অধ্যায়: তাহাজ্জুদ |
উপ-অধ্যায়: তাহজ্জুদ ও নফল ইবাদতের প্রতি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উৎসাহ দান করা, অবশ্য তিনি তা আবশ্যক করেননি। |
বর্ণনাকারী: উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১১২৯):
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে মসজিদে সালাত আদায় করছিলেন, কিছু লোক তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলো। পরবর্তী রাতেও তিনি সালাত আদায় করলেন এবং লোক আরো বেড়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতে লোকজন সমবেত হলেন, কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন না। সকাল হলে তিনি বললেনঃ তোমরা যা করেছ আমি লক্ষ্য করেছি। তোমাদের নিকট বেরিয়ে আসার ব্যাপারে এ আশঙ্কাই আমাকে বাধা দিয়েছে যে, তোমাদের উপর তা ফরজ হয়ে যাবে। এটা ছিল রমাযান মাসের ঘটনা।
|
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ |
উপ-অধ্যায়: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাহজ্জুদের সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোর ফলে তাঁর উভয় পা ফুলে যেতো। |
বর্ণনাকারী: মুগীরাহ (রাযি.)
হাদিস নং (১১৩০):
মুগীরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রি জাগরণ করতেন অথবা রাবী বলেছেন, সালাত আদায় করতেন; এমনকি তাঁর পদযুগল অথবা তাঁর দু’ পায়ের গোছা ফুলে যেত। তখন এ ব্যাপারে তাঁকে বলা হলে তিনি বলতেন, আমি কি একজন শুকরিয়া আদায়কারী বান্দাহ হব না?
|
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ |
উপ-অধ্যায়: সাহরীর সময় যে নিদ্রা যায়। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস(রাযি.)
হাদিস নং (১১৩১):
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস(রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় সালাত হল দাঊদ (‘আ.)-এর সালাত। আর আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট সর্বাধিক প্রিয় সিয়াম হল দাঊদ (‘আ.)-এর সিয়াম। তিনি [দাঊদ (‘আ.)] অর্ধরাত পর্যন্ত ঘুমাতেন, এক তৃতীয়াংশ তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতেন এবং রাতের এক ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। তিনি একদিন সিয়াম পালন করতেন, একদিন সওমবিহীন অবস্থায় থাকতেন।
|
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ |
উপ-অধ্যায়: সাহরীর সময় যে নিদ্রা যায়। |
বর্ণনাকারী: মাসরূক (রহ.)
হাদিস নং (১১৩২):
মাসরূক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট কোন্ ‘আমলটি সর্বাধিক পছন্দনীয় ছিল? তিনি বললেন, নিয়মিত ‘আমল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কখন তাহাজ্জুদের জন্য উঠতেন? তিনি বললেন, যখন মোরগের ডাক শুনতে পেতেন।
আশ‘আস (রাযি.) তাঁর বর্ণনায় বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোরগের ডাক শুনে উঠতেন এবং সালাত আদায় করতেন।
|
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ |
উপ-অধ্যায়: সাহরীর সময় যে নিদ্রা যায়। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১১৩৩):
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি আমার নিকট ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়ই সাহরির সময় হতো। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
|
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ |
উপ-অধ্যায়: সাহারীর পর ফজরের সালাত পর্যন্ত জেগে থাকা। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (১১৩৪):
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যায়দ ইবনু সাবিত (রাযি.) সাহারী খেলেন। যখন তারা দু’ জন সাহারী শেষ করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। [ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন] আমরা আনাস ইবনু মালিক (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁদের সাহারী সমাপ্ত করা ও (ফজরের) সালাত শুরু করার মধ্যে কী পরিমাণ ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, কেউ পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারে এতটা সময়।
|
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ |
উপ-অধ্যায়: তাহজ্জুদের সালাত দীর্ঘ করা। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১১৩৫):
আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করলাম। তিনি এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, আমি একটি মন্দ কাজের ইচ্ছা করেছিলাম। (আবূ ওয়াইল (রহ.) বলেন) আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কী ইচ্ছে করেছিলেন? তিনি বললেন, ইচ্ছে করেছিলাম, বসে পড়ি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইক্তিদা ছেড়ে দেই।
|
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ |
উপ-অধ্যায়: তাহজ্জুদের সালাত দীর্ঘ করা। |
বর্ণনাকারী: হুযাইফা (রাঃ)
হাদিস নং (১১৩৬):
হুযাইফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা যখন তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য উঠতেন তখন মিস্ওয়াক দ্বারা তাঁর মুখ পরিষ্কার করে নিতেন।
|
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ |
উপ-অধ্যায়: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত কিরূপ ছিল এবং রাতে তিনি কত রাক‘আত সালাত আদায় করতেন ? |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.)
হাদিস নং (১১৩৭):
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন, একজন জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! রাতের সালাতের পদ্ধতি কী? তিনি বললেনঃ দু’ দু’ রাক‘আত করে। আর ফজর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলে এক রাক‘আত মিলিয়ে বিতর করে নিবে।
|
অধ্যায়: তাহাজ্জুদ |
উপ-অধ্যায়: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত কিরূপ ছিল এবং রাতে তিনি কত রাক‘আত সালাত আদায় করতেন ? |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (১১৩৮):
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত ছিল তের রাক‘আত অর্থাৎ রাতে।
|