অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ |
উপ-অধ্যায়: সূরাহ্ স-দ-এর সিজদা্ |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (১০৬৯):
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরাহ্ স-দ এর সিজদা্ অত্যাবশ্যক সিজদা্সমূহের মধ্যে গণ্য নয়। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি তা তিলাওয়াতের পর সিজদা্ করতে দেখেছি।
|
অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ |
উপ-অধ্যায়: সূরাহ্ আন্ নাজ্ম-এর সিজদা্। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১০৭০):
আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাহ্ আন্ নাজ্ম তিলাওয়াত করেন, অতঃপর সিজদা্ করেন। তখন উপস্থিত লোকদের এমন কেউ বাকী ছিল না, যে তাঁর সঙ্গে সিজদা্ করেনি। কিন্তু এক ব্যক্তি এক মুঠো কঙ্কর বা মাটি হাতে নিয়ে মুখমন্ডল পর্যন্ত তুলে বলল, এটাই আমার জন্য যথেষ্ট। [‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) বলেন] পরে আমি এ ব্যক্তিকে দেখেছি যে, সে কাফির অবস্থায় নিহত হয়েছে।
|
অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ |
উপ-অধ্যায়: মুশরিকদের সাথে মুসলিমগণের সিজদা্ করা আর মুশরিকরা অপবিত্র। তাদের উযূ হয় না। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (১০৭১):
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাহ্ ওয়ান্-নাজ্ম তিলাওয়াতের পর সিজদা্ করেন এবং তাঁর সাথে সমস্ত মুসলিম, মুশরিক, জ্বিন ও ইনসান সবাই সিজদা্ করেছিল।
|
অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ |
উপ-অধ্যায়: যিনি সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলেন অথচ সিজদা্ করলেন না। |
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু সাবিত (রাযি.)
হাদিস নং (১০৭২):
যায়দ ইবনু সাবিত (রাযি.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট সূরাহ্ ওয়ান্ন নাজ্ম তিলাওয়াত করা হল কিন্তু তাতে তিনি সিজদা্ করেননি।
|
অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ |
উপ-অধ্যায়: যিনি সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলেন অথচ সিজদা্ করলেন না। |
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু সাবিত (রাযি.)
হাদিস নং (১০৭৩):
যায়দ ইবনু সাবিত (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে সূরাহ্ ওয়ান্ নাজ্ম তিলাওয়াত করলাম। এতে তিনি সিজদা্ করেননি।
|
অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ |
উপ-অধ্যায়: সূরাহ্ ‘ইযাস্ সামাউন্ শাক্কাত’-এর সিজদা্। |
বর্ণনাকারী: আবূ সালামাহ
হাদিস নং (১০৭৪):
আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-কে দেখলাম, তিনি إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ সূরাহ্ তিলাওয়াত করলেন এবং সিজদা্ করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ হুরাইরাহ্! আমি কি আপনাকে সিজদা্ করতে দেখিনি? তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সিজদা্ করতে না দেখলে সিজদা্ করতাম না।
|
অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ |
উপ-অধ্যায়: তিলাওয়াতকারীর সিজদার কারণে সিজদা্ করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাযি.)
হাদিস নং (১০৭৫):
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাদের সামনে এমন এক সূরাহ্ তিলাওয়াত করলেন, যাতে সিজদার আয়াত রয়েছে। তাই তিনি সিজদা্ করলেন এবং আমরাও সিজদা্ করলাম। ফলে অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, আমাদের কেউ কেউ কপাল রাখার জায়গা পাচ্ছিলেন না।
|
অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ |
উপ-অধ্যায়: ইমাম যখন সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করেন তখন লোকের ভীড়। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাযি.)
হাদিস নং (১০৭৬):
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং আমরা তাঁর নিকট থাকতাম, তখন তিনি সিজদা্ করতেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে সিজদা্ করতাম। এতে এত ভীড় হতো যে, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ সিজদা্ করার জন্য কপাল রাখার জায়গা পেত না।
|
অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ |
উপ-অধ্যায়: যাঁরা অভিমত প্রকাশ করেন যে, আল্লাহ্ তা‘আলা তিলাওয়াতের সিজদা্ আবশ্যক করেননি। |
বর্ণনাকারী: উমার ইবনু খাত্তাব (রাযি.)
হাদিস নং (১০৭৭):
উমার ইবনু খাত্তাব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি এক জুমু‘আহর দিন মিম্বরে দাঁড়িয়ে সুরা নাহল তিলাওয়াত করেন। এতে যখন সিজদার আয়াত এল, তখন তিনি মিম্বর হতে নেমে সিজদা্ করলেন এবং লোকেরাও সিজদা্ করল। এভাবে যখন পরবর্তী জুমু‘আহ এল, তখন তিনি সে সূরাহ্ পাঠ করেন। এতে যখন সিজদার আয়াত এল, তখন তিনি বললেন, হে লোক সকল! আমরা যখন সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করি, তখন যে সিজদা্ করবে সে ঠিকই করবে, যে সিজদা্ করবে না তার কোন গুনাহ নেই। তার বর্ণনায় (বর্ণনাকারী বলেন) আর ‘উমার (রাযি.) সিজদা্ করেননি। নাফি‘ (রহ.) ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে আরো বলেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা সিজদা্ ফরজ করেননি, তবে আমরা ইচ্ছা করলে সিজদা্ করতে পারি।
|
অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ |
উপ-অধ্যায়: সালাতে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা্ করা। |
বর্ণনাকারী: আবূ রাফি‘ (রহ.)
হাদিস নং (১০৭৮):
আবূ রাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-এর সাথে ‘ইশার সালাত আদায় করেছিলাম। তিনি সালাতে إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ সূরাহ্ তিলাওয়াত করে সিজদা্ করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী? তিনি বললেন, এ সূরাহ্ তিলাওয়াতের সময় আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আমি এ সিজদা্ করেছিলাম। তাই তাঁর সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এভাবে আমি সিজদা্ করতে থাকব।
|