অধ্যায়: বিতর |
উপ-অধ্যায়: রুকূ‘র আগে ও পরে কুনূত পাঠ করা। |
বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহ.)
হাদিস নং (১০০১):
মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, ফজরের সালাতে কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুনূত পড়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো তিনি কি রুকূ‘র পূর্বে কুনূত পড়েছেন? তিনি বললেন, কিছু সময় রুকূ‘র পরে পড়েছেন।
|
অধ্যায়: বিতর |
উপ-অধ্যায়: রুকূ‘র আগে ও পরে কুনূত পাঠ করা। |
বর্ণনাকারী: আসিম (রহ.)
হাদিস নং (১০০২):
আসিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)-কে কুনূত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, কুনূত অবশ্যই পড়া হত। আমি জিজ্ঞেস করলাম রুকূ‘র পূর্বে না পরে? তিনি বললেন, রুকূ‘র পূর্বে। ‘আসিম (রহ.) বললেন, অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার বরাত দিয়ে বলেছেন যে, আপনি বলেছেন, রুকূ‘র পরে। তখন আনাস (রাযি.) বলেন, সে ভুল বলেছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘র পরে এক মাস ব্যাপী কুনূত পাঠ করেছেন। আমার জানা মতে, তিনি সত্তর জন সাহাবীর একটি দল, যাদের কুর্রা (অভিজ্ঞ ক্বারীগণ) বলা হতো মুশরিকদের কোন এক কওমের উদ্দেশে পাঠান। এরা সেই কাউম নয়, যাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ্ দু‘আ করেছিলেন। বরং যাদের সাথে তাঁর চুক্তি ছিল (এবং তারা চুক্তি ভঙ্গ করে ক্বারীগণকে হত্যা করেছিল) তিনি এক মাস ব্যাপী কুনূতে সে সব কাফিরদের জন্য অভিসম্পাত করেছিলেন।
|
অধ্যায়: বিতর |
উপ-অধ্যায়: রুকূ‘র আগে ও পরে কুনূত পাঠ করা। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (১০০৩):
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মাস ব্যাপী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রি‘ল ও যাক্ওয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে কুনূতে দু‘আ পাঠ করেছিলেন।
|
অধ্যায়: বিতর |
উপ-অধ্যায়: রুকূ‘র আগে ও পরে কুনূত পাঠ করা। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (১০০৪):
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাগরিব ও ফজরের সালাতে কুনূত পড়া হত।
|
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা |
উপ-অধ্যায়: ইসতিসকা (পানি প্রার্থনা) ও ইসতিসকার জন্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বের হওয়া। |
বর্ণনাকারী: আববাদ ইবনু তামীম (রহ.)
হাদিস নং (১০০৫):
আববাদ ইবনু তামীম (রহ.)-এর চাচা ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টির জন্য দু‘আয় বের হলেন এবং তিনি স্বীয় চাদর পরিবর্তন করলেন।
|
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা |
উপ-অধ্যায়: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু‘আ ইউসুফ (‘আ.)-এর যমানার দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর মত (এদের উপরেও) কয়েক বছর দুর্ভিক্ষ দিন। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১০০৬):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শেষ রাক‘আত হতে মাথা উঠালেন, তখন বললেন, হে আল্লাহ্! আইয়্যাশ ইবনু আবূ রাবী‘আহ্কে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ্! সালামাহ্ ইবনু হিশামকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ্! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে রক্ষা কর। হে আল্লাহ্! দুর্বল মু’মিনদেরকে মুক্তি কর। হে আল্লাহ্! মুযার গোত্রের উপর তোমার শাস্তি কঠোর করে দাও। হে আল্লাহ্! ইউসুফ (‘আ.)-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর মত (এদের উপরে) ও কয়েক বছর দুর্ভিক্ষ দাও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেন, গিফার গোত্র, আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা কর। আর আসলাম গোত্র, আল্লাহ্ তাদেরকে নিরাপদে রাখ। ইবনু আবূ যিনাদ (রহ.) তাঁর পিতা হতে বলেন, এ সমস্ত দু‘আ ফজরের সালাতে ছিল।
|
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা |
