অধ্যায়: সূর্যগ্রহণ |
উপ-অধ্যায়: সূর্যগ্রহণের সময় আল্লাহর যিকর। |
বর্ণনাকারী: আবূ মূসা (রাযি.)
হাদিস নং (১০৫৯):
আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত অবস্থায় উঠলেন এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবার ভয় করছিলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে আসেন এবং এর পূর্বে আমি তাঁকে যেমন করতে দেখেছি, তার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কিয়াম, রুকূ‘ ও সিজদা্ সহকারে সালাত আদায় করলেন। আর তিনি বললেনঃ এগুলো হল নিদর্শন যা আল্লাহ্ পাঠিয়ে থাকেন, তা কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। বরং আল্লাহ্ তা‘আলা এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। কাজেই যখন তোমরা এর কিছু দেখতে পাবে, তখন ভীত অবস্থায় আল্লাহর যিকর, দু‘আ এবং ইস্তিগ্ফারের দিকে ধাবিত হবে।
|
অধ্যায়: সূর্যগ্রহণ |
উপ-অধ্যায়: সূর্যগ্রহণের সময় দু‘আ। |
বর্ণনাকারী: মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাযি.)
হাদিস নং (১০৬০):
মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -(এর পুত্র) ইব্রাহীম (রাযি.) যে দিন ইন্তিকাল করেন, সে দিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা বলল, ইব্রাহীম (রাযি.)-এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে এ দু’টোর গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা এদের গ্রহণ হতে দেখবে, তখন তাদের গ্রহণ মুক্ত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর নিকট দু‘আ করবে এবং সালাত আদায় করতে থাকবে।
|
অধ্যায়: সূর্যগ্রহণ |
উপ-অধ্যায়: সূর্যগ্রহণের খুতবাহ্য় ইমামের ‘‘আম্মা-বাদু’’ বলা। |
বর্ণনাকারী: আসমা (রাযি.)
হাদিস নং (১০৬১):
আসমা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন আর এদিকে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি খুৎবাহ দিলেন। এতে তিনি প্রথমে আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ أَمَّا بَعْدُ ‘আম্মা বা‘দ’।
|
অধ্যায়: সূর্যগ্রহণ |
উপ-অধ্যায়: চন্দ্রগ্রহণের সালাত। |
বর্ণনাকারী: আবূ বকরাহ (রাযি.)
হাদিস নং (১০৬২):
আবূ বকরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। তখন তিনি দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন।
|
অধ্যায়: সূর্যগ্রহণ |
উপ-অধ্যায়: চন্দ্রগ্রহণের সালাত। |
বর্ণনাকারী: আবূ বকরাহ (রাযি.)
হাদিস নং (১০৬৩):
আবূ বকরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। তিনি বের হয়ে তাঁর চাদর টেনে টেনে মসজিদে পৌঁছলেন এবং লোকজনও তাঁর নিকট সমবেত হল। অতঃপর তিনি তাঁদের নিয়ে দু‘রাক‘আত সালাত আদায় করেন। অতঃপর সূর্যগ্রহণ মুক্ত হলে তিনি বললেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যুর কারণে এ দু’টোর গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন গ্রহণ হবে, তা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে এবং দু‘আ করতে থাকবে। এ কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কারণেই বলেছেন যে, সেদিন তাঁর পুত্র ইব্রাহীম (রাযি.)-এর ওফাত হয়েছিল এবং লোকেরা সে ব্যাপারে পরস্পর বলাবলি করছিল।
|
অধ্যায়: সূর্যগ্রহণ |
উপ-অধ্যায়: সূর্যগ্রহণের সালাতে প্রথম রাক‘আত হবে দীর্ঘতর। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১০৬৪):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় লোকদের নিয়ে দু’রাক‘আতে চার রুকূ‘ সহ সালাত আদায় করেন। প্রথমটি (দ্বিতীয় রাক‘আতের চেয়ে) দীর্ঘস্থায়ী ছিল।
|
অধ্যায়: সূর্যগ্রহণ |
উপ-অধ্যায়: সূর্যগ্রহণের সালাতে শব্দ সহকারে কিরা‘আত পাঠ। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১০৬৫):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সালাতে তাঁর কিরাআত সশব্দে পাঠ করেন। কিরা‘আত সমাপ্ত করার পর তাকবীর বলে রুকূ‘ করেন। যখন রুকূ‘ হতে মাথা তুললেন, তখন বললেন, سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ অতঃপর এ গ্রহণ-এর সালাতেই তিনি আবার কিরাআত পাঠ করেন এবং চার রুকূ‘ ও চার সিজদা্সহ দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন।
|
অধ্যায়: সূর্যগ্রহণ |
উপ-অধ্যায়: সূর্যগ্রহণের সালাতে শব্দ সহকারে কিরা‘আত পাঠ। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১০৬৬):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি একজনকে ‘আস্-সালাতু জামিয়াতুন’ বলে ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠান। অতঃপর তিনি অগ্রসর হন এবং চার রুকূ‘ ও চার সিজদা্সহ দু‘ রাক‘আত সালাত আদায় করেন।
ওয়ালীদ (রহ.) বলেন, আমাকে আবদুর রহমান ইবনু নামির আরো বলেন যে, তিনি ইবনু শিহাব (রহ.) হতে অনুরূপ শুনেছেন যুহরী (রহ.) বলেন যে, আমি ‘উরওয়াহ্ (রহ.)-কে বললাম, তোমার ভাই ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাযি.) এরূপ করেননি। তিনি যখন মদিনা্য় গ্রহণ-এর সালাত আদায় করেন, তখন ফজরের সালাতের ন্যায় দু‘রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। ‘উরওয়াহ (রহ.) বললেন, হাঁ, তিনি সুন্নাত অনুসরণে ভুল করেছেন। সুলাইমান ইবনু কাসীর (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে সশব্দে কিরাআতের ব্যাপারে ইবনু কাসীর (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন।
|
অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ |
উপ-অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াতের সিজদার নিয়ম। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১০৬৭):
আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় সূরাহ্ আন্-নাজম তিলাওয়াত করেন। অতঃপর তিনি সিজদা্ করেন এবং একজন বৃদ্ধ লোক ছাড়া তাঁর সঙ্গে সবাই সিজদা্ করেন। বৃদ্ধ লোকটি এক মুঠো কঙ্কর বা মাটি হাতে নিয়ে তার কপাল পর্যন্ত উঠিয়ে বলল, আমার জন্য এ যথেষ্ট। আমি পরবর্তীতে দেখেছি যে, সে কাফির অবস্থায় নিহত হয়েছে।
|
অধ্যায়: কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ |
উপ-অধ্যায়: সূরাহ্ তানযীলুস্-সাজ্দাহ্-এর সিজদা্। |
বর্ণনাকারী: আবু হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১০৬৮):
আবু হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুক্রবার ফজরের সালাতে الم تَنْزِيلُ সূরাহ আস সিজদা এবং هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ সূরাহ ইনসান তিলাওয়াত করতেন।
|