তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: জানাযা | উপ-অধ্যায়: মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের নিকট তার মৃত্যু সংবাদ পৌঁছানো। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (১২৪৬): আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মূতা যুদ্ধের অবস্থা বর্ণনায়) বললেনঃ যায়দ (রাঃ) পতাকা বহন করেছে অতঃপর শহীদ হয়েছে। অতঃপর জা’ফর (রাঃ) (পতাকা) হাতে নিয়েছে, সেও শহীদ হয়। অতঃপর ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) (পতাকা) ধারণ করে এবং সেও শহীদ হয়। এ খবর বলছিলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দু’ চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। অতঃপর খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) পরামর্শ ছাড়াই (পতাকা) হাতে তুলে নেন এবং তাঁর দ্বারাই বিজয় লাভ হয়।
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা | উপ-অধ্যায়: বৃষ্টির জন্য দু‘আর মুহূর্তে ক্বিব্লাহ্মুখী হওয়া। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ আনসারী (রাযি.)
হাদিস নং (১০২৮): আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য ঈদগাহের উদ্দেশে বের হলেন। তিনি যখন দু‘আ করলেন অথবা দু‘আ করার ইচ্ছা করলেন তখন কিবলামুখী হলেন এবং তাঁর চাদর উল্টিয়ে নিলেন। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, এ (হাদীসের বর্ণনাকারী) ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ মাযিন গোত্রীয়। পূর্বের হাদীসের বর্ণনাকারী হলেন কুফী এবং তিনি ইবনু ইয়াযীদ।
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা | উপ-অধ্যায়: বৃষ্টির পানি প্রার্থনায় ইমামের সাথে লোকদের হাত উত্তোলন করা। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (১০২৯): আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন জুমু‘আহ’র দিন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! (অনাবৃষ্টিতে) পশুগুলো মরে যাচ্ছে, পরিবার-পরিজন মারা যাচ্ছে, মানুষ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আর জন্য দু’হাত উঠালেন। লোকজনও দু‘আর জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে হাত উঠিয়ে দু‘আ করতে লাগলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা মাসজিদ হতে বের হবার পূর্বেই বৃষ্টি আরম্ভ হয়ে গেল, এমন কি পরবর্তী জুমু‘আ পর্যন্ত আমাদের উপর বৃষ্টি হতে থাকল। তখন লোকটি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! মুসাফির ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে, রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। بَشِقَ -এর অর্থ ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে।
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা | উপ-অধ্যায়: বৃষ্টির পানি প্রার্থনায় ইমামের সাথে লোকদের হাত উত্তোলন করা। | বর্ণনাকারী: আনাস (রাযি.)
হাদিস নং (১০৩০): আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় হাত উঠিয়েছিলেন, এমন কি আমরা তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখতে পেয়েছি।
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা | উপ-অধ্যায়: বৃষ্টির পানি প্রার্থনায় ইমামের হাত উত্তোলন করা। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (১০৩১): আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসতিস্কা ছাড়া অন্য কোথাও দু‘আর মধ্যে হাত উঠাতেন না। তিনি হাত এতটুকু উপরে উঠাতেন যে, তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেত।
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা | উপ-অধ্যায়: বৃষ্টিপাতের সময় কী বলতে হয়। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১০৩২): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টি দেখলে বলতেন, হে আল্লাহ্! মুষলধারায় কল্যাণকর বৃষ্টি দাও। ক্বাসিম ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহ.) ‘উবাইদুল্লাহর সূত্রে তার বর্ণনায় ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন এবং ‘উকায়ল ও আওযায়ী (রহ.) নাফি‘ (রহ.) হতে তা বর্ণনা করেছেন।
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা | উপ-অধ্যায়: যখন বাতাস প্রবাহিত হয়। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (১০৩৪): আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন প্রবল গতিতে বায়ু প্রবাহিত হত তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারায় তার প্রতিক্রিয়া দেখা দিত। (ভয়ের চিহ্ন দেখা দিত)।
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা | উপ-অধ্যায়: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি, ‘‘আমাকে পূর্ব দিক হতে আগত হাওয়ার মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে’’। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (১০৩৫): ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে পূর্বের হাওয়া দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে। আর আদ জাতিকে পশ্চিমা হাওয়া দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা | উপ-অধ্যায়: ভূমিকম্প ও কিয়ামতের নিদর্শন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১০৩৬): আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) কায়িম হবে না, যে পর্যন্ত না ইল্ম উঠিয়ে নেয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে। হারজ খুন-খারাবী। তোমাদের ধন-সম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে, উপচে পড়বে।
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা | উপ-অধ্যায়: ভূমিকম্প ও কিয়ামতের নিদর্শন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাযি.)
হাদিস নং (১০৩৭): ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে আল্লাহ্! আমাদের শামে (সিরিয়া) ও ইয়ামনে বরকত দান করুন। লোকেরা বলল, আমাদের নজদেও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ্! আমাদের শামদেশে ও ইয়ামনে বরকত দান করুন। লোকেরা তখন বলল, আমাদের নজদেও। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ সেখানে তো রয়েছে ভূমিকম্প ও ফিতনা-ফাসাদ আর শয়তানের শিং সেখান হতেই বের হবে (তার উত্থান ঘটবে)।