাথে আদায় করতেন। আর যদি সফর শুরু করার পূর্বেই সূর্য ঢলে পড়তো তাহলে যুহরের সালাত আদায় করে নিতেন। অতঃপর সওয়ারীতে চড়তেন।
অধ্যায়: সালাত ক্বাসর করা | উপ-অধ্যায়: উপবিষ্ট ব্যক্তির সালাত। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১১১৩): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে সালাত আদায় করলেন, তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাই তিনি বসে বসে সালাত আদায় করছিলেন এবং এক দল সাহাবী তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন তিনি বসে পড়ার জন্য তাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। অতঃপর সালাত শেষ করে তিনি বললেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁকে অনুসরণ করার উদ্দেশে। কাজেই তিনি রুকূ‘ করলে তোমরা রুকূ‘ করবে এবং তিনি মাথা তুললে তোমরাও মাথা তুলবে।
অধ্যায়: সালাত ক্বাসর করা | উপ-অধ্যায়: উপবিষ্ট ব্যক্তির সালাত। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (১১১৪): আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া হতে পড়ে গেলেন। এতে আঘাত লেগে তাঁর ডান পাশের চামড়া ছিলে গেল। আমরা তাঁর রোগের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য তাঁর নিকট গেলাম। ইতোমধ্যে সালাতের সময় হলে তিনি বসে সালাত আদায় করলেন। আমরাও বসে সালাত আদায় করলাম। পরে তিনি বললেনঃ ইমাম তো নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্যে। কাজেই তিনি তাকবীর বললে, তোমরাও তাকবীর বলবে, রুকূ‘ করলে তোমরাও রুকূ‘ করবে, তিনি মাথা তুললে তোমরাও মাথা তুলবে। তিনি যখন قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ।
অধ্যায়: সালাত ক্বাসর করা | উপ-অধ্যায়: উপবিষ্ট ব্যক্তির সালাত। | বর্ণনাকারী: ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.)
হাদিস নং (১১১৫): ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি ছিলেন অর্শরোগী। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বসে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ যদি কেউ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে তবে তা-ই উত্তম। আর যে ব্যক্তি বসে সালাত আদায় করবে, তার জন্য দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব আর যে শুয়ে আদায় করবে তার জন্য বসে আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব।
অধ্যায়: সালাত ক্বাসর করা | উপ-অধ্যায়: উপবিষ্ট ব্যক্তির ইঙ্গিতে সালাত আদায়। | বর্ণনাকারী: ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.)
হাদিস নং (১১১৬): ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি অর্শরোগী ছিলেন, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বসে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করল সে উত্তম আর যে ব্যক্তি বসে সালাত আদায় করল তার জন্য দাঁড়ান ব্যক্তির অর্ধেক সওয়াব আর যে শুয়ে সালাত আদায় করল, তার জন্য বসে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, আমার মতে এ হাদীসে نَائِمًا (ঘুমন্ত) এর দ্বারা مُضْطَجِعًا (শায়িত) অবস্থা বুঝানো হয়েছে।
অধ্যায়: সালাত ক্বাসর করা | উপ-অধ্যায়: বসে সালাত আদায় করতে না পারলে কাত হয়ে শুয়ে সালাত আদায় করবে। | বর্ণনাকারী: ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযি.)
হাদিস নং (১১১৭): ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার অর্শরোগ ছিল। তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে সালাত সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম, তিনি বললেনঃ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, তা না পারলে বসে; যদি তাও না পার তাহলে শুয়ে।
অধ্যায়: সালাত ক্বাসর করা | উপ-অধ্যায়: বসে সালাত আদায়কারী সুস্থ হয়ে গেলে কিংবা একটু হালকাবোধ করলে, বাকী সালাত (দাঁড়িয়ে) পূর্ণভাবে আদায় করবে। | বর্ণনাকারী: উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১১১৮): উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অধিক বয়সে পৌঁছার পূর্বে কখনো রাতের সালাত বসে আদায় করতে দেখেননি। (বার্ধক্যের) পরে তিনি বসে কিরাআত পাঠ করতেন। যখন তিনি রুকূ‘ করার ইচ্ছা করতেন, তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং প্রায় ত্রিশ কিংবা চল্লিশ আয়াত তিলাওয়াত করে রুকূ‘ করতেন।