উপ-অধ্যায়: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু‘আ ইউসুফ (‘আ.)-এর যমানার দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর মত (এদের উপরেও) কয়েক বছর দুর্ভিক্ষ দিন। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (১০০৭):
আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন লোকদেরকে ইসলাম বিমুখ ভূমিকায় দেখলেন, তখন দু‘আ করলেন, হে আল্লাহ্! ইউসুফ (‘আ.)-এর সময়ের সাত বছরের (দুর্ভিক্ষের) ন্যায় তাদের উপর সাতটি বছর দুর্ভিক্ষ দাও। ফলে তাদের উপর এমন দুর্ভিক্ষ আপতিত হল যে, তা সব কিছুই ধ্বংস করে দিল। এমন কি মানুষ তখন চামড়া, মৃতদেহ এবং পচা ও গলিত জানোয়ারও খেতে লাগল। ক্ষুধার তাড়নায় অবস্থা এতদূর চরম আকার ধারণ করল যে, কেউ যখন আকাশের দিকে তাকাত তখন সে ধোঁয়া দেখতে পেত। এমতাবস্থায় আবূ সুফ্ইয়ান (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! তুমি তো আল্লাহর আদেশ মেনে চল এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার আদেশ দান কর। কিন্তু তোমার কওমের লোকেরা তো মরে যাচ্ছে। তুমি তাদের জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আ কর। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেনঃ ‘‘তুমি সে দিনটির অপেক্ষায় থাক যখন আকাশ সুস্পষ্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যাবে...সেদিন আমি প্রবলভাবে তোমাদের পাকড়াও করব’’- (সূরাহ্ দুখান ৪৪/১০-১৬)। ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) বলেন, সে কঠিন আঘাতের দিন ছিল বদরের যুদ্ধের দিন। ধোঁয়াও দেখা গেছে, আঘাতও এসেছে। আর মক্কার মুশ্রিকদের নিহত ও গ্রেফতার হওয়ার যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, তাও সত্য হয়েছে। সত্য হয়েছে সূরাহ্ রূম-এর এ আয়াতও (রুমবাসী দশ বছরের মধ্যে পারসিকদের উপর আবার বিজয়ী হবে)।
|
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা |
উপ-অধ্যায়: অনাবৃষ্টির সময় ইমামের নিকট বৃষ্টির জন্য লোকদের দু‘আর আবেদন। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু দ্বীনার (রহ.)
হাদিস নং (১০০৮):
আবদুল্লাহ্ ইবনু দ্বীনার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে আবূ তালিব-এর এই কবিতা পাঠ করতে শুনেছিঃ তিনি শুভ্র, তাঁর চেহারার অসীলাহ দিয়ে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হতো। তিনি ইয়াতীমদের খাবার পরিবেশনকারী আর বিধবাদের তত্ত্বাবধায়ক।
|
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা |
উপ-অধ্যায়: অনাবৃষ্টির সময় ইমামের নিকট বৃষ্টির জন্য লোকদের দু‘আর আবেদন। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.)
হাদিস নং (১০০৯):
সালিমের পিতা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বৃষ্টির জন্য দু‘আরত অবস্থায় আমি তাঁর পবিত্র চেহারার দিকে তাকালাম এবং কবির এ কবিতাটি আমার মনে পড়লো। আর তাঁর (মিম্বার হতে) নামতে না নামতেই প্রবলবেগে মীযাব* হতে পানি প্রবাহিত হতে দেখলাম।
তিনি শুভ্র, তাঁর চেহারার অসীলাহ দিয়ে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হতো।
তিনি ইয়াতীমদের খাবার পরিবেশনকারী আর বিধবাদের তত্ত্বাবধায়ক।
|
অধ্যায়: পানি প্রার্থনা |
উপ-অধ্যায়: অনাবৃষ্টির সময় ইমামের নিকট বৃষ্টির জন্য লোকদের দু‘আর আবেদন। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (১০১০):
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাযি.) অনাবৃষ্টির সময় ‘আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাযি.)-এর ওয়াসীলাহ দিয়ে বৃষ্টির জন্য দু‘আ করতেন এবং বলতেন, হে আল্লাহ্! (আগে) আমরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ওয়াসীলাহ দিয়ে দু‘আ করতাম এবং আপনি বৃষ্টি দান করতেন। এখন আমরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চাচার ওয়াসীলাহ দিয়ে দু‘আ করছি, আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন। বর্ণনাকারী বলেন, দু‘আর সাথে সাথেই বৃষ্টি বর্ষিত হত।
